Breaking News

মাথায় হিজাব ছাড়া ইন্টারনেটে ছবি পোস্ট করলে ১০ বছরের জেল ।

নারীদের পোশাকের ব্যাপারে কঠোর রক্ষণশীল দেশ ইরান। আজ থেকে ঠিক ৪০ বছর আগে ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লব দেশটিতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছিল সেদেশের মেয়েদের জীবন ও পোশাকের ক্ষেত্রে। দেশটির আইন ও সামাজিক বিধি-নিষেধের বেড়াজালে নতুন করে বন্দি ইরানি নারীরা। এবার নারীদের উপর নতুন এক আইন জারি করা হয়েছে। মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব ছাড়া স্যোসাল মিডিয়ায় ছবি বা ভিডিও পোস্ট করলে তাকে ১ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত জেল খাটতে হবে। খবর বিবিসি ও ইনডিপেন্ডেন্ট। মার্কিন এক্টিভিস্ট ‘মাসিহ আলিনেজাদ’ এর ওয়েব সাইটে হিজাব ছাড়া ছবি পোস্ট করলেও তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ২০১৪ সালে চালু হওয়া ‘হোয়াইট ওয়েনসডে’ নামে ওই সাইটে ‘ইরানে হিজাব আইন বাধ্যতামূলক’ এর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। এটিকে সমর্থন জানিয়ে অনেক ইরানি নারী তাদের হিজাব ছাড়া ছবি সেখানে শেয়ার করে।

তেহরানের বিপ্লবি আদালত প্রধানের উদ্বৃতি দিয়ে একটি নিউজ এজেন্সি জানায়, যারা আইন অমান্য করে ওই সাইটে ছবি বা ভিডিও শেয়ার করবে তাদের ১ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করতে হবে। ইরানে সকল নারীকে মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব পরা বাধ্যতামূলক। কেউ এই আইন অমান্য করলে তাকে দুই মাসের কারাভোগ বা ২০ ডলার জরিমানার আইন রয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৭৯ সালে ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হওয়ার পর নারীদের প্রকাশ্যে চলাফেরার ক্ষেত্রে হিজাব বা স্কার্ফ পোশাক পরিধান করা বাধ্যতামূলক করা হয়। এ নিয়ম ভাঙার কারণে বহু নারীকে জেল-জরিমানারও শিকার হতে হয়েছে। এর বিরুদ্ধে স্যোসাল মিডিয়ায় ২০১২ সালে প্রথম থেকে প্রতিবাদ দানা বাঁধতে থাকে। গত বছর এক নারীকে হিজাব আইন ভঙ্গ করায় ২ বছরের জেল খাটতে হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে গত ১৫ মার্চ অস্ট্রেলিয়ান উগ্র শ্বেতাঙ্গবাদী ব্রেন্টন ট্যারান্ট দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫১ জনকে হত্যা করেন। হামলার শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিলো ‘ডিম বালক’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ১৭ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ার উইল কনোলি। ক্রাইস্টচার্চের ওই ভয়াবহ হামলার পর অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং বলেন, মুসলিম অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এই হামলা হয়েছে। তার এমন ‘উত্তেজনাকর ও বিভেদ সৃষ্টিকারী’ বক্তব্যের জন্য উইল কনোলি অস্ট্রেলিয়ার ওই সাংসদকে প্রকাশ্যে ডিম ছুড়ে ‘ডিম বালক’ হিসেবে পরিচিত পান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কনোলি গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে যে, তাকে আদালতে হাজির হতে হচ্ছে না বলে কোর্ট ফি হিসেবে যে অর্থ মানুষজন তাকে দিয়েছিলো সেই ৯৯ হাজার ৯২২ অস্ট্রেলিয়ান ডলার তিনি মসজিদে হামলার শিকার ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারকে দিয়ে দিতে চান। হামলার পর সংবাদ সম্মেলনে সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং যখন তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন তখন কনোলি তার মাথায় ডিম ফাটিয়ে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করে।

একজন কিশোরের এমন অভিনব প্রতিবাদে অনেকেই মুগ্ধ হন। গোটা বিশ্বে সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার জোয়ারে ভাসেন তিনি। কিন্তু বিপত্তি বাধে অন্য জায়গায়। পুলিশ যখন জানায় যে, দেশের একজন সিনেটরের সঙ্গে এমন অশোভন আচরণের জন্যে কনোলিকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে তখন তার প্রতি আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন গোটা বিশ্বের অনেক মানুষ। তবে অবশেষে জানা গেল বিচারের মুখোমুখি হতে হবে না কিশোরকে। তার যে বিচার হচ্ছে না এই খবর নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজেই জানান ওই কিশোর। উত্তোলিত অর্থ হামলার শিকার ব্যক্তিদেরকে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে কলোনি লিখেছেন, ‘এই অর্থ আমার নয়। আমি উত্তোলিত এই অর্থ মসজিদে হামলায় হতাহতদেরকে দিয়ে দিতে চাই। আমি আন্তরিকভাবে আশা করছি, এই অর্থ তাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। ভালোবাসা ছড়াতে থাকুন।’ ইহুদিবাদী ইসরাইলে শুরু হওয়া দাবানল এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। দাবানল অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। দাবানলের আগুন নেভাতে কাজ করছে ৪৮০টি অগ্নিনির্বাপক বিমান, প্রায় ২,৫০০ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী। রোববার এসব বিমানের সাহায্যে আড়াই লাখ টন পানি মাটিতে ফেলা হয়।

অনেকের দাবি ইসলাম ধর্মের পবিত্র আযানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্যোগ নেয়ার পর থেকে ইসরাইলে এ ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আন্তজার্তিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রচণ্ড খরা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে চলতি সপ্তাহে অধিকৃত ইসরাইলি ভূখণ্ডে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। দাবানলে সেখানকার আবাসিক এলাকা এবং বনাঞ্চল ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সব ক্ষতিগ্রস্তদের সব রকমের সহায়তায় আশ্বাস দিয়েছেন। বন রক্ষা করার প্রচেষ্টায় অতিরিক্ত কর্মী যোগদান করেছে বলে কর্মকর্তারা জানান। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হাইফা শহরের লোকজন ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করছে। এদিকে, ইহুদীবাদী ওই দেশটির ব্যাপক দাবানল নিয়ন্ত্রণে মিসর ও চার ইউরোপীয় দেশ বিমান পাঠিয়েছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, ভয়াবহ দাবানলে কয়েকটি ছোট শহর থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে হয়েছে। দাবদাহের কারণে দেশটির তাপমাত্রা আরও খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেছেন, দাবানল নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে ইসরাইল। গ্রিস, ক্রোয়েশিয়া, ইতালি ও সাইপ্রাস থেকে অগ্নিনির্বাপণ বিমান আসছে। প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল সিসির নির্দেশে দুটি যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে মিসর। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও রাশিয়া সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

গুজবে কান দেবেন নাঃ যে তথ্য দিলেন প্রিয়াঙ্কা । ভারতের লোকসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে ১৯ মে। ইতোমধ্যে ভোটের ফল নিয়ে গণমাধ্যমের করা এক্সিট পোল প্রকাশিত। তাতে ফের মোদীর গেরুয়া ঝড়ের ইঙ্গিত। খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না কংগ্রেস, জানান দিচ্ছে সমীক্ষা। ‘তবে এই বানোয়াট এক্সিট পোল দেখে হতাশ হবেন না’ এমনই বার্তা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর। মঙ্গলবার দলীয় কর্মী সমর্থকদের উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, বুথ ফেরত সমীক্ষা দেখে হতাশ হবেন না, ভেঙে পড়বেন না। এগুলো গুজব, এসবে কান দেবেন না। এই ধরণের সমীক্ষাগুলিকে গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই। আসল ফলাফল ভোটাররাই দেবেন। এক্সিট পোলের বেশিরভাগই ভুয়া হয় বলে মত প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর। প্রিয়াঙ্কার দাবি কংগ্রেসের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্যই বিজেপি চক্রান্ত করে এই ধরণের বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলি করিয়েছে। তাই তাঁর বার্তা কোনওভাবেই যেন প্ররোচনায় পা না দেওয়া হয়। কংগ্রেস কর্মীদের শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

স্ট্রং রুমের আশেপাশে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসলে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি আরও বলেন ইভিএম এখন স্ট্রং রুম বন্দী। ফলে নানা চক্রান্ত করার ঘটনা ঘটতে পারে। সাবধান থাকুন, সতর্ক থাকুন। ২৩ তারিখ পর্যন্ত এই সতর্কতা জারি রাখুন। একই কথা বলেন এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারও। তাঁর মতে এই সব এক্সিট পোলকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু হয়নি। সাধারণ মানুষ এই বুথ ফেরত সমীক্ষা নিয়ে বেশ হতাশ। আসল চেহারা দেখা যাবে ২৩ তারিখ। তার আগে, এত কথা না বলাই ভালো। ২৩ তারিখই সব সত্যি সামনে আসবে বলে আশা তাঁর। ভারতের গণমাধ্যম টাইমস নাও বলছে, ৩০৬ টি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসছে সেই বিজেপি। সমীক্ষা বলছে মার্জিন কমেছে, তবু মোদী-শাহ ম্যাজিক কাজ করে গিয়েছে এবারও। ২০১৪ সালে কাজ করেছিল প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া। আর এবার প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই রায় দিয়েছে দেশ। প্রো ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর কাজ করে গিয়েছে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে, এমনই জানাচ্ছে টাইমস নাও। সমীক্ষায় চমকে দিয়েছে বাংলা। বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে ১১টি পেতে চলেছে বিজেপি। ৯টি আসন বাড়িয়ে মুকুল রায়কে স্বস্তি দিয়ে বাংলায় ফুটতে চলেছে পদ্মফুল। অন্যদিকে ২৯টি আসন পাবে তৃণমূল, বলছে সমীক্ষা। শতাংশের হিসেবে বিজেপির দখলে ৩১.৮৬ শতাংশ। কংগ্রেসের ৮.৮ শতাংশ। তৃণমূলের দখলে ৩৯.১ শতাংশ ও বামেদের ভাগ্যে জুটবে ১৫.৯ শতাংশ ভোট। নজরে ছিল উত্তরপ্রদেশ। বলা হয় এই রাজ্যের সবচেয়ে বেশি আসন যার, কেন্দ্রে ক্ষমতা তার। ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপির ভাগ্যে আসতে চলেছে ৫৬টি আসন। সেখানে মহাগঠবন্ধন বা এসপি বিএসপি জোট পাচ্ছে ২০টি আসন।