Breaking News

প্রতিদিন খালি পেটে লিচু খেয়ে নিজেই ডেকে আনছেন না তো নিরব মৃত্যু?

যিনি কোনো রকম ফলই পছন্দ করেন না, তার কাছেও প্রিয় ফলটির নাম লিচু। রসালো ও সুস্বাদু এই ফলটি দেখতে যতোটা সুন্দর, উপকারীও বটে। বাজারে উঠতে শুরু করেছে লিচু। অনেকে ইফতারে লিচু খেয়ে থাকেন। কিন্তু উপকারী এই ফলটি খালি পেটে খাওয়া কি ঠিক? জেনে নিন- লিচুতে ‘হাইপোগ্লাইসিন’ নামে একটি উপাদান আছে যা মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে! যদি খালি পেটে লিচু খাওয়া হয়। ‘হাইপোগ্লাইসিন’ নামের এই উপাদানটি শরীরে শর্করার পরিমাণ অত্যন্ত কমিয়ে দেয়। আর তার ফলেই হয় এই সমস্যা। এবং শরীরে প্রয়জনের থেকে বেশি শর্করা কমে গেলে তা মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে ওঠে শরীরের জন্য। যেটা মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে। খালি পেটে শরীরে এমনিতেই শর্করার পরিমাণ কম থাকে। তাই সেই সময় যদি লিচু খাওয়া হয়, তাহলে লিচুতে থাকা ‘হাইপোগ্লাইসিন’ এই উপাদানটি শরীরে শর্করার পরিমাণ একেবারে শূণ্য করে দেয়। তার ফলেই শরীরে বিষক্রিয়া হয়। পাকা লিচুতে অতটা পরিমাণ না থাকলেও, কাঁচা লিচুতেও ‘হাইপোগ্লাইসিন’ মারাত্মক ভাবে থাকে। তাই কাঁচা লিচু খাওয়া একদমই উচিত না। এছাড়াও গবেষণা বলছে খুব বেশি লিচু খেলে জ্বরও হতে পারে। খালি পেটে লিচু ক্ষতিকারক হলেও, ভর পেটে লিচু খেলে কোনো সমস্যাই হয় না। আর কাঁচা লিচু খাওয়া চলবে না। তাই ভর পেটে পাকা লিচু খেতেই পারেন। এতে কোন সমস্যা হয় না।

তবে লিচু রোজ খুব বেশি না খাওয়াই ভালো। পরিমিত খেলে কিছু হয় না। লিচুকে ‘সব ফলের রাণী’ বলা হয়। গ্রীষ্মের ফল হিসেবে রসালো লিচু প্রায় সবারই খুব পছন্দ। আমের মতোই মৌসুমী এই ফলটির জন্য অপেক্ষায় থাকে সবাই। ‘সব ফলের রাণী’ বলা হয় লিচুকে। গ্রীষ্মের ফল হিসেবে রসালো লিচু প্রায় সবারই খুব পছন্দ। আমের মতোই মৌসুমী এই ফলটির জন্য অপেক্ষায় থাকে সবাই। এর মধ্যে বাজারে লিচু এসেছে অনেক। আমের প্রতি বেশিরভাগ মানুষের একটু বেশি পক্ষপাত থাকলেও সুমিষ্ট লিচুর স্বাদ আমরা কিন্তু সহজে ভুলতে পারি না। দারুণ সুস্বাদু এই ফলটির আছে অনেক চমকে দেয়া পুষ্টিগুণ। ক্যানসার রোধ করে: লিচুর বেশ কিছু গুণের মধ্যে অন্যতম একটি হলো- এটি ক্যানসার রোধ করে। গবেষণায় দেখা গেছে লিচুতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে, যা ব্রেস্ট ক্যানসার সহ বিভিন্ন ক্যানসার রোধ করে। হৃদপিন্ড ভালো রাখে: গবেষণায় দেখা গেছে, লিচুতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হৃদপিন্ডের জন্য উপকারি। লিচুতে থাকা ওলিগোনল নামের রাসায়নিক রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে হৃদপিন্ডে রক্ত সরবরাহ নির্বিঘ্ন করে। এতে হৃদপিন্ডের ওপর চাপ কমে কার্ডিওভাস্কুলার স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ওজন কমাতে সহায়তা করে: লিচুতে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা কোলেস্টেরল নেই, আঁশের পরিমাণ বেশি। এসব কারণে লিচু শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করে। হজম শক্তি বাড়ায়: প্রচুর পরিমাণ পানি ও আঁশ থাকার কারণে হজমে সহায়তা করে লিচু। হজম শক্তি বাড়িয়ে মল ত্যাগে সমস্যা দূর করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: লিচুতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় এতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে অনেক। তাই লিচু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। চোখের ছানি রোধ করে: এক গবেষণায় দেখে গেছে, লিচুতে থাকা সাইটোকেমিকেল চোখের ছানি পড়া রোধ করতে ভূমিকা রাখে। চুল জন্মাতে সহায়তা করে: লিচুতে প্রচুর কপার ও ভিটামিন সি আছে, যা চুলের গোড়ায় রক্ত সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়ে চুল জন্মাতে সহায়তা করে। হাড় মজবুত করে: নিয়মিত লিচু খেলে হাড় মজবুত হবে। কারণ এতে ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল থাকে। রক্তস্বল্পতা দূর করে: যেহেতু লিচুতে প্রচুর কপার থাকে, তাই অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দূর করতে লিচু ভালো ভূমিকা রাখে। যৌন চাহিদা বাড়িয়ে দেয়: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে লিচু যৌন চাহিদা বাড়ায়। এতে থাকা পটাশিয়াম, কপার, ভিটামিন সি এই যৌন চাহিদা বাড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে। লিচুর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া লিচুর যেমন অনেক গুণ আছে, তেমনি এই সুস্বাদু ফলটি কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে অনেক শারীরিক সমস্যার জন্ম দিতে পারে। * যেহেতু লিচুতে প্রচুর সুগার থাকে, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই ফল খুব কম খাওয়া উচিত। * লিচু অনেকের শরীরে অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। যাদের ক্ষেত্রে এমনটা হয়, তাদের লিচু না খাওয়াই উচিত। * লিচু শরীরের হরমোনের ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটনায়। তাই কম পরিমাণে লিচু খেতে হবে, নইলে ইন্টারনাল ব্লিডিং, জ্বর সহ বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। * প্রেগন্যান্ট নারীদের জন্য লিচু খাওয়া ঠিক না। একেবারে বাচ্চা জন্মের পর তাকে দুধ খাওয়ানোর আগ পর্যন্ত লিচু খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, নইলে পেটে থাকা শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।