কুমিল্লায় ডেনমার্ক নারীকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সাইফের বাবা ।

স্বামী ও সন্তানের অধিকার আদায়ে ডেনমার্ক থেকে বাংলাদেশে আসা ২৯ বছর বয়সী নাদিয়া যখন সন্তান কোলে নিয়ে গ্রামের বাড়ি হাজির হন তখন তাকে স্ত্রী হিসেবে বাবা-মা ও এলাকাবাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দেন ডেনমার্ক প্রবাসী কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার আশারকোটা গ্রামের মফিজ মেম্বারের ছেলে সাইফ।স্ত্রী সন্তান নিয়ে দুপুরের খাবারের পর একটি ভাড়া করা প্রাইভেটকার নিয়ে কুমিল্লা শহরের উদ্দেশ্যে এলাকা ছাড়েন তারা। এসব তথ্য জানান সাইফের বাবা মফিজুল ইসলাম মেম্বার।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রাতে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি জানান, তার পাঁচ ছেলের মধ্যে সাইফ সবার ছোট। সে প্রথমে সাইপ্রাস, পরে বুলগেরিয়া এবং সর্বশেষ ১০-১২ বছর আগে ডেনামার্ক যায়।অপর চার ছেলের মধ্যে দুজন বাহরাইন, একজন সৌদি এবং একজন দেশে। দুই মেয়ে বিবাহিত। তিনি বলেন, দুবার হজ করেছি। ৭৭ বছর বয়সে অনেকের বিচার করেছি। আজ নিজের ছেলের বিচার আমার ওপর।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো তথ্য গোপন করিনি, করবও না। আমার ছেলে যখন ডেনমার্ক ছিল তখন জানিয়েছিল সে বিয়ে করেছে। কিন্তু চার মাস আগে যখন দেশে আসে তখন বউ সঙ্গে আনেনি।এরই মধ্যে জানতে পারি সে (সাইফ) কুমিল্লা কোটবাড়ি বিয়ে করেছে। ওই বিয়ে সম্পর্কে আমরা বেশি কিছু জানি না। এসব বিয়ে করতে বাবা-মায়েরও দরকার হয় না।

’ডেনমার্কের বউ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,কোনো এক রোববার সকালের দিকে একটি ভাড়া করা গাড়িতে কোলে সন্তান নিয়ে বাড়ি আসে বউ পরিচয়ে এক মহিলা। এ সময় স্ত্রী ও সন্তান হিসেবে সাইফ ওই মহিলাকে পরিচয় করিয়ে দেয়। দুপুরে একসঙ্গে খাবারের পর ওরা শহরের উদ্দেশ্যে একটি ভাড়া প্রাইভেটকারে গ্রাম ছাড়ে। এরপরের ঘটনা তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। সাইফ এখন দেশে নাকি ডেনমার্ক তাও তিনি জানেন বলে জানান।

স্ত্রীর ৫০ হাজার ইউরো নিয়ে দেশে ফিরে আসা প্রসঙ্গে সাইফের বাবা জানান, অপর চার ছেলের টাকায় তার সংসার চলে। সাইফ মাঝে মধ্যে মায়ের চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা দিত। বউয়ের টাকা নিয়ে সাইফ দেশে আসার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।এর আগে গত সোমবার সকালে স্বামীর খোঁজে ডেনমার্ক থেকে বাংলাদেশে আসেন নাদিয়া।

গ্রামের বাড়ি গিয়ে তিনি অনেকটা তোপের মুখে পড়লে সাইফ তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বিকেলে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার মহাসড়কের পাশে হোটেল নূরজাহানের ৩০৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন। সোমবার রাতে হোটেল নূরজাহানে অবস্থানের পর সাইফের বন্ধুবান্ধব মহলে জানাজানি হলে সেখান থেকে স্ত্রীকে নিয়ে সাইফ যান নগরীর রেসকোর্স এলাকায় হোটেল রেডরফ ইনে। পরে মঙ্গলবার সকালে বউকে হোটেলে রেখে পালিয়ে যান সাইফ।

সাইফ ইন্টারনেটে নাদিয়াকে কল দিয়ে জানান, সে ডেনমার্ক চলে গেছে।এদিকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিম উল আহসান ও নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের ওসি মামুনুর রশীদ হোটেল রেডরফ ইনে গিয়ে নাদিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে পুলিশের একটি বিশেষ টিম তাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়। নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের ওসি মামুনুর রশীদ জানান,

এ ঘটনায় নাদিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। মঙ্গলবার রাত ৩টার ফ্লাইটে তিনি ডেনমার্ক চলে গেছেন।তিনি আরও জানান, সাইফ দেশে আসার পর নাদিয়ার সঙ্গে মোবাইল, ফেসবুক, ইমোসহ সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ায় সে স্বামীর খোঁজে দেশে আসে বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।