এসপি দিলেন দরিদ্র মেধাবী ২ ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা

নিশিতা দাশ হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের মিঠাপুর গ্রামের টিনের দোকানের কর্মচারী সুশান্ত দাশের মেয়ে । চান্স পেয়েও অর্থের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছিলেন না নিশিতা। সব প্রতিকূলতাকে জয় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৪০০তম স্থান অর্জন করে সুযোগ পায় উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ। কিন্তু নিশিতার ভর্তির জন্য এককালীন এত টাকা দেয়া দিনমজুর বাবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।

খবর পেয়ে নিশিতার পাশে দাঁড়ান হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ উল্ল্যা। একইভাবে চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ গ্রামের ফেরিওয়ালা আব্দুস শহীদের মেয়ে কুলসুমা আক্তার সুযোগ পান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিবিএ ইউনিটে ৮৪তম স্থান অর্জন করেন তিনি। ভর্তির টাকার জন্য হতাশ হয়ে পড়েন কুলসুমা। তার জন্যও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে অফিসে ডেকে নিশিতা দাশ ও কুলসুমাকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা। একই সঙ্গে তাদেরকে মিষ্টি মুখ করান তিনি। এই টাকা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান দুই ছাত্রী। ভবিষ্যতে তাদেরকে সহায়তা ও পাশে থাকার ঘোষণা দেন পুলিশ সুপার। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, আমি সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজে এগিয়ে আসার চেষ্টা করি।

তবে সবাই যদি এমন অধম্য মেধাবীদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে তারা একদিন প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। দুই দরিদ্র মেধাবী ছাত্রীর পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। তিনি বলেন, হবিগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যখন কোনো নিয়োগ পরীক্ষা হয় তখন চা শ্রমিকের সন্তান, দরিদ্র ও অনগ্রসর পরিবারের সন্তানদেরকে চাকরিতে অগ্রাধিকার দেই।

চিকিৎসায় প্রয়োজন দুই কোটি টাকা, ভেঙে পড়েছেন এন্ড্রু কিশোর ক্যানসারে আ”ক্রা”ন্ত হয়ে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। এরইমধ্যে ৩ সাইকেলে ১২টি কে’মো’থে’রা’পি দেওয়া হয়েছে। আরো ১২টি কে’মো’থে’রা’পি দেওয়া হবে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

জানা যায়, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘ মেয়াদি এই চিকিৎসার তেমন কোনো পূর্ব প্রস্তুতি না নিয়ে গেলেও ডাক্তারদের পরামর্শে দ্রুত এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসা শুরু হয়। বর্তমানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ডা. লিম সুনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে কে’মো’থে’রা’পি’র পরবর্তী সাইকেল শুরু হবে। আরো ৩ সাইকেলে ১২টি কে’মো’থে’রা’পি দেওয়া হবে। তার এ চিকিৎসা আরো প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস চলবে বলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এন্ড্রু কিশোরকে যে কে’মো’থে’রা’পি দেওয়া হচ্ছে তার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা। এরইমধ্যে গুণী এই শিল্পীর চিকিৎসায় তার পরিবার কোটি টাকারও বেশি খরচ করে ফেলেছেন। প্রয়োজন আরও অনেক টাকা। এ প্রসঙ্গে সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘আজ সকালে এন্ড্রু কিশোর দা’র সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ভেঙে পড়েছেন তিনি। জানলাম তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় দুই কোটি টাকা। খ্যাতিমান এই শিল্পীর এই কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। এরই মধ্যে প্রবাসীরা তাকে সহযোগিতার জন্য ফান্ড করেছে। আশা করবো দেশের মানুষও তার পাশে দাঁড়াবেন। তাকে আমরা হারাতে চাই না।’