মধ্যপ্রাচ্যে ৭২৯ তরুণীকে পাচার করেছে কুমিল্লার হান্নান ।

রায়ণগঞ্জ ও ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় অ’ভিযান চালিয়ে কুমিল্লার এক জনসহ আন্তর্জাতিক নারী পা’চারকারী চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রে’ফতার করেছে র‌্যাব-১১ সদস্যরা। এ সময় ৪ জন তরুণীকে পা’চারের সময় উ’দ্ধার করেছে র‌্যাব সদস্যরা।শনিবার দিবাগত রাতে রূপগঞ্জের তারাব মোড়ের শাহ চন্দপুরী রেষ্টুরেন্ট ও ঢাকার খিলগাঁয়ের গোড়ান এলাকায় অ’ভিযান চালিয়ে তাদের গ্রে’ফতার করা হয়!

আন্তর্জার্তিক নারী পা’চারকারী চক্রের সদস্যরা গত এক বছরে ৭২৯ জনকে পা’চার করেছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। এ সময় গ্রে’ফতারকৃতদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৭০টি পাসপোর্ট, ২০০টি পাসপোর্টের ফটোকপি, ৫০টি বিমানের টিকেট, ৫০টি ভিসার ফটোকপি, নগদ ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, ১টি সিপিইউ, ১টি মনিটর ও ১টি বিলাসবহুল মাইক্রোবাস।

এ বিষয়ে র‌্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত সিও) স্কোয়াড্রন লীডার মোঃ রেজাউল হক নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র‌্যাব-১১’র প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- র‌্যাব-১১’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলেপ উদ্দিন ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মশিউর রহমান।

গ্রে’ফতাকৃরা হলেন- কুমিল্লার চান্দিনার আঃ হান্নান (৫২), ময়মনসিংহের ধুপাউড়ার মোঃ অনিক হোসেন (৩১), নোয়াখালীর চাটখিলের মোঃ মনির হোসেন ওরফে সোহাগ (৩০), নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মোঃ আক্তার হোসেন (৪০), চাঁদপুরের কচুয়ার মোঃ আফতাউল ইসলাম ওরফে পারভেজ (৩৭) ও মাদারীপুরের সদর থানার মোঃ আকাশ (২৯)। এদের মধ্যে ৫ জনকে রূপগঞ্জ ও আকাশকে ঢাকার খিলগাঁয়ের গোড়ান থেকে গ্রে’ফতার করা হয়।

র‌্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লীডার মোঃ রেজাউল হক জানান, গ্রে’ফাতারকৃতদের জি’জ্ঞাবাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রে’ফতারকৃত আসামিরা একটি সংবদ্ধ আন্তর্জাতিক নারী পা’চারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্যর।তারা ১৫ থেকে ২৫ বয়সী সুন্দরী তরুণীদের উচ্চ বেতনে বিদেশে চাকুরীর প্র’লোভন দেখিয়ে পা’চার করে থাকে। এই পা’চারকারী সি’ন্ডিকেডের সাথে বিপুল সংখ্যক এজেন্ট, পাসপোর্ট দালাল, ডান্স বারের মালিক, ট্রাভেল এজেন্সী ও অ’সাধু ব্যক্তিরা যুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই নারী পাচারকারী সিন্ডিকেটের এজেন্টরা নিম্নবিক্ত পরিবারের, পোশাক শিল্পের ও ব্রোকেন ফ্যামিলির সুন্দরী তরণীদের প্রাথমিকভাবে টার্গেট করে থাকে।টার্গেট করার পর প্রথমে তরুণীদের ছবি বিদেশে অবস্থিত ড্যান্স বারের মালিকদের পাঠানো হয়। ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ড্যান্স বারের মালিক অথবা তার প্রেরিত প্রতিনিধি সরাসরি উক্ত তরুণীদের নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ঢাকা অথবা আশেপাশের কোন রেষ্টুরেন্টে, হোটেল অথবা লং ড্রাইভের নামে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল মাইক্রোবাসের সাক্ষাৎ করে থাকে।

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত তরুণীদের পাসপোর্ট উক্ত নারী পা’চারকারী সি’ন্ডিকেট তাদের নিজস্ব পাসপোর্ট দালালের মাধ্যমে প্রস্তুত করে থাকে। ট্রাভেল এজেন্সীর মালিকদের মাধ্যমে নথিপত্র ম্যানেজ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে এই তরুণীকে মধ্যপাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পা’চার করে থাকে।তিনি আরও জানান, গ্রে’ফতারকৃত আসামিদের জি’জ্ঞাবাসাদে জানা যায়, এই সকল তরুণীরা বিদেশে পা রাখার পরপরই বিমানবন্দর থেকে উক্ত সি’ন্ডিকেটের সদস্যরা রিসিভ করে হোটেলে নিয়ে গৃহবন্দি করে রাখে।

বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে এই সকল তরুনীকে কোন অবস্থাতেই নিজের ইচ্ছায় হোটেল তথা ড্যান্স বারের বাইরে যেতে দেয়া হয় না। প্রাথমিক অবস্থায় তরুণীরা অ’সামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে রাজি না হলে বিভিন্ন নে’শাজাতীয় দ্রব্য জো’রপূর্বক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।এভাবে দিনের পর পর উক্ত তরুণীদের উপর পৈশাচিক নি’র্যাতন চলতে থাকে।

কোন খদ্দের কোন নির্দিষ্ট তরুণীকে পছন্দ হলে উক্ত ড্যান্স বারের মালিকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কয়েক দিনের জন্য ভাড়া নিয়ে থাকে। এই মানব পা’চার চক্রের উপর দীর্ঘদিন ধরে র‌্যাব-১১ নজরদারী চালিয়ে আসছিল। পরে শনিবার দিবাগত রাতে অ’ভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রে’ফতার করা হয়। গ্রে’ফতারকৃতদের বি’রুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থা’নায় আ’ইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।