সদ্যোজাত মেয়েকে বিক্রি করে মোবাইল, সোনার চেইন কিনলেন বাবা ।

হাসপাতালে জন্ম হয়েছিল যমজ সন্তানের। একটি ছেলে আর একটি মেয়ে। কিন্তু কন্যা সন্তানকে মেনে নিতে পারেননি বাবা। এ কারণে তাকে বিক্রি করে নিজের জন্য মোবাইল ফোন আর যমজ ছেলেটির জন্য স্বর্ণের চেইন কিনেন ওই বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলিতে। ৩৮ বছর বয়সী ওই বাবাকে কন্যা সন্তান বিক্রির অ’প’রাধে গ্রে’ফতার করেছে পু’লিশ।

জানা গেছে, জে’লার বিক্রমাসিং পুরমের অরুগমপট্টি গ্রামে বসবাসরত ইয়েসুইরুদ্ধ’রাজ ও পুষ্পলতা দম্পতির আগেই দুই মেয়ে ও এক ছেলে ছিল। ৮ নভেম্বর ওই দম্পতির যমজ সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু যমজের মধ্যে একজন মেয়ে হওয়ায় ইয়েসুইরুদ্ধ’রাজ অখুশী ছিলেন। তাই ছেলেকে রেখে তিনি নবজাতক মেয়েকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন।

বাড়ীতে ফিরে স্ত্রী’র অ’জ্ঞাতে শি’শুটিকে দালালের কাছে বিক্রি করে দেন। এতে তিনি নিজে পান ১ লাখ টাকা। আর তিন দালাল পায় ৮০ হাজার টাকা। ইয়েসুইরুদ্ধ’রাজ কন্যাকে বিক্রির টাকা দিয়ে নিজের জন্য নতুন মোবাইল ও ছেলের জন্য স্বর্ণের চেইন কেনেন। সেই সঙ্গে বন্ধক রাখা একটি বাইক এবং সাইকেলও ছাড়ান কন্যাকে বিক্রির ওই টাকা দিয়ে।

গত সপ্তাহে ওই দম্পতি হাসপাতালে চেকআপের জন্য গেলে চিকিৎসকরা মেয়ে শি’শুটিকে না দেখে এর কারণ জানতে চান। তখন শি’শুটির মা পুষ্পলতা চিকিৎসকদের জানান তার স্বামীর কুকী’র্তির কথা। এর পর সেখানেই স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। ইয়েসুইরুদ্ধ’রাজ দাবি করেন, স্ত্রী’কে জানিয়েই তিনি শি’শুকন্যাকে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে পুষ্পলতা জানান, তাকে না জানিয়েই মেয়েকে বিক্রি করেছেন ইয়েসুইরুদ্ধ’রাজ।

এদিকে শি’শু বিক্রির বিষয়টি সামনে আসতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পু’লিশে খবর দেয়। পু’লিশ এসে ইয়েসুইরুদ্ধ’রাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শি’শু বিক্রির সব তথ্য জানতে পারেন। পরে ইয়েসুইরুদ্ধ’রাজ এবং তিন দালালকে গ্রে’ফতার করে পু’লিশ। কন্যা শি’শুটিকে উ’দ্ধার করার পর ক্রেতাকেও গ্রে’ফতার করা হয়। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, শি’শুটির নিরাপত্তার জন্য আপাতত তাকে উ’দ্ধার করে একটি সংস্থার কাছে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পু’লিশ। সূত্র