১০৭ বছর বয়সে পায়ে হেঁটে হজ্জ পালন করলেন হাজি মহিউদ্দিন ।

দিনাজপুর রামসাগর জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করে রাস্তা দিয়ে পশ্চিম দিকে গিয়ে বামে ঘুরে কিছুদুর যেতেই চোখে পড়বে রামসাগরের পাষাণ বাঁধা ঘাট আর পশ্চিম দিকে দেখা যাবে একটি মসজিদ। সেখানেই চোখে পড়বে অতিকায় বৃদ্ধ একজন মানুষ। যিনি রামসাগরে আগত সকল পর্যটকদেরকে আহবান যানাচ্ছেন রামসাগর দীঘিপাড়া হাফেজিয়া ক্বারিয়ানা মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করার জন্য। এই মানুষটি বাংলাদেশ থেকে পাঁয় হেঁটে সৌদি আরব গিয়ে পবিত্র হজ পালন করেছেন।

১৯১৩ সালে জন্ম নেওয়া মানুষটির বয়স এখন ১০৭। হাজি মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন রামসাগর জাতীয় উদ্যানে অবস্থিত বায়তুল আকসা মসজিদের দীর্ঘদিন ইমাম ছিলেন। বয়সের ভারে ইমামের পদ থেকে অবসর নিলেও ছাড়েননি ইসলামের সেবা করা। তাই তিনি মসজিদের সামনের রাস্তার ধারে ১টি চেয়ার ও ১টি টেবিল নিয়ে বসে পড়েছেন। সারাদিন রামসাগরে আগত দর্শনার্থীদের কাছ থেকে মসজিদের উন্নয়নের জন্য সাহায্যও চান।

আবার অনেক দর্শনার্থী তার হেটে হজ করার কথা শুনে তার সাথে দেখাও করতে আসেন। তার মুখে শুনেন কিভাবে আর কোন দেশের উপর দিয়ে হেটে হজ করতে গেলেন। আর দর্শনার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি কোন দ্বিধাবোধ করেন না। সব সময় তাদেরকে সব কিছু খুলে বলেন। সারাদিন যদি ২০ জন দর্শনার্থী আসে হেটে হজ করার বিষয় প্রশ্ন করলেও তিনি ২০ জনকেই সব উত্তর বলে দেন। হন না কোনো রকম বিরক্ত।

সৌদি আরবে পৌঁছে হজ পালন শেষে আল্লাহর রাস্তার ধুলো পায়ে লাগিয়ে হেঁটে হেঁটেই ফিরে আসেন নিজ পরিবারের কাছে। এমন কষ্ট করে হজ পালন প্রসঙ্গে তার অনুভূতি হলো, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান থেকে ঘুড়ে এসে নিজেকে ধন্য মনে করেন। তিনি কোনো কষ্ট করেছেন বলে মনে করেন না।’ হাজী মো. মহিউদ্দিন বয়সের কারণে মসজিদের ইমামতি ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তার জীবনে সহযোগী বলে কেউ নেই। এই শেষ বয়সেও নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়।

জীবন নির্বাহের জন্য তিনি রামসাগর পাথরঘাটায় বিভিন্ন ধর্মীয় বই বিক্রি করেন। বই বিক্রির আয় দিয়েই চলছে তার জীবন। হাজী মোঃ মহিউদ্দিন বয়সের কারণে মসজিদের ইমামতি ছেড়ে দিয়েছেন। মেয়েদের সহযোগীতায় বেশ চলে যায় তার সংসার। সময় কাঁটে রামসাগর দীঘিপাড়া হাফেজিয়া ক্বারিয়ানা মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্য মানুষের কাছে সহায়তা চেয়ে।

হজ পালন করতে সে সময় কত টাকা খরচ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাসপোর্ট ও ভিসা করতে খরচ হয় ১ হজার ২০০ টাকা আর ১ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে রওয়ানা দেন। কিন্তু পথে ১২ জনের হাজির দল দেখে যেখানে কেতে গেছেন, কেউ টাকা নেননি। ফিরে আসার সময়ও একই অবস্থা হয়। এ কারণে কোন টাকা খরচ হয়নি। পুরো টাকাই তার ফেরত এসেছিল।

বয়সের কারণে মুড়িয়ে যাওয়া হাজি মোঃ মহিউদ্দিনের দৃষ্টি শক্তি ও শ্রবণ শক্তি কিছুটা কমে গেছে। লাঠি ছাড়া ঠিকমত হাঁটতে পারেন না। কিন্তু সে সময়ের কোন স্মৃতিই তিনি ভূলে যাননি। কেউ জিজ্ঞাসা করতেই মুখ থেকে ঝড়তে থাকে কথার ফুলঝুরি। সকলের কাছে বলতে চান সেই সব দিনের কথা। সর্বপরি তিনি সবাইকে একবার হলেও আল্লাহর ঘর তওয়া করার আহবান যানান।