হারের কষ্টে কয়েকদিন বাসা থেকে বের হননি পাপন

‘টেস্টের কথা কী বলবো! এই ম্যাচের আগেই তো আমার মন ভেঙে গেছে। টেস্ট তো পরে। এবারের এ সফরে অনেক আশা ছিলো অন্তত টি-টোয়েন্টি সিরিজটা জিতবো,’ শনিবার (১৬ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু বিপিএলের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বিসিবি সভাপতি আরো বলেন, ‘শেষ ম্যাচটা হারের পর আমি নিজেই আশাহত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি বাসা থেকেই বের হইনি কয়েকদিন। আপনারাও হয়তো খেয়াল করেছেন, আমি বাসা থেকেই বের হতে চাইনি। আমি এখনও এটা মেনেই নিতে পারছি না।’

উল্লেখ্য, একদম শেষ মুহূর্তে মুশফিকের দারুণ ফিনিশিং ইতিহাস গড়া এক জয় এনে দিল বাংলাদেশকে। সাকিব- তামিমবিহীন এক দলই ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম জয় এনে দিল বাংলাদেশকে। ৩ বল থাকতে ৭ উইকেটের জয় বাংলাদেশের। ক্রিকেট পাগল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্রিকেটকে উৎসাহ তার চেয়ে কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান দিতে পারেন না।

বাংলাদেশের প্রতিটা বড় জয়ে নিজ থেকে ফোন দিয়ে ক্রিকেটারদের উৎসাহ দেন। আজকেও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আজকের ম্যাচ দেখতে ভারতে রয়েছেন। তাকে ফোন দিয়ে সকল ক্রিকেটারদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আজকে অনেকগুলো প্রগ্রাম ছিল। সেগুলো শেষ করে ক্রিকেট দেখতে বসেছি।

এক নাগাড়ে তো খেলা দেখা সম্ভব হয় না। তারপরও ক্রিকেটের আপডেট নিচ্ছিলাম। বাংলাদেশ দারুণ বল করেছে। পরবর্তীতে মুশফিকের ব্যাটিং দেখলাম। নতুনরাও দায়িত্ব নিতে শিখেছে। বাংলাদেশ যেকোন মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এটাই বাংলাদেশ! রোববার (৩ নভেম্বর) দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সেরা দল না পেলেও ভারতকে ১৪৮ রানে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ১৪৯ রানের লক্ষ্য টাইগাররা স্পর্শ করে ৩ বল বাকি থাকতে।

এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে রইল টিম বাংলাদেশ। নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন না সাকিব আল হাসান, ছুটিতে তামিম ইকবাল। দেশের ক্রিকেটের অস্থিরতা স্পষ্ট। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে ৮ বারের দেখায় ভারতের কাছে প্রত্যেকবার হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের বিশ্বকাপের সুপার টেনে ও গত বছর নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে জয়ের খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হয় তারা। এবার মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ফিফটিতে প্রথমবার কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ভারত বধ করে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ, তাও আবার ভারতের মাটিতেই।