সা’রাদিন কাজ করে রা’স্তায়ই ঘু’মাই, বা’সায় থা’কার প’য়সা নাই ।

প্রতিরা’তে ঘু’মানোর আ’গে কু’য়ালালা’মপুর টাইম স্ক’য়ার হো’টেলের সা’মনে একটু হা’টাহা’টি ক’রতে বে’রুতাম । এক রা’তে সেখানে রা’স্তার পা’শে প’থচা’রী ব’সার বে’ঞ্চে একটি বাংলাদেশী ছেলে শু’য়ে থা’কতে দেখে সা’হস ক’রে কথা বলতে গে’লাম… ভাই কি বাংলাদেশী ? বি’র’ক্তি নিয়ে চোখ খুলে আ’মার দিকে চা’ইলো, তা’রপর মু’খ খু’ললো ৷ হুম ৷ এখানে শু’য়ে আ’ছেন যে ? সা’রাদিন কাজ করে রা’স্তায়ই ঘু’মাই, বা’সায় থা’কার প’য়সা নাই ।

আ’মাকে আর কথা ব’লার সু’যোগ না দিয়ে সে আ’বার চো’খ বু’জলো । গেং’টিং হাইল্যা’ন্ডে একটা ফা’স্টফুডে বসে খা’চ্ছিলাম, আ’মাকে বাং’লায় কথা বলতে দেখে উপজাতী চে’হারার একটা ছেলে আ’মার সা’মনে দা’ড়ালো । তার পো’ষাক দেখে মনে হলো সে এ ফা’স্টফুডে ওয়েটারের কাজ করে । কি’ছুটা দ্বি’ধা নিয়ে কথা শু’রু ক’রলো সে ৷ ভাই কি বাংলাদেশী ? হুম, আপনি ? আমিও বাংলাদেশী, আ’মার বা’ড়ী বা’ন্দরবন । আমি এই ফা’স্টফুডে কা’জ ক’রি, আজ প্রায় পাঁ’চ বছর ।

অ’নেক ক’থাবা’র্তাই হ’লো তা’র সা’থে । তা’রা চার ভাই এক বোন । ই’ন্টারমিডিয়েট পা’স ক’রার পর এ’কমা’ত্র ছোট বোনটি বা’য়না ধ’রলো ঢা’কায় এসে প্রা’ইভেট ভা’র্সিটিতে ভ’র্তি হবে । কিন্তু তার বা’বার সে সা’মর্থ্য নেই । নি’রুপায় হয়ে ছোট বোনটি বা’য়না ধ’রলো মালয়েশিয়ায় কাজ করা এ ভাইটির কা’ছে । আ’দরের এ’কমাত্র ছোট বোনটির আ’বদার ফেলতে পা’রেনি সে । অ’নেক কষ্ট করে বোনের প’ড়ার খ’রচ যো’গাচ্ছে সে । মালয়েশিয়ান মু্’দ্রার দাম প’ড়ে যা’ওয়ায় বি’পাকে সকল প্রবাসী বাংলাদেশী শ্র’মিক ।

আগে যেখানে সে বাংলাদেশী টাকায় তিরিশ হাজার টাকা মাসে পে’তো, এখন স’র্বসা’কুল্যে টেকে বা’ইশ হাজার টাকা । এ’তো অ’ল্প টাকায় টিকে থা’কা অ’নেক ক’ঠিন । গেং’টিংয়ের কোন এক পা’হাড়ে কোম্পানীর ডরমেট’রীতে থাকে সে । আর ছোট বোনের প’ড়ার খ’রচ যো’গাতে ডিনার এবং লা’ঞ্চ সে একবারেই সারে ৷ স’ন্ধ্যার দিকে স’স্তা কোন খা’বার দিয়ে । মালয়েশিয়ায় আ’মাদের বাংলাদেশী শ্র’মিক ভাইয়েরা নি’ম্ন মা’নের কাজ বে’শী ক’রছে ।

আমার এ’কাধিকবার মালয়েশিয়া ট্রিপে একটা বাংলাদেশী টে’ক্সি ড্রা’ইভারও চোখে পড়েনি । কু’য়ালালামপুর এ’য়ারপোর্টের প্রায় সব ক্লি’নার মনে হলো বাংলাদেশী । অ’থচ প্র’চুর ই’ন্ডিয়ান কাজ ক’রছে সেখানে আ’মাদের চেয়ে ভালো অ’বস্হানে । কেন আ’মরা পি’ছিয়ে ব্যা’পারটা বো’ধগ’ম্য নয় । দে’শে ফে’রার দিন ই’মিগ্রেশন পার হয়ে প্লে’নে উ’ঠার আগে ফাইনাল চেকিংয়ে আ’টকে গেছে এক শ্র’মিক ভাই ।

হা’তে করে প্লে’নে জনপ্র’তি স’র্বোচ্চ সাত কেজি ব’হন করা যাবে, তার হা’তে দুটো ব্যা’গ একটা সাত কেজি আর একটা দু’কেজি । সে আ’মার সা’মনে বেশ ক’জন বাংলাদেশীকে কা’তর হয়ে অ’নুরোধ ক’রছিলো এভাবে- ভাই, আ’পনার তো সাত কেজির কম ওয়ে দুই বা’চ্চার জন্য দুইটা স্কুল ব্যা’গ কি’নছি, দ’য়া ক’ইরা যদি একটু পার কইরা দিতেন! এই দুই কেজির জন্য বা’ড়তি টাকা দিতে হইব, বাড়তি টাকা আ’মার কাছে নাই ।

তার আ’বেদনে সা’ড়া দি’চ্ছিল না কেউ, সা’ড়া না দে’য়ারই কথা ৷ সে স্কুল ব্যাগে কি আছে কে জানে? ঝুঁ’কি নি’তে চা’চ্ছিল না কেউ । আ’মার চো’খের সা’মনে তার অ’সহায় মু’খ আর তার ডান হাতে শত ম’মতায় ভ’রা বা’চ্চার জন্য কেনা পিংক কা’লারের স্কুল ব্যাগ । সৌদিতে গৃ’হক’র্মী নি’র্যাতন, দ্রু’তই আ’সছে না কোন সুসংবাদ তার অ’নুরোধ এবার এসে প’ড়লো আ’মার ঘাড়ে, তার সে কা’তর আ’বেদন অ’গ্রাহ্য করতে পারিনি ৷ ঝুঁ’কি নিয়ে হা’তে করে পার করে দিলাম।

বি’দেশে যারা শ্র’মিক হি’সেবে কাজ করে, আ’মরা দেশে থেকে ভা’বি ক’তই না সু’খে তারা, কিন্তু বা’স্তবতা অ’নেক স’ময়ই তার উ’ল্টো । চো’খের অ’ন্তরালে প’থের বে’ঞ্চিতে রা’ত পা’র আর এক খা’বারে লা’ঞ্চ আর ডিনার, আ’মরা ক’জনে এ খোঁ’জ রাখি? বি’দেশে শ্র’মিক হি’সেবে কা’জ ক’রা ভাইয়ের পা’ঠানো ক’ষ্টের টা’কায় দে’শে প্রাইভেট ভা’র্সিটিতে প’ড়ুয়া ছোট বোনটি যখন পরিবেশের সাথে তাল মেলাতে ব’ন্ধুদের সাথে বসে ফ্রাইড চি’কেনে মুখ দেয়, সে হয়তো জানে না তার ভাইটি হয়তো বিদেশের মা’টিতে ফা’স্টফুডের দোকানে ও’য়েটার হয়ে দূ’র থেকে ক্ষু’ধা’তু’র চো’খে চেয়ে দেখে অ’ন্যের ফ্রাইড চি’কেনে লো’ভাতু’র কা’মড় । • রাব্বি খান