আজ সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছেন সেই সুমিসহ ৯১ নারী

অবশেষে দেশে ফিরছেন সৌদি আরবে নি’র্যাতনের শি’কার বাংলাদেশি গৃহকর্মী সুমি আক্তার (২৬)। আগামীকাল শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকালে দেশে ফিরবেন তিনি। একই সঙ্গে সৌদি থেকে নি’র্যাতিত আরও ৯১ নারী গৃহকর্মীও দেশে ফিরছেন।সকাল ৭.১৫ মিনিটে এয়ার অ্যারাবিয়া’র একটি বিমানে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন সুমি।ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান,

সম্প্রতি সৌদির শ্রম আদালত সে দেশ ছাড়ার ব্যাপারে সুমির পক্ষে রায় দেন। ফলে তাকে তার নিয়োগকর্তার (কফিল) দাবি করা টাকা দিতে হবে না।জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসের কাউন্সেলর (শ্রম) আমিনুল ইসলামও সুমির দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জানিয়েছেন, সুমি শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছাবেন। সৌদি আদালতের আদেশে দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

কিন্তু ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করা ২২ হাজার সৌদি রিয়েল তিনি এখনই পাচ্ছেন না। এটা একটা অনগোয়িং প্রসেস। তাকে আপাতত দেশে পাঠানো হচ্ছে। পরে আইনকানুন দেখে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই ফ্লাইটে আরও ১০০ নারী সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরত যাচ্ছেন বলে জানান গোলাম মসিহ। রাষ্ট্রদূত জানান, গত চার বছরে বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ নারী শ্রমিক সৌদি আরবে গেছেন। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার দেশে ফিরেছেন।

ফিরে যাওয়া নারীশ্রমিকদের হার অনেক কম। সবাই যে নি’র্যাতনের কারণে ফিরে গেছেন, তাও নয়। তবে কিছু কিছু নি’র্যাতনের ঘটনা ঘটছে। আগামীতে এরকম অভিযোগ পেলে দূতাবাস সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।সুমির দেশে ফেরা বিষয়ে তার স্বামী নুরুল ইসলামও বলেন, সুমি শুক্রবার সকালে বাংলাদেশে ফিরবে। গত দুই-তিন দিন ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে না। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩০ মে রিক্রুটিং এজেন্সি ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’র মাধ্যমে সৌদি আরব যান আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী সুমি।

সেখানে যাওয়ার পর নিয়োগকর্তা (কফিল) ও অন্যদের পা’শবিক নি’র্যাতনের মুখে পড়েন তিনি। নি’র্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিওবার্তায় কান্নায় ভেঙে পড়ে দেশে ফেরার আ’কুতি জানান সৌদি প্রবাসী সুমি। ওই ভিডিওতে সুমি বলেন, ওরা আমারে মা’ইরা ফা’লাইবো, আমারে দেশে ফিরাইয়া নিয়া যান। আমি আমার সন্তান ও পরিবারের কাছে ফিরতে চাই। আমাকে আমার পরিবারের কাছে নিয়া যান।

আর কিছু দিন থাকলে আমি মরে যাবো।সুমির পরিবার জানায়, ২০১৬ সালে সুমি আক্তারকে বিয়ে করেন নুরুল ইসলাম। সুমি পঞ্চগড় জেলার বোদা সদর থানার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, আগেও একটি বিয়ে করেছেন তার স্বামী। শেষমেশ বাধ্য হয়ে স’তীনের সঙ্গে সংসার শুরু করেন তিনি। বিয়ের দেড় বছর পর তার একটি সন্তানও হয়। কিন্তু স’তীনের বিভিন্ন নি’র্যাতন সহ্য করতে না পেরে ও সন্তানকে মানুষ করার স্বপ্নে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুমি।

এ উদ্দেশ্যেই চলতি বছরের জানুয়ারিতে গৃহকর্মীর প্রশিক্ষণ শেষ করেন সুমি। তাকে বিনামূল্যে সৌদি পাঠানোর লোভ দেখায় দালালেরা। শেষমেশ মে মাসে সৌদিতে পাড়ি জমান নিম্নবিত্ত ঘরের এ গৃহবধূ।কিন্তু বিদেশে পাঠানোর কথা বলে দা’লালচ’ক্র যে তাকে বিক্রি করে দিয়েছে সে কথা জানতেন না সুমি। সৌদি যাওয়ার সপ্তাহখানেক পর থেকেই তার ওপর শুরু হয় মা’রধর, যৌ’ন হয়রা’নিসহ বিভিন্ন নি’র্যাতন। পরে ফেসবুকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিভিন্ন পা’শবিক নি’র্যাতনের কথা বলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান সুমি। পরবর্তীতে ওই ভিডিওটি ভাইরাল হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে। পরে তাকে উ’দ্ধার করে সৌদি পুলিশ।