যে কারণে অধিকাংশ মহিলারা জা’হান্নামে যাবে

অধিকাংশ মহিলারাই হবে জা’হান্নামী এবং জা’হন্নামী হওয়ার ছয়টি কারনের বিবরনঃ নারী শা’স্তির ছয়টি দিক অবহিত হওয়ার পর নবী কন্যা ফাতিমা (রাঃ) এ শা’স্তির কারণ জানতে চেয়ে আরজ করলেন আব্বাজান! মহিলাদের এই ভ’য়াবহ শা’স্তি ভো’গের কারণ কি? উত্তরে ম’হানবী ﷺ এরশাদ করলেন; নারী শা’স্তির ১ম কারণঃযে মহিলা স্বীয় মাথার চুল দিয়ে ঝু’লন্ত অবস্থায় সাজা ভো’গ করতে দেখেছিলাম তার এই শা’স্তির কারণ হলো, সে চলার পথে পর পুরুষ থেকে নিজের চুলকে ঢেকে রাখতো না। ন’'গ্ন মাথায় পর পুরুষকে দেখানোর জন্য চুল ঝু’লিয়ে ঘুরে বেড়াতো।

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে মহিলাদেরকে মাথা ঘাড় ও বুক মোটা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ বর্তমান সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায় মহিলারা মাথার চুলকে কত বাহারী প্রসাধনীতে রূপসজ্জায় সাজিয়ে নানা ঢংয়ে রাস্তায় বে’পর্দা অবস্থায় চলাফেরা করছে। অথচ পর্দা সহকারে চলা, চুল ঢেকে রাখা সকল নারীর উপর ফরজ। তাই সকল নারীদের উচিৎ তারা যেন ক’ঠোরভাবে পর্দার হুকুম মেনে ঘরে- বাইরে চলাফেরা করে নিজেদেরকে এই ভ’য়াবহ আযাব' থেকে রক্ষা করে।

নারী শাস্তির ২য় কারণঃ যে সকল মহিলাদেরকে স্বীয় জিহ্বা দ্বারা ঝুল’ন্ত অবস্থায় জা’হান্নামের শা’স্তি ভো’গ করতে দেখা গেছে, তাদের ঐ শা’স্তির কারণ হলো তারা কথাবার্তায় স্বামীকে ক’ষ্ট দিত তাদের জবান থেকে শাশুড়ি আ'ত্মীয়-স্বজন এমনকি প্রতিবেশী পর্যন্ত নিরাপদ থাকতো না। অনেক মহিলা আছে যারা নামাযে কালামে খুবই পাকা কিন্তু মুখের বচন বি'ষের মত, এই শ্রেণীর নারীরা নামাযে পাকা পোক্ত হওয়া সত্ত্বেও কুরুচীপূর্ণ অ’’শ্লী'লভাষী হওয়ার কারণে জা’হান্নামে ক’ঠিন শা’স্তির উপযুক্ত হয়ে যাব'ে।

রাসূল ﷺ এরশাদ করেন; মুসলমান হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যার হাত মুখ এবং আচরণ থেকে অ’পর মুসলমান নিরাপদ থাকে। (মুসলিম) নারী শা’স্তির ৩য় কারণঃ অ’বৈধ সম্পর্ক হচ্ছে নারী শা’স্তির তৃতীয় কারণ। মহানবী ﷺ যে মহিলাকে স্তনে ঝুল’ন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন তার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন; ঐ নারী ছিল বি’বাহিতা, সে বি’বাহিতা হওয়া সত্ত্বেও তার সম্পর্ক ছিল পর পুরুষের সাথে।

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে ল’জ্জাস্থান হেফাজতকারী মহিলাকে জান্নাতী বলে ঘোষণা করেছেন। (সূরা মু’মিনূন: ৫) অন্য আয়াতে যি’নাকারী মহিলা এবং যে’নার পরিবেশ সৃষ্টিকারীনী মহিলা সম্পর্কে ক’ঠোর আযাব' ও শা’স্তির কথা ঘোষণা করেছেন। (সূরা নূর: ২) আজকের চলমান বিশ্বে নারী কে’লেংকারীর নামে অনেক কিছুই ঘটে চলছে স্বামীর অনুপস্থিতিতে দেবর ও অন্যের সাথে অ’সংকোচে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ল'জ্জাকে বি’সর্জন দিয়ে আস্তে আস্তে অ’বৈধ সম্পর্কের দিকে অগ্রসর হয়। এগু'লো ল'জ্জাহীনতার ফসল।

নারী শাস্তির ৪র্থ কারণঃ – নারী শাস্তির চতুর্থ কারণ হচ্ছে এবাদতে অ’নিহা। এ সম্পর্কে মহানবী ﷺ এরশাদ করেন; জা’হন্নামে স্বীয় পদযুগল বক্ষে এবং হস্তদয় কপালে স্থাপিত অবস্থায় সাজাপ্রা'প্তা মহিলারা দুনিয়ায় ফরজ গোসল এবং ঋতুবতী হওয়ার পরবর্তী পবিত্রতা অর্জনে উদাসীন ছিল। নামায যথারীতি পালন করা তো দূরের কথা বরং নামায বা অন্যান্য এবাদত নিয়ে উপহাস করতো। গোসল ফরজ হওয়ার সাথে সাথে তা করে নেওয়া উত্তম, অহেতুক অলসতা বসত দেরী করার দ্বারা কঠি’ন রো’গে আ’ক্রা'ন্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এটা হা’রাম।

তদরূপভাবে ঋতুবতী মহিলার ঋতুশ্রাব বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে গোসল করে নেওয়া উচিৎ। অথচ আজকাল মহিলাদের মধ্যে এটা নিয়ে খুবই উদাসীন ভাব লক্ষ্য করা যায়। অনেক আগেই শ্রাব বন্ধ হওয়া সত্ত্বেও গোসল না করে বসে থাকে। এরই মধ্যে নামাযের ওয়াক্ত চলে যায়। নামায নিয়ে বিদ্রপ করা এটা নারী শা’স্তির অন্যতম কারণ। আজকের সমাজে দেখা যায় নামায মোটেই গু'রুত্ব দিয়ে পড়ে না ।

নামাযের ওয়াক্ত চলে যায় তাদের কোন খবর থাকে না। কোন জায়গায় বেড়াতে গেলে তো কথাই নেই, প্রসাধনী ন’ষ্ট হওয়ার ভ’য়ে নামাজের কাছেই যায় না অথচ কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাযেরই হিসাব হবে। (তিরমিযী) রাসূলে কারীম ﷺ বলেন; নামায হচ্ছে মুসলিম ও অমুসলিম'দের মধ্যে পার্থক্যকারী (বুখারী)। তাই সাবধান হে নারীগণ! নামাযকে গু'রুত্ব সহকারে আ'দায় করুন।

নারী শাস্তির ৫ম কারণঃ পরনি’ন্দা ও মি’থ্যা হচ্ছে নারী শা’স্তির পঞ্চম কারণ। মুখাকৃতি শুকর এবং শরীরের বাকী অংশ গাধার ন্যায় রূপান্তরিত আর অসংখ্য সা'প বিচ্ছু বেষ্টিত অবস্থায় শা’স্তি ভো’গকারীনি মহিলার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে রাসূল (সঃ) বলেন; এ মহিলা পরনি’ন্দা ও মি’থ্যা বলতে অভ্যস্ত ছিল। পরনি’ন্দা ও মি’থ্যা বলা ম’হাপাপ। পবিত্র কুরআনে পরনি’ন্দাকে মৃ'’ত ভাইয়ের গোস্ত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে অতএব সকলকে মি’থ্যা, পরনি’ন্দা ও চোগলখুরী থেকে বাঁচা আবশ্যকীয়।

নারী শাস্তির ৬ষ্ঠ কারণঃ হিং’সা ও খোটা দেওয়া। রাসূল ﷺ জা’হান্নামের যে মহিলাকে মুখচ্ছবি কুকুর আকৃতির ও তার মুখে আ’গু'ন ঢুকে ম’লদ্বার দিয়ে বের 'হতে দেখেছেন সে ছিল হিং’সুক ও খোটা প্রদানকারীনি। হিং'সা একটি মা’রাত্মক ধরণের রো’গ যা মানুষের আমলকে ধ্বং’স করে দেয় হাদীস শরীফে এসেছে, রাসুল (সঃ) এরশাদ করেন; হিং’সা 'হতে দূরে থাক কেননা হিং’সা নে’কীকে ধ্বং’স করে, যেমন আ’গু'ন শুকনো কাঠকে পু’ড়িয়ে ছাই করে ফেলে (মুসলিম)।

উপকার করে খোটা দেয়া সম্পর্কে রাসূল ﷺ এরশাদ করেন; তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন অনুগ্রহ দৃষ্টি দিবেন না। এদের মধ্যে একজন হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে অ’পরকে অনুগ্রহ বা উপকার করে খোটা দেয় (বায়হাকী)। তাই হিং’সা করা ও খোটা দেয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। উপরোল্লেখিত শেষ পর্যায়ে চারটি অ’পরাধ যথা মি’থ্যাব'লা, পরনি’ন্দা করা, খোটা দেওয়া ও হিং'সা করা এ গু'লো নারী পুরুষ সবার মধ্যে পাওয়া যায় ।