মাহিমার জন্য আর ঘুমপাড়ানি গান গাইবে না মা

মায়ের সঙ্গে উদয়ন এক্সপ্রেসে ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিল আড়াই বছরের শিশু মাহিমা। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে ঘটে যাওয়া ট্রেন দু*র্ঘ*টনা মা-মেয়ের বাড়ি ফেরার আনন্দকে মাটি করে দিয়েছে। মর্মান্তিক এ দু*র্ঘ*টনায় মা কাকলী প্রা**ণ হারিয়েছে। আর আহত হয়ে মাথায় সেলাই পড়েছে মাহিমার। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাহিমাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হলেও স্বজনদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

মাথায় ব্যান্ডেজ পড়া শিশুটি তার চারদিকে মানুষজন দেখে হাউ-মাউ করে কেঁদে ওঠে। পরবর্তীতে জানা যায় মা কাকলীর সঙ্গে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলায় ফিরছিল মাহিমা। তার বাবা মাঈন উদ্দিন একটি হোটেলে কাজ করেন।তবে ছোট্ট শিশু মাহিমা এখনও জানে না তার মমতাময়ী মা আর বেঁচে নেই। ঘাতক ট্রেন কেড়ে নিয়েছে তার মায়ের প্রাণ। তাকে কোলে নিয়ে কপালে চুমু এঁকে আর হয়তো কেউ গাইবে না ঘুমপাড়ানি গান!

স্ত্রীর ম*র**দেহ নিতে এসে মাঈন উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, সিলেটের শাহজালাল (র.) মাজারে মানত ছিল তাদের। সেই মানত পূর্ণ করতে কাকলী মেয়ে মাহিমাসহ কয়েকজন স্বজনের সঙ্গে সিলেটে যান। সেখান থেকেই উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ফিরছিলেন তারা। ট্রেন দু*র্ঘ*টনায় কাকলী মারা গেছেন। এ ঘটনায় মাহিমা আহত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন জানান, মাহিমার কপালে সেলাই লেগেছে। তার কপালের বাম পাশ থেকে মাথার পেছন পর্যন্ত অংশ ব্যান্ডেজ করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১২) ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের সং,ঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃ,ত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আ,হত হয়েছেন দুই ট্রেনের শতাধিক যাত্রী। আহতদের ঢাকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।