পুরো বাড়ি পুড়ে গেলেও পুড়েনি কোরআন শরীফ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে আ গুনে এক ব্যক্তির বসতবাড়ির আসবাবপত্রসহ সব কিছু পুড়ে হয়ে গেলেও সম্পূ র্ণ অক্ষত রয়েছে পবিত্র কোরআন শরীফ। গত রবিবার (১০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার চালা ইউনিয়নের উত্তর চাঁনপুর গ্রামের আব্দুল মাজেদ মুন্সির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চ ল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পূর্ব শ ত্রুতার জেরে গত রবিবার দিবাগত রাতে হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের উত্তর চানপুর গ্রামের আব্দুল মাজেদ মুন্সির বসতবাড়িতে পে ট্রোল দিয়ে আ গুন ধরি য়ে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন।

এতে ঘরে থাকা চালডাল, বই খাতা ও আসবাবপত্রসহ সব জিনিসপত্র ভস্মী ভূত হয়। কিন্তু বই খাতার পাশে রাখা পবিত্র কোরআন শরীফ সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাড়ির মালিক আব্দুল মাজেদ মুন্সি র ছেলে নাসির উদ্দিন বলেন, আগুনে নগদ টাকা, বই খাতা ও আসবাপত্রসহ অন্তত ৬-৭ লাখ টাকার মা লা মাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বই খাতার পাশে একটি পবিত্র কোরআন শরীফ ছিল। অন্যান্য জিনিসপত্রের মতো গিলাফ ও রেহাল পুড়ে কয়লা হয়ে গেলেও আগুনের লেলিহান শিখা কোরআন শরীফের একটি অক্ষরও স্পর্শ করেনি।

অপরদিকে, গত শনিবার (৯ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় ভারতের শীর্ষ আদালত অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় মন্দির গড়ার জন্য রায় দিয়েছেন। আদালতের এমন বিতর্কিত রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যা’টাস দিতে শুরু করেছেন অনেকে। যে কারণে ৩৭ জনের বি’রুদ্ধে মা’মলা দায়েরসহ রা’জ্যের অ’ন্তত ৯০ মুসলিমকে ইতোমধ্যে গ্রে’ফ’তার করেছে পু’লিশ। রবিবার (১০ নভেম্বর) ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ জানিয়েছে, শনিবার রা’য় ঘো’ষ’ণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া নজরদারি করছে পু’লিশ।

রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে স্ট্যা’টাস দেওয়ায় মোট ১২টি এফ’আইআরে ৩৭ জ’নের বি’রুদ্ধে মা’মলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে উত্তরপ্রদেশ পুলি’শের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃ’তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা বাবরি মসজিদ মা’ম’লার রায় সম্পর্কিত ৩ হাজার ৭১২টি পো’স্টের বি’রু’দ্ধে পদ’ক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে বেশকিছু পোস্ট এরই মধ্যে মুছে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বন্ধও করে দেওয়া হয়েছে অনেক অ্যাকাউন্ট।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি খোলা হয়েছে প্রযু’ক্তি নি’র্ভর কন্ট্রোল রুমও। মূলত সেখানে বসেই অযোধ্যাসহ গোটা রাজ্যের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্মকর্তারা। এর আগে গত ১৬ অক্টোবর ভারতীয় সুপ্রিম কো’র্টের প্রধান বিচারপতি র’ঞ্জন গগৈয়ের নেতৃ’ত্বাধীন ৫ সদস্যের একটি যৌ’থ বেঞ্চ অ’যোধ্যা জমি বিতর্কের শুনানি সম্পন্ন করেন। তবে নিরা’পত্তা’র স্বার্থে সে সময় আর রায় ঘো’ষণা করা হয়নি।

যদিও তখন থেকেই গু’ঞ্জন উঠছিল আগামী ১৭ নভেম্বর অবসরে যেতে পারেন র’ঞ্জন গগৈ। যে কারণে এর আগেই যেকোনো দিন ঐতিহাসিক এই মা’মলা’টির রায় হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছিল। মূলত এসব বিষয় বিবেচনা করেই অতি স্পর্শকাতর মাম’লার রায় ঘোষণার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে প্রশাসন। এ দিকে গত শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাতে প্রধান বিচারপতি গগৈ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

এমনকি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব এবং পু’লিশ প্রধানের সঙ্গেও তার বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত সেই বৈঠকেই গগৈ অন্য বিচারকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি অযোধ্যা মাম’লায় রায় ঘো’ষণার সি’ন্ত নেন। অপর দিকে রায় ঘো’ষ’ণার পর রাজ্যটিসহ গোটা ভারতে যাতে কোনো ধরনের বিশৃ ঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সে জন্য এরই মধ্যে গোটা দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সব রাজ্যে বিশেষ সতর্কতাও জারি করতে বলা হয়েছে।