বাবরি মসজিদ মাম’লার রায়ের পর মুখ খুললেন মোদি

ভারতের ঐতিহাসিন বাবরি মসজিদ মাম’লার রায় ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।রায়ে অযোধ্যার বিতর্কিত ওই জায়গা রাম মন্দিরের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে, মুসলমানদের জন্য নতুন মসজিদ নির্মাণে বিকল্প জমি বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ সর্বসম্মতির ভিত্তিতে শনিবার এই রায় দেন।

এদিকে, এই রায়ে কোনও পক্ষেরই জয় বা পরাজয় হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রায় ঘোষণার পর তিনি এক টুইটবার্তায় বলেন, “অযোধ্য ইস্যুত রায় দিয়েছেন মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট। এই রায়ে কারও জয়- পরাজয় লক্ষ্য করা যায়নি। রাম ভক্তি হোক কিংবা রহিম ভক্তি, অত্যাবশ্যক বিষয় হল- আমরা রাষ্ট্রভক্তির চেতনায় আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠব।”“শান্তি ও সম্প্রতি বজায় থাকুক,”উল্লেখ করেন মোদি।

উল্লেখ্য, অযোধ্যার বাবরি মসজিদের মালিকানার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে বিতর্কিত জায়গাটি হিন্দুদের। খবর দ্যা হিন্দু। রায়ে মুসলমানদের জন্য ৫ একর বিকল্প জায়গা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভারতের স্থানীয় সময় আজ সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের ৫ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ এ রায় প্রদান করেন। প্রধান বিচারপতি ছাড়াও বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি এসএ বোবদে, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়া, অশোক ভূষণ এবং এস আবদুল নাজির।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেছেন, মসজিদটি ফাঁকা জায়গায় তৈরী হয়নি। এর নিচে কোন স্থাপনা ছিলো। তবে তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি অর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া।তবে সেটা মন্দির কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয়। তিনি আরও বলেন, ১৯৯২ সালে মসজিদটি ভাঙা আইনের লঙ্ঘন ছিলো।এর আগে গত ৬ই আগস্ট থেকে কোনও বিরতি ছাড়া টানা শুনানি চলেছে অযোধ্যা মামলার। তার পর ১৬ই অক্টোবর রায়দান সংরক্ষিত রেখেছিল শীর্ষ আদালত।

শুক্রবার আচমকাই সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আজ শনিবার রায়দানের কথা। তার আগে নিজের চেম্বারে ডেকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব এবং ডিজির সঙ্গে কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। রায় ঘিরে অশান্তি এড়াতে কড়া নিরাপত্তা জারি হয়েছে গোটা উত্তরপ্রদেশে। সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত স্কুল কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই নির্দেশ জারি হয়েছে কর্নাটক ও মধ্যপ্রদেশেও। অন্য দিকে সব রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন।