কেবল একটি মসজিদ না, অস্তিত্বের জন্যই লড়ছি: আইনজীবী জিলানি

ভারতের সুপ্রিম কোর্টর আইনজীবী ও সুন্নি কেন্দ্রীয় ওয়াকফ বোর্ডের প্রতিনিধি জাফরইয়াব জিলানি বলেছেন, কেবল একটি মসজিদ না, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করে যাচ্ছি আমরা। রায়ের আগে হাফিংটন পোস্ট ইন্ডিয়াকে তিনি বলেন, আমরা আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি। কেবল একটি মসজিদের জন্যই না। জিলানি আরও জানান, যদি আমরা আত্মসমর্পণ করি, তবে দেশের কোনো মসজিদই নিরাপদ থাকবে না,

কোনো সংখ্যালঘুই নিরাপদ বোধ করবেন না। কাজেই আমাদের লড়াই কেবল এক টুকরো জমির জন্যই না বলে জানালেন লাখনৌর এই আইনজীবী। রায়ের পর তিনি বলেন, তিনি বলেন, আজকের রায়ে আমরা অসন্তুষ্ট। পরবর্তী করণীয় নিয়ে আমরা আলোচনা করবো। আমরা পুরো রায় পড়বো। তারপর সিদ্ধান্ত নেব রিভিউয়ের আবেদন করবো কিনা। হিন্দুদের বিশ্বাস,

একটি মন্দির ধ্বংস করে চারশ ৬০ বছরের পুরনো মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ভারতের হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মসজিদ ধ্বংস করে সেখানে একটি মন্দির নির্মাণের প্রচার চালিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, অযোধ্যার বাবরি মসজিদের মালিকানার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে বিতর্কিত জায়গাটি হিন্দুদের। খবর দ্যা হিন্দু। রায়ে মুসলমানদের জন্য ৫ একর বিকল্প জায়গা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভারতের স্থানীয় সময় আজ সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের ৫ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ এ রায় প্রদান করেন। প্রধান বিচারপতি ছাড়াও বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি এসএ বোবদে, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়া, অশোক ভূষণ এবং এস আবদুল নাজির।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেছেন, মসজিদটি ফাঁকা জায়গায় তৈরী হয়নি। এর নিচে কোন স্থাপনা ছিলো। তবে তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি অর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া।তবে সেটা মন্দির কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয়। তিনি আরও বলেন, ১৯৯২ সালে মসজিদটি ভাঙা আইনের লঙ্ঘন ছিলো।এর আগে গত ৬ই আগস্ট থেকে কোনও বিরতি ছাড়া টানা শুনানি চলেছে অযোধ্যা মামলার। তার পর ১৬ই অক্টোবর রায়দান সংরক্ষিত রেখেছিল শীর্ষ আদালত।

শুক্রবার আচমকাই সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আজ শনিবার রায়দানের কথা। তার আগে নিজের চেম্বারে ডেকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব এবং ডিজির সঙ্গে কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। রায় ঘিরে অশান্তি এড়াতে কড়া নিরাপত্তা জারি হয়েছে গোটা উত্তরপ্রদেশে। সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত স্কুল কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই নির্দেশ জারি হয়েছে কর্নাটক ও মধ্যপ্রদেশেও। অন্য দিকে সব রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন।