ঘূর্ণি ঝড় বুলবুল: যে ৭ জেলায় আ ঘাত হানবে ৭ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস!

দুর্যো গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান ঘূর্ণি ঝড় বুল বুল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ঘূর্ণি ঝ ড়ের মুখে বাংলাদেশের অতি ঝুঁ কিপূর্ণ জেলাগুলো হলো- খুলনা, সাতক্ষীরা, বর গুনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা। তিনি আরো জানান, বুলবুলের কারণে ৫ থেকে ৭ ফুট উঁচু জ লোচ্ছ্বাস এই জেলা গুলোতে আ ঘাত করতে পারে। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে দু র্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণা লয়ে জ রুরি সভা ডাকা হয়। এতে ঘূর্ণি ঝড় বুলবুলের কারণে উপকূলবর্তী খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ ১৩টি জেলায় ২ হাজার প্যাকেট করে মোট ২৬ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার এবং প্রতি জেলায় ৫ লাখ টাকা করে অগ্রিম বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আরো জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর কারণে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ৪নং সতর্ক সংকেত থাকায় আজ শুক্রবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩নং সংকেত ঘোষণার পর বিকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে নোটিশ দেন। জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায়

সেন্টমার্টিনে প্রায় ১২০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ। তবে তারা নিরাপদ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ইউপি চেয়ারম্যান জানান, বৃহস্পতিবার বেড়াতে আসা পর্যটকদের অনেকে রাত্রিযাপনের জন্য থেকে গেছেন। হঠাৎ বৈরি আবহাওয়ায় জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় তারা আটকে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে

উল্লেখ করে তিনি জানান, দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত তাদের পরিচ্ছন্নভাবে হয়রানি মুক্ত আতিথেয়তা দিতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বলা আছে। আমি নিজেই রাতে এবং সকালে হোটেলগুলোতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে পর্যটকদের আতংকিত না হতে আশ্বস্ত করেছি। চেয়ারম্যান আরো বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে ৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও বহুতল কয়েকটি হোটেল রয়েছে। কঠিন দুর্যোগ বা জলোচ্ছ্বাস হলেও আটকে পড়া পর্যটকদের

বিচলিত হবার কিছু নেই। সংকেত বাড়লে আমরা তাদের সেখানে এসব স্থানে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করব। কেয়ারি সিন্দাবাদ ও ক্রুজের ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, নৌপথে জাহাজ চলাচল স্থগিত করে দেয় প্রশাসন। শুক্রবার সকাল থেকে সংকেত বেড়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই জাহাজ সেন্টমার্টিনের পথে যায়নি। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানায়, সাগরে এখন ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধসহ সমুদ্রের সব ধরনের নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে বলা হয়েছে।