কানে শুনেই ২ বছরে কুরআন মুখস্ত করলেন অন্ধ নারী ।

অন্ধ নারীর কুরআন মুখস্ত- তুরস্কের এক নারী অন্ধ হলেও শুনে শুনে পুরো কুরআন মুখস্ত করেছেন। তুরস্কের খাটায় প্রদেশের আলেকজান্দ্রিয়া শহরের সরিসিকির বাসিন্দা ওই নারীর নাম যায়নাব ইসরা । জানা যায়, যায়নাব ইসরা জন্ম থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। ছোটবেলায় তার কুরআন শেখার সুযোগ না হলেও ৩১ বছর বয়সে এসে পুরো কুরআন মুখস্ত করেছেন। ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে জানা যায়, যায়নাব ৪ বছর আগে নারীদের এক কুরআন প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হন। সেখানেই অন্যের সাহায্য নিয়ে শুনেই মুখস্ত করতে থাকেন পবিত্র কুরআন।

দুই বছরেই পবিত্র কুরআন মুখস্ত করতে সক্ষম হন। তুরস্কের কিয়েসারি শহরে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত এক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হন যায়নাব। এছাড়া এরপর বেশ কয়েক বার তিনি পবিত্র কুরআনুল পুরোপুরি পড়ে শুনিয়েছেন। যায়নাব জানান, কুরআন প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হয়েই পবিত্র কুরআনের অডিও ফাইল শুনতে শুরু করি। এভাবে অডিও ফাইল শুনেই ২ বছরে পুরো কুরআন মুখস্ত করতে সক্ষম হই। যেসব ক্ষেত্রে প্রতিবেশির অধিকার রক্ষা করা বেশি জরুরি বিশ্বের সব মানুষ হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম থেকে এসেছে।

তাই সবাই পরস্পর ভাই ভাই। তাকওয়া ছাড়া সব মানুষই সমান। মানুষের প্রতি রয়েছে মানুষের অধিকার। তন্মধ্যে প্রতিবেশির অধিকার সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেশির সঙ্গে সুসম্পর্ক ও সদয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন- ‘আর আল্লাহর ইবাদত কর, তার সঙ্গে কাউকে শরীক করো না। আর বাবা-মার সঙ্গে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্মীয়, ইয়াতিম-মিসকিন, প্রতিবেশি, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও (সদয় ব্যবহার কর)। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক-গর্বিতদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৩৬)

ভালো মানুষ কখনো তার প্রতিবেশির প্রতি জুলুম অত্যাচার করে না। প্রতিবেশির কল্যাণ কামনা করে থাকেন। প্রতিবেশি ক্ষুধার্থ বা অভাবি হলে তাকে খাদ্য দান এবং সহযোগিতা করে। প্রতিবেশি হক আদায়ে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নসিহত পেশ করেন- যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে বিশ্বাস করে এবং প্রতিবেশির প্রতি অসদাচরণ করবে না, বিচারের দিন তিনি হবে সম্মানিত ও মর্যাদাবান। যে ব্যক্তি আল্লাহকে বিশ্বাস করে এবং তার অতিথিদের সঙ্গে উত্তম কথা বলে বিচারের দিন তারাও মর্যাদাবান হবে।

যে ব্যক্তি আল্লাহকে বিশ্বাস করবে এবং প্রতিবেশির সঙ্গে ভালো কথা বলবে, আল্লাহ তাআলা বিচারের দিন তার সঙ্গে উত্তম কথা বলবেন।’ (বুখারি) প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনকে বিশ্বাস করে সে তার প্রতিবেশিকে কষ্ট না দিয়ে তার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করবে।’ (মুসলিম, মিশকাত) উল্লেখিত হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার জন্য প্রতিবেশির সঙ্গে উত্তম আচরণ একটি অন্যতম শর্ত। এ কারণেই কুরআন ও সুন্নায় প্রতিবেশি অধিকারের ব্যাপারে অত্যধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সুতরাং যেসব ক্ষেত্রে প্রতিবেশির অধিকারগুলো বেশি। সেগুলো হলো- ১- প্রতিবেশি ক্ষুধার্ত হলে তার সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেয়া। (মুসলিম) ২- কখনো প্রতিবেশিকে অযথা হয়রানি না করা। ৩- কোনো অনুষ্ঠান হলে প্রতিবেশিদের উপহার-উপঢৌকন দেয়া। (মুসলিম) ৪- প্রতিবেশি কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া এবং তার সেবা করা। ৫- প্রতিবেশি কেউ মারা গেলে তার দাফন-কাফন ও জানাযায় অংশগ্রহণ করা। ৬- প্রতিবেশির প্রয়োজনে তাকে আর্থিক ঋণ দেয়া। ৭- সব সময় প্রতিবেশির সঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে কথা বলা। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রতিবেশির অধিকার যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। কুরআন হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবেশির অধিকার আদায়ে সচেতন হওয়ার তাওফিক দান করুন। প্রতিবেশিসহ সবার সঙ্গে জুলুম করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।