চান্স না হয়েও মানবিকতায় ভর্তি হচ্ছেন তিন্নি!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ‘সি’ ইউনিটে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী তিন্নি দাস তার বাবা মৃণাল দাসের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পালা। কিন্তু বাড়িতে আর ফেরা হয়নি তিন্নির বাবার। পথের মধ্যেই হিট স্ট্রো**ক করে শেষ নিঃশ্বা*স ত্যাগ করেন তিনি। বিয়ষটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছিল, গণমাধ্যমেও নাড়া দিচ্ছিল বিষয়টি। এদিকে প্রকাশিত ফলে তিন্নির চান্স না হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে মানবিক বিবেচনায় সেই তিন্নির পাশে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই ছাত্রীকে বিশেষ বিবেচনায় ভর্তির সুপারিশ করেছেন ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। যাতে প্রাথমিকভাবে সম্মতি দিয়েছেন অনুষদের ডিন। ড. মোহাম্মদ শামীম জানান, ‘মেয়েটার হয়তো চান্স হয়নি।তবে আমরা মানবিক বিবেচনা করছি। আমরা তিন্নিকে শর্তহীনভাবে ভর্তি করানোর চেষ্টা করছি।’ অধ্যাপক শামীম বলেন, ইতোমধ্যেই এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আমি উত্থাপনি করেছি; যদিও তা চূড়ান্ত হয়নি।

প্রাথমিকভাবে অনুষদের ডিন ও সকল বিভাগের চেয়ারম্যানরা রাজি হয়েছে। যেহেতু এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ বডিই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন। মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে ওই ছাত্রীটিকে ভর্তি করাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি অনুরোধ জানান ওই শিক্ষক। ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার এস এম আকবর জানান, এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেও তাকে কিছু জানানো হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এদিকে ওই ছাত্রীর ভর্তির বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্তে চবি শিক্ষার্থীদের অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্নেহ চৌধুরী লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ।

মেয়েটা জান প্রাণ দিয়ে পড়ে ভবিষ্যৎ এ দেখবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করবে। কেনোনা এখানেই তার বাবার শেষ বিদায় ছিল।’ তিনি আরো লিখেছেন, এটাই হচ্ছে বাবা! মা**রা যেয়েও সন্তানের মঙ্গল করে গেলো! চোখে পানি চলে আসলো ! (যদিও আমি চান্স পাইনি) তবুও খুব খুশি লাগছে! আল্লাহ যা করেন অবশ্যই ভালোর জন্যই করেন। যেকোনো খবরেই বলতে হয় আলহামদুলিল্লাহ! সহকারী প্রক্টরের সূত্র দিয়ে একজন লিখেছেন, ‘আল্লাহামদুল্লিল্লাহ মানবতা ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন তিন্নি দাসের বাবার হৃদয়বিদারক মৃ**ত্যুতে মানবিক দিক বিবেচনা করে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ডিন স্যারসহ সকল চেয়ারম্যানগণ তিন্নি দাসকে ব্যবসায় অনুষদে যে কোন সাবজেক্টে নিঃশর্ত ভর্তির সুপারিশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৩০ অক্টোবর) ভর্তি পরীক্ষার ৪র্থ দিন দুপুর দেড়টার শাটল ট্রেনে স্ট্রোক করেন ওই অভিভাবক। প্রত্যক্ষদর্শীরা ঐ অভিভাবককে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান ডাক্তার মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, ধারণা করা হচ্ছে স্ট্রোক করার পর মেডিকেলে আনার পথে তিনি মারা গেছেন। জানা যায়, ঐ ব্যক্তির বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাস গ্রামে।