সাকিবকে নিষিদ্ধ ঘোষণা,মুখ খুললেন সাকিবের বাবা

সাকিবের শাস্তির ব্যাপার নিয়েকথা বলেছেন সাকিবের বাবা মাসরুর রেজা। তিনি বলেন, আমার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার। সে এমন কোনো অপরাধ করেনি যে তাকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ভুল তো মানুষের হতেই পারে। সাকিব বাংলাদেশের গর্ব, তথা মাগুরার গর্ব। উল্লেখ্য, ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও আইসিসিকে অবহিত না করায় বাংলাদেশ ওয়ানডে ও টেস্ট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

তবে সাকিব দোষ স্বীকার করায় তার নিষেধাজ্ঞা এক বছর কমিয়ে দিয়েছে আইসিসি। আগামী বছরের ২৯ অক্টোবর থেকে আবারও ব্যাট-বল হাতে মাঠে নামতে পারবেন তিনি। জুয়াড়ির সাথে যে কথা হয়েছিল সাকিবে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও আইসিসিকে অবহিত না করায় বাংলাদেশ ওয়ানডে ও টেস্ট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

তবে সাকিব দোষ স্বীকার করায় তার নিষেধাজ্ঞা এক বছর কমিয়ে দিয়েছে আইসিসি। আগামী বছরের ২৯ অক্টোবর থেকে আবারও ব্যাট-বল হাতে মাঠে নামতে পারবেন তিনি। জানা যায়, ২০১৮ সালে শ্রীলংকা-জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং ২০১৮ সালের আইপিএলের সময় জুয়াড়ি দিপক আগারওয়ালের সঙ্গে কথপোকথন হয় সাকিবের।

সাকিবের এক পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সময় আগারওয়াল সাকিবের টেলিফোন নাম্বার সংগ্রহ করেন। ওই সময় সাকিবের ওই পরিচিত ব্যক্তিকে আগারওয়াল বিপিএলে অংশ নেয়া আরও কিছু খেলোয়াড়ের যোগাযোগ নাম্বার চায়। ২০১৭ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝিতে আগারওয়ালের সঙ্গে সাকিবের বার্তা চালাচালি শুরু হয়।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে শ্রীলংকা-জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৩ রানের বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ম্যাচ সেরা হওয়ায় ম্যাচ সেরা হওয়ায় সাকিবকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা পাঠান আগারওয়াল। এরপর সাকিবের উদ্দেশ্য তিনি লেখেন, ‘আমরা কি এই সিরিজ থেকেই কাজ শুরু করবো।

না-কি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করবো?’ ‘কাজ শুরু করা’ শব্দ দিয়ে আইসিসি মনে করছে, এর আগেও আগারওয়ালের সঙ্গে সাকিবের কথা হয়েছে। সাকিব দলের খবরও দিয়েছেন তাকে। যদিও আগারওয়ারের কাজ শুরু করার প্রশ্নে কোন জবাব দেননি সাকিব। তবে বিষয়টি তিনি আইসিসি কিংবা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও জানাননি।

এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৩ জানুয়ারির ম্যাচের দিন আবার আগারওয়ালের বার্তা পান সাকিব। বার্তা সে লেখে, ‘ব্রো এই সিরিজে কি কিছু আছে?’ আইসিসি ওই বার্তার ব্যাপারে সাকিবের কাছে জানতে চায়লে তিনি জানান, আগারওয়াল দলের ভেতরের খবর জানতে চেয়েছিল তার কাছে। এরপর ২৬ এপ্রিল আইপিএলে পাঞ্জাবের বিপক্ষে হায়দরাবাদের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচের দিন আবার বার্তা পান সাকিব।

ওই ম্যাচে হায়দরাবাদের বিশেষ কোন ক্রিকেটার একাদশে আছেন কি-না জানতে চায় ওই জুয়াড়ি। এছাড়া সাকিবের বিটকয়েন, ডলার অ্যাকাউন্ট নিয়েও তথ্য চান। ওই সময়ের যোগাযোগে সাকিব প্রথম আগারওয়ালকে রিপ্লে দিয়ে বলেন, আগে তিনি আগারওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে চান।

আইপিএলের সময় সাকিবের সঙ্গে আগারওয়ালের যে যোগাযোগ হয়েছে, সেখানে কিছু বার্তা ডিলেট করে দেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানতে পারে আকসু। সাকিব এ নিয়ে বলেন, ডিলেট করে দেওয়া এসএমএস ছিল দলের ভেতরের খবর জানতে চেয়ে করা আগারওয়ালের মেসেজ। ওই জুয়াড়ির থেকে বার্তা পেয়ে সাকিব বুঝতে পারেন সে একজন বুকি। তবে সাকিব তিনবার আগারওয়ালের বার্তা পেলেও আকসুকে কিছু বলেননি। আর এটাই ছিল সাকিবের সবচেয়ে বড় অপরাধ।