ডিপজলেকে হুমকির অভিযোগ, যা বললেন মৌসুমী ।

২০১৯-২১ মেয়াদের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম বিএফডিসি প্রাঙ্গণ। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। চলছে প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগও।বৃহস্পতিবার বিএফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাব অডিটরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মিশা-জায়েদ প্যানেল। সেখানে সহসভাপতি পদপ্রার্থী মনোয়ার হোসেন ডিপজল অভিযোগ করেছেন, সভাপতি পদপ্রার্থী মৌসুমী নাকি তাঁকে টেলিফোনে হুমকি দিয়েছেন। তবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ডিপজল ভয় পাওয়া মানুষ নন।

এদিকে, গতকাল রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী, যিনি এ নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খলনায়ক মিশা সওদাগর।ওই সংবাদ সম্মেলনে ডিপজলের অভিযোগ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসার জবাবে গণমাধ্যমকর্মীদের মৌসুমী বলেন, ডিপজলের হুমকির অভিযোগকে তিনি ‘ফান’ হিসেবে নিচ্ছেন।“শ্রদ্ধেয় ডিপজল ভাই বলেছেন—যাঁকে আমরা শ্রদ্ধা করি, সবাই এত ভালোবাসি, তিনি আমাদের সবাইকে এত স্নেহ করেন—এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত আমি জানি না যে আমি বলতে পারি, ‘ডিপজল ভাই আপনাকে হুমকি দিলাম’… (হেসে) কী আর বলব। ডিপজল ভাই যদি এটা ভেবে থাকবেন, সেটা ভুল।

যদি আমি বলে থাকি সেটাও ভুল। বলেছেন, হয়তো ইলেকশনের জন্য বলেছেন। আমি ছোট বোন হিসেবে এটাকে ফান হিসেবে নিলাম। আশা করি, আপনাদের কাছে এটাকে ফানই মনে হবে,” বলেন মৌসুমী। এর আগে অভিযোগ করে ডিপজল বলেন, ‘মৌসুমীর কথা বলি, মৌসুমী মিশার সাথে দাঁড়াইছে। মৌসুমীর ভুলের কোনো শেষ নাই। আর অর ভুলের কথা বলতে গেলে দিনের মধ্যে বলা যাবে না। আরো সময় লাগবে। আমি টিভি না ফেসবুকে দেখলাম, ওনারে বলে কে থ্রেট (হুমকি) দিছে। বা অপমান করছে। অই মৌসুমী টেলিফোনে আমারে হুমকি দেওয়াইছে। তা আমি কি ভয় পাওয়া লোক? তুই কারে ভয় দেখাছ? ডিপজল ভয় পাওয়া লোক না।

ডিপজল আগে বাড়ায়, বাড়বে।’নির্বাচনে তাঁর প্যানেলের সদস্যদের জয়ী করার আহ্বান জানান ডিপজল। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁদের প্যানেল জিতলে ভোটাররা যা চাইবেন তা পাবেন।এবারের নির্বাচনে মিশা-জায়েদ প্যানেল করে নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী স্বতন্ত্র হিসেবে সভাপতি পদে লড়ছেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী খলনায়ক মিশা সওদাগর। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াস কোবরা, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী চিত্রনায়ক জায়েদ খান। তবে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মিশা-মৌসুমীর।

২০১৭ সালের ৫ মে জয়ী হওয়ার পর ১২ মে শপথ গ্রহণ করে মিশা-জায়েদের কমিটি।গত ৫ অক্টোবর ২০১৯-২১ মেয়াদের শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা থেকে জানা যায়, সভাপতি পদে লড়াই করছেন মৌসুমী ও মিশা সওদাগর। সহসভাপতির দুটি পদে রুবেল ছাড়াও প্রার্থী হয়েছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও নানা শাহ। সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়াস কোবরা। সহসাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন আরমান ও সাংকো পাঞ্জা। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অভিনেতা সুব্রতর বিপরীতে কোনো প্রার্থী নেই।

আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে লড়ছেন নূর মোহাম্মদ খালেদ আহমেদ ও চিত্রনায়ক ইমন। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে একাই রয়েছেন জ্যাকি আলমগীর। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে লড়বেন জাকির হোসেন ও ডন। কোষাধ্যক্ষ পদে অভিনেতা ফরহাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। অর্থাৎ সুব্রত, জ্যাকি, আলমগীর ও ফরহাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে কার্যকরী পরিষদ সদস্যের ১১টি পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন ১৪ জন। তাঁরা হলেন—অঞ্জনা সুলতানা, রোজিনা, অরুণা বিশ্বাস, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, বাপ্পারাজ, রঞ্জিতা, আসিফ ইকবাল, আলেকজান্ডার বো, জেসমিন, জয় চৌধুরী, নাসরিন, মারুফ আকিব ও শামীম খান (চিকন আলী)।