গণপরিবহন চালু নিয়ে নতুন ঘোষণা দিলো সরকার ।

করো'না ভাইরাসের আ’ক্রমণে থমকে গেছে বাংলাদেশ। জনগণকে করো'নার হাত থেকে বাঁ’চাতে এবার একটানা সাতদিন যাব'বাহন চলাচলে নি’ষেধাজ্ঞা দিল সরকার। ঈদের আগের চারদিন ও পরের দুইদিন মিলিয়ে মোট সাতদিন যান চলাচল ব’ন্ধ থাকবে। বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানানো হয়।

আরো বলা হয়, এসময় শুধু জরুরি সেবার গাড়ি চলবে। একই ঘোষণায় সাধারণ ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এই বিজ্ঞ'প্তিতে আরো বলা হয়, এবারের ঈদের কোনো সরকারি কর্মচারী নিজের কর্মস্থল ত্যা’গ করতে পারবেন না।

করো'নাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চলতি সাধারণ ছুটি আরেক দফায় বাড়ানোর সি'দ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আরো ১৪ দিন বাড়ানো হচ্ছে চলমান সাধারণ ছুটি। আগামী ১৭ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে। বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় এমনটিই জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন,

‘আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’ একই স''ঙ্গে গণপরিবহন চলাচলে কঠোর নির্দেশনা আসছে। তিনি বলেন, ‘ঈদের দুই দিন আগে, ঈদের দিন ও ঈদের চার দিন পর- এই সাতদিন এখন প্রাইভেটকারসহ যেসব সাধারণ যানবাহন রাস্তায় রয়েছে, এগু'লোর চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে,

যাতে এগু'লো চলাচল করতে না পারে।’ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরো ১ হাজার ১৬২ জন করো'না রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ৮২২ জন করো'না রোগী শনাক্ত হয়েছে। নতুন করে মা’রা গেছেন আরো ১৯ জন। মোট মা’রা গেছেন ২৬৯ জন।

এ পর্যন্ত বিশ্বে দুই লাখ ৯৩ হাজারের বেশি মানুষের প্রা’ণ নিয়েছে করো'নাভা’ইরাস (কো’ভিড-১৯)। আ'ক্রা'’ন্ত হয়েছে ৪৩ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি। প্রাণঘা’তী এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন পেতে নি’র্ঘু'ম রাত কাটছে গবেষকদের। আর এই ম’হা'মা'রি থেকে উ’'দ্ধার পেতে গবেষকদের দিকে চাতকের মতো তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।

তবে এরই মধ্যে কিছুটা স্ব’স্তির খবর দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। হু বলছে, কয়েকটা চিকিৎসা প'দ্ধতির মাধ্যমে করো'নার ভ’য়াব'হতা এবং অ’সুস্থতার সময়কাল-দুটোই কমানো যাচ্ছে। তবে, এ বি'ষয়ে আরও প্রয়োজন রয়েছে গবেষণার। ম''ঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র মা'র্গারেট হ্যারিস বলেন,

‘খুব প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এখন আমা'দের কাছে এমন কিছু চিকিৎসা প'দ্ধতি আছে, যা এই রো’গের ভ’য়াব'হতা এবং অসু’স্থতার সময়কাল কমাতে পারে। তবে এখনও আমা'দের হাতে এমন কোনো ওষু’ধ নেই যা এই ভাইরাসকে নিঃশে’ষ করে দিতে পারে বা আট'’কে দিতে পারে।’তিনি আরও বলেন,

‘আমর'া একাধিক চিকিৎসা প'দ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছি এবং অনেক চিকিৎসা প'দ্ধতিই সাড়া দিচ্ছে। তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনই এটা বলার মতো অবস্থায় নেই যে, এটাই করো'নার চিকিৎসার শ্রেষ্ঠ উপায়।’ ‘আমর'া বেশ কিছু জায়গা থেকে ভালো খবর পাচ্ছি। তবে, আরও কিছুটা সময় দিতে হবে এটা বলতে যে,

এই চিকিৎসা প'দ্ধতিই করো'নার জন্য সবচেয়ে ভালো’-যোগ করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই মুখপাত্র। তবে মা'র্গারেট হ্যারিসের ভাষ্য, ‘কোভিড-১৯ অত্যন্ত জটিল ভাইরাস। এর টিকা তৈরি না-ও 'হতে পারে। প্রতিষেধক তৈরি হলেই যে সেটা কার্যকরী হবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।’ এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে ১০০টি টিকা নিয়ে কাজ চলছে।

তার মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষেধক মানবশরীরে প্রয়োগের বা হিউম্যান ট্রায়ালের কাজ চলছে। চলতি বছরের শেষের দিকেই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে করো'নার প্রতি’ষেধক চলে আসবে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু হু বলছে, প্রতিষেধকের আশায় বসে না থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাটাই হবে বু'দ্ধিমানের কাজ।