মা ‘রা গেলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, বলিউডে ফের শোকের ছায়া

সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারাঠি নায়িকা পূজা জুঞ্জরের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টায় ২৫ বছর বয়সী এ নায়িকার করুণ মৃত্যু হয়। অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এ নায়িকা। হঠাৎ করেই প্রসব বেদনা ওঠে তার। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেও জোগাড় করা গেল না একটি অ্যাম্বুলেন্স।

হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা গেলেন নায়িকা। এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে। এ নায়িকার পরিবারের দাবি, অনেক চেষ্টা করেও সময়মতো একটা অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে পারেননি তারা। ফলে সরকারি হাসপাতালে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যায়। রাস্তাতেই মারা যান পূজা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এক আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলেন ওই অভিনেত্রী। রবিবার ভোরে প্রসব বেদনা উঠলে তাকে গোরেগাঁওয়ের এক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সন্তানের জন্ম দেন পূজা। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সদ্যোজাত শিশুটির মৃত্যু হয়। ততক্ষণে পূজাও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক পূজাকে হিঙ্গোলির সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। গোরেগাঁও থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ওই হাসপাতাল। অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়াই দেরি হয় হাসপাতালে নিতে। পথেই মারা যান নায়িকা।

আরো পড়ুন… ‘এমন একটা সময় গেছে ভোরবেলা ঘুম থেকে জেগে বাসা থেকে বের হতাম। পাঁচ থেকে ছয়টি শুটিং সেটে কাজ করতাম। নিজের শরীর কিংবা পরিবারের দিকেও তাকাতাম না। কাজ করতাম দর্শক ও নির্মাতাদের কথা চিন্তা করে। এখন কারও কথাই চিন্তায় আসে না। কারণ এখন আর হাতে কাজ নেই’- একান্ত আলাপকালে ছল ছল চোখে কথাগুলো বলেন এক সময়ের ব্যস্ততম খল অ’ভিনেতা সাদেক বাচ্চু।

এক সময় ব্যাপক ব্যস্ত থাকা এ অ’ভিনেতার এখন সময় কাটে পরিবারের সঙ্গে। পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। বর্তমান সময় কেমন কাটছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন বয়স হয়েছে। আগের মতো হাতে কাজও নেই। তাই বাসায় সন্তানদের সময় দিই। লেখালেখিও করি। এভাবেই সারা দিন কে’টে যায়’। একটা সময় এফডিসিতে দিনের অনেকটা সময় কা’টাতেন।

এখন সে সময়গুলো কতটা মনে পড়ে বা মনে পড়লে কেমন লাগে জানতে চাইলে তিনি আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এফডিসিই তো আমা’র পরিচিতি দিয়েছে। এটা তো আমা’র একটি বাসস্থান। যেখানে দিনের অনেকটা সময় পার করতাম। এখন আর সে ঘরে যাওয়া হয় না। ভাবতে ক’ষ্ট হয়। কিন্তু কী’ করার আছে। ঢাকাই সিনেমা’র এখন নিবু নিবু অবস্থা। তাই সব কিছু মেনে নিয়েই বেঁচে আছি।’ সিনেমাও এখন হচ্ছে না। যাই হচ্ছে তাতে আগের মতো অধিক শিল্পী দেখা যায় না।’

তবে কি আর অ’ভিনয়ে দেখা যাবে না সাদেক বাচ্চুকে? এমন প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা থাকলেও অ’ভিনয়ে হয়তো আর দেখা যাবে না আমাকে। সিনেমাও এখন হচ্ছে না বললেই চলে।’ এখনকার পরিকল্পনা কী’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আম’রা স্বল্প সময় নিয়েই এ পৃথিবীতে আসি। চলে যেতে হবে এ ভাবনা এখন মাথায়। তাই অ’ভিনয়ে দেখা যাবে না খুব একটা। এখন নামাজ-কালাম পড়ি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, আর মৃ’ত্যুর জন্য অ’পেক্ষা করছি।’ এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অ’ভিনয় করেন তিনি। পেয়েছেন অনেক জনপ্রিয়তা, সম্মাননা ও মানুষের ভালোবাসা।সাদেক বাচ্চু চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন ১৯৮৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রামের সুমতি চলচ্চিত্রে অ’ভিনয়ের মাধ্যমে।