জীবন আমার, সেই জীবনের দায়িত্বও আমার : কাঞ্চন

নিরাপদ স ড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, জীবন আমার, সেই জীবনের দায়িত্ব আমি যদি না নিই, তাহলে আমার বাঁচার উপায় নেই। তিনি বলেন, যারা স ড়কে আসবেন, তারা সবাই মনে রাখবেন সড়ক কোনও আনন্দের জায়গা নয়, একটি বিপ জ্জনক জায়গা। প্রতিমুহূর্তে এখানে গাড়ি চলছে, দুর্ঘ টনা ঘটে।

জাতীয় নিরাপদ স ড়ক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এ সব কথা বলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এ শোভাযাত্রা হয়। এ র‌্যালিতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় নিরা পদ সড়কের দাবিতে নানা স্লো গান দেন অংশগ্র হণকা রীরা। খামার বাড়ি ঘুরে জাতীয় সংসদ ভবনে গিয়ে শেষ হয় র‌্যালিটি।

ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, আমি প্রত্যেককে বলতে চাই, আপনারা মনে রাখবেন, সড়কে যখন গাড়ি চলে তখন তার একটা গতি থাকে। একটি গাড়ি যদি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে চলে, তাহলে ২০টি পি স্তল দিয়ে গু লি করলে যে বি পদ হয়, সেই একই বিপদ হবে।

সেই বি পদ মাথায় না রেখে যদি আমরা গাড়ি চালাই এবং পথ চলি তাহলে আমাদের বাঁচার উপায় নেই। আমরা এবং সরকার যতই চে ষ্টা করি না কেন, কেউ এ থেকে রক্ষা পাবে না। সবাইকে বুঝতে হবে, আমি সড়কে অন্যের জন্য কোনও বি পদ সৃষ্টি করছি কিনা।

আরো পড়ুন… কাঙ্ক্ষিত চরিত্রের’ অভাবে কয়েক বছর ধরে চলচ্চিত্রে অনিয়মিত আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অ’ভিনয়শিল্পী আনোয়ারা বেগম; মাঝে-মধ্যে দুয়েকটা চলচ্চিত্রে অ’ভিনয়ের বাইরে অ’সুস্থ স্বামীর শুশ্রুষা করেই সময় কাটছে তার।

ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডে (বিবিএফএ) আজীবন সম্মাননা পাওয়ায় সম্প্রতি খবরের শিরোনামে এসেছেন দীর্ঘদিন ধরে খবরের আড়ালে থাকা সত্তর বছর পেরোনো এ অ’ভিনয়শিল্পী। ‘কাঙ্ক্ষিত চরিত্র’ না পাওয়ায় বেশ কয়েক বছর ধরেই অ’ভিনয়ের বাইরে রয়েছেন তিনি; মাঝে মধ্যে দুয়েকটা চরিত্রে অ’ভিনয় করলেও কয়েক বছর ধরে গুরুত্বর অ’সুস্থ স্বামীর শুশ্রুষায় নিভৃতে জীবন কাটছে তার।

এফডিসি কেন্দ্রিক আয়োজনেও আগের মতো উপস্থিতি দেখা মেলে না তার। আগের মতো কেউ খোঁজখবরও নেয় না। তবে সহশিল্পীদের মধ্যে কেউ মা’রা গেলে সাংবাদিকরা তার খোঁজখবর নেন বলে জানান আনোয়ারা।খানিকটা রসিকতার সুরে বললেন, “ …কেউ মা’রা গেলে আমা’র বেশি খোঁজখবর নেয়। বিশেষ করে সাংবাদিক ভাই-বোনেরা আমাকে ভালোবাসেন।

যার জন্য উনারা ফোন করে জানতে চান, আমা’র শরীর কেমন? তখন আমি বলি, ম’রি নাই। বেঁচে আছি এখনও। ভালো’ভাবেই বেঁচে আছি আল্লাহর রহমতে।” বেশ কয়েক বছর আগে তার স্বামী মহিতুল ইস’লাম স্ট্রোক করে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আনোয়ারা : “উনার সেবা করেই আমা’র সময়গুলো কাটে। এই বিষয়টিই আমা’র কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

উনি এখন কথা বলতে পারেন। শুধু হাঁটতে পারেন না। আমি একটা সময় আমা’র বাচ্চা-স্বামীকে সময় দিতে পারিনি। এখন যদি উনাদের সময় দিলে খুশি থাকেন তাহলে আমিও খুশি থাকি।” অ’ভিনয়ের আগ্রহ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত চরিত্রের অভাবেই তা হয়ে উঠছে না বলে জানালেন আনোয়ারা।

“ভালো চরিত্র না পেলে কাজ করতে ইচ্ছা করে। মনম’রা হয়ে থাকি, বলি এটা কী’ চরিত্র! কারণ আমি যখন ছবিতে কাজ করি তখন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোই করি। আর এখনকার চরিত্রে অ’ভিনয়ের মতো কিছুই থাকে না। যার জন্য আমি কাজ কম করি।” ষাটের দশকের গোড়ার দিকে কিশোরী বয়সে চলচ্চিত্রে নৃত্যশিল্পী হিসেবে পা ফেলার পর পাঁচ দশকের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনও পার্শ্ব চরিত্রে, কখনও নায়িকার চরিত্রে আবার কখনও মায়ের চরিত্রে অ’ভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এবার বাংলাদেশ ও কলকাতার চলচ্চিত্র নিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডে (বিবিএফএ) বাংলাদেশ থেকে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি। ভারতের ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের বসুন্ধ’রা গ্রুপের যৌথ আয়োজনে সোমবার রাতে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধ’রায় সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে তাকে।

তার সঙ্গে যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন কলকাতার অ’ভিনয়শিল্পী রঞ্জিত মল্লিক।তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আনোয়ারা বলেন, “আমি তো কখনও কল্পনাও করতে পারিনি। এতো বড় সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে; খুব ভালো লাগছে। এটি সারাজীবন আমা’র মনে থাকবে। “আমি এখন যে সম্মানটা পাচ্ছি; মৃ’ত্যুর পরও যেন এই সম্মানটা থাকে। মৃ’ত্যুর আগে যে সম্মান পেয়েছি মৃ’ত্যুর পরও যেন এই সম্মানটা পাই।” ‘আমা’র মা’ শিরোনামে একটি চলচ্চিত্রে কয়েকবছর আগে অ’ভিনয় করেছিলেন; শিগগিরই ছবিটি মুক্তি পাবে বলে আশা প্রকাশ করলেন তিনি।