জানা গেলো চীনের ভারত যু’দ্ধের আসল কারণ,বেড়িয়ে এলো গো’পন তথ্য

পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য 1980 এর দশকের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে অ'স্ত্র বিক্রয়ের উপর নিষে'ধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্র ডাউন পেমেন্টের অর্থ সহ পাকিস্তানের 36 টি F-16 বিমান বাজেয়া'প্ত করে।একই সময়ে “তিয়েনআনমেন” স্কয়ারে বেসামর'িক বি’ক্ষোভকারীর বি’রু'দ্ধে কঠো’রতা প্রদর্শনের কারণে চীনের উপরেও অ’স্ত্র বিক্র’য়ে নি’ষেধাজ্ঞা আ’রোপ করা হয় (যা এখনো চালু আছে) । ভারত ও চিনের মধ্যে দ্বি’পাক্ষিক সম্পর্ক খারা’প হওয়ার কারণ হল:

১. ম্যাকমেহন লাইন। ভারত ও চিনের সীমা'ন্তকে এই নামে ডাকা হয়। এটি যখন টানা হয়েছিল তখন চিন ক্ষ’মতাহীন এবং ভারত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে মূল্যবান অ''ঙ্গ। চিনের বক্তব্য, ওই সময় জবরদ'স্তি করে এমন বেশ কিছু এলাকা ভারতের অংশ বলে চা’পিয়ে দেওয়া হয় যা আদতে চিনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ শা’সনাধীন ছিল।

চিনে কমিউনিস্ট পার্টির শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ওই দেশ চিনের ঐতিহাসিক সাম্রাজ্যের সীমা'রেখা ফিরে পেতে সচেষ্ট হয়। কিন্তু স্বাধীন ভারত এইভাবে সীমানা পুনর্নিধারণে আগ্রহী ছিল না। ফলে সম্পর্কটা খারা’প হয়।

২. তিব্বত। চিন বরাবর দাবি করেছে যে এই অঞ্চল বা রাজ্য চিনের অংশ। কিন্তু ভারত তি’ব্বতের স্বা’য়ত্তশাসনের স’মর'্থক ছিল। এই নিয়ে টা’নাপোড়েনের মধ্যে চিন তিব্বতে সেনা আ'ক্রম’ণ চালায়। পশ্চিমের দেশগু'লোর পাশাপাশি ভারতও এই একতরফা আ’ক্রমণের বি’রোধিতা করে। এতে চিন স্বাভাবিকভাবেই ভারতের ওপর রু’ষ্ট হয়। তারপর তিব্বতি জনসাধারণের ধ'র্মগু'রু দলাই লামা ভারতে রা’জনৈতিক আশ্রয় পেলে চিন একে সরাসরি তার সার্বভৌমত্বের ওপর আ’ক্রমণ বলে ধরে নেয়।

৩. পাকিস্তান। ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যু’'দ্ধের সময় পাকিস্তানের তৎকালীন সামর'িক শা’সক ভারতের স''ঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি চিন-বি’রোধী ফ্রন্ট খোলার প্রস্তাব অবধি দিয়ে রেখেছিলেন! কিন্তু পরে, যখন ১৯৪৮-এর আগ্রাসনের পর পাকিস্তানের নি’য়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীর থেকে আ’কসাই চিন এলাকা চিন-কে হ’স্তান্তরিত করা হয়, তখন চিন ও পাকিস্তানের সীমা’ন্ত নিয়ে বি’বাদ, যা ম্যাকমেহন লাইনেরই উত্তরাধিকার ছিল, মিটে যায়। এর পর ১৯৬৫-র ভারত-পাকিস্তান যু’'দ্ধের সময় থেকেই চিন স্প’ষ্টভাবে “শ’ত্রুর শ’ত্রু আমা'র মিত্র” নীতি মেনে ভারতের বি’রু'দ্ধে পাকিস্তানের স''ঙ্গে হাত মেলায়।

৪. ঈর্ষা। গণপ্রজাতন্ত্রী ভারতের স্বাধীনতা আর কমিউনিস্ট চিনের উত্থান মোটামুটি একই সময়ে হয়। কিন্তু জোট-নিরপেক্ষ দেশগু'লোর মধ্যে ভারতের যে সম্মানজনক অবস্থান ছিল, সেটা চিন পায়নি। এখনও পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্র চিনকে তার আর্থিক ক্ষ’মতার জন্য ভ’য় পায়। ভারত সেই তুলনায় দু’র্বল হলেও তার স্বী’কৃতি বরাবর অনেক বেশি ছিল, যার জন্য দায়ী তার গণতান্ত্রিক পরিবেশ, হিন্দি সিনেমা'র জনপ্রিয়তা, ইত্যাদি। এই ব্যাপারটা হ’জম করা চিনের পক্ষে সহজ ছিল না।

৫. পরমাণু শক্তি। আধুনিক পৃথিবীতে প্রথাগত সেনাবাহিনীর দা’পট কমিয়ে একটা সমতা এনে দেয় এই জিনিস। যতদিন ভারতের কাছে এই হাতিয়ার ছিল না, ততদিন অবধি চিনের পক্ষে ১৯৬২-র যু’'দ্ধের উদাহরণ দিয়ে ভারতের ওপর সামর'িক চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব ছিল। কিন্তু হিমালয়ের দু’দিক থেকেই যদি পরমা’ণু বো’মা ব’হনকারী মিসাইল একে অ’পরের দিকে ধেয়ে যায়, তাহলে দু’টি দেশই ‘ধ্বং’স হবে।

ফলে সরাসরি মিলিটারি পশ্চারিং করা অসম্ভব হয়, এবং দুই দেশই একে অ’পরকে চা’পে ফেলার জন্য উপরোক্ত “শ’ত্রুর শ’ত্রু আমা'র মি’ত্র” নীতি মেনে যতভাবে পারা যায়, ততভাবে অন্য দেশের মাধ্যমে এই চাপ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চালু রাখে। আমির খানের সিনেমা চিনে সুপারহিট হলেও, এবং ভারতের বাজার চিনা জিনিসে ছেয়ে গেলেও, এ জিনিস চলবেই। কিচ্ছু করার নেই।