দুর্নীতিবাজ কাউকে সাথে নিয়ে কাজ করবেন না ভিপি নুর ।

দুর্নীতিবাজ কাউকে সাথে নিয়ে কাজ করবেন না বলে জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর। বুধবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে ঢাবি ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে জোবাইক সার্ভিস ‘ডিইউ চক্কর’ এর যাত্রার উদ্বোধন হয়।

সেখানে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের উপস্থিতিতে তার উদ্দেশে জিএস গোলাম রাব্বানী বলেন, অজুহাত না দিয়ে ডাকসুকে অর্থবহ করতে আসুন এক সাথে কাজ করি।নুর বলেছেন, তিনি যদি আগে থেকে জানতেন ওই অনুষ্ঠানে গোলাম রাব্বানী থাকবেন তাহলে তিনি সেখানে উপস্থিত হতেন না।

এর আগে নৈতিক স্খলন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাব্বানীকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অপসারণ করা হলে ডাকসুর জিএস পদ থেকেও রাব্বানী অপসারণের দাবি করেছিলেন ভিপি নুর।

গত এক বছরে ৮বার ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের হা’মলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর।২০১৮ সালের ৩০ জুন থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তার উপর এ হা’মলাগুলো করা হয়। এমনকি কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় তাকে অ’স্ত্রসহ হু’মকি দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে থানা পুলিশ জিডি নেয়নি বলে অভিযোগ নুরের। আজ মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ডাকসু ভবনে নুরুল হক নূর তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব অভিযোগ করেন।নুরুল হক নুর বলেন, ‘এই পর্যন্ত ৮বার ছাত্রলীগের স’ন্ত্রা’সীদের হামলার শিকার হয়েছি। ২০১৮ সালের ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে মিডিয়ার উপস্থিতিতে আমার উপর প্রথম হা’মলা হয়।

যার ছবি আছে, সিসিটিভি ফুটেজ আছে। সেখানে ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আমাকে নি’র্মমভাবে মে’রেছে। একজনেরও বিচার হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার কারণে আমার রুমে এসে অ’স্ত্রসহ হু’মকি দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় জিডি করতে থানায় গিয়েছিলাম, সেখানে জিডিটা পর্যন্ত নেয়নি পুলিশ।

সুতরাং এই ধরণের যদি আইন থাকে তাহলে কিভাবে বিচার হবে?’নুর বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের পরও ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের দ্বারা আমি ৫বার হা’মলার শিকার হয়েছি। বগুড়াতে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে নি’র্মমভাবে হা’মলার শিকার হয়েছি। এমনকি আমার নিজ উপজেলাতেও। একটা ঘটনারও বিচার পর্যন্ত হয়নি।’

ছাত্রলীগ দেশব্যাপী স’ন্ত্রা’সী কার্যক্রম চালাচ্ছে অভি্যোগ করে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘এরা (ছাত্রলীগ) একটা নৈরাজ্য কায়েম করতে সারাদেশে মানুষের উপর দমন নি’পীড়ন চালাচ্ছে। এটি তাদের মূলদল নির্দেশনা দিয়েছে বলেই এ ধরণের বেপোরোয়া কার্যক্রম চালাচ্ছে। যদি সেটা না হতো তাহলে অন্তত্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্টখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপিকে পাঁচবার আ’ক্রমণ করার ফলে লোক দেখানো তো একটা ব্যবস্থা নেওয়া যেত, কিন্তু সেটাও করা হয়নি।

এর মধ্যে স্পষ্ট যে, তারা ভিন্নমতো দমন করতে ছাত্রলীগকে লাইসেন্স দিয়েছে।’ নুর আরো বলেন, ‘যতটা না ছাত্রসংগঠন তার চেয়ে বেশি স’ন্ত্রা’সী কার্যক্রম, টেন্ডার-চাঁ’দাবাজি। একটা ছাত্রসংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পর্যন্ত এই চাঁদাবাজির কারণে তাকে পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সুতরাং এই সংগঠনটা আজকে মানুষের কাছে কতটা প্রশ্নবিদ্ধ, বা মানুষের কাছে কতটা ইমেজ শঙ্কটে রয়েছে সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না।’