Home - প্রবাসী - প্রবাসীদের ঈদ আনন্দ-বেদনার; যেভাবে কাটছে পরিবার বিহীন প্রবাসীদের ঈদ!

প্রবাসীদের ঈদ আনন্দ-বেদনার; যেভাবে কাটছে পরিবার বিহীন প্রবাসীদের ঈদ!

ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে নতুন পোশাক। ঈদ মানে মায়ের কাছে যাওয়া। ঈদ মানে স্বজন আর বন্ধুদের মিলনমেলা, হৈ-হুল্লোড়, ঘুরে বেড়ানো। কিন্তু এবার সেই অনাবিল আনন্দের আবহ নেই। খুশির জোয়ারও নেই। সবকিছু থমকে গেছে। দেশে বিদেশে অনেকে মা’রা গেছেন। অনেকেই হাসপাতালে রোগ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। স্বজন হারানোর বেদনা সর্বত্র। এই বৈশ্বিক মহা’মা’রী পৃথিবী থেকে খনিকের জন্য যেন সব আনন্দ তুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু তবুও ঈদ এসেছে।

যারা করোনা মাথায় করে ঈদের কেনাকা’টা করেছেন, তারা অনলাইনেই বন্ধুদের কাপড়-মেকআপ দেখিয়ে দিতে পারেন। খামোখা বন্ধুর বাড়ি গিয়ে করোনা ছড়িয়ে লাভ নাই। ডিজিটাল এই দুনিয়ায় আপ্যায়ন, গল্প, ডেটিং, শুভেচ্ছা ও উপহার বিনিময় সবই চলতে পারে ভার্চুয়ালি। আমর'’া যারা দূর প্রবাসে থাকি এখানেও রোজা আসে, তারাবি হয়, ইফতার পার্টি হয়। সবকিছুই হয়।

কিন্তু কোনোভাবেই তা দেশের মতো না। দেশে যেমন রোজা শুরু হলেই একটা উৎসবের আমেজ তেরি হয়। কেনাকা’টা, ঈদের বোনাস, লাইটিং, ঈদ ফ্যাশন, ঈদ সংখ্যা পত্রিকা, টিভিতে ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠান, ঈদ পুনর্মিলনী, সিনেমা হলে নতুন সিনেমা মুক্তি পাওয়া কত কি। প্রবাসে এসব কিছুই নেই। প্রবাসে ঈদের দিনটা উইকএন্ডে হবে কিনা এই নিয়ে চলে গবেষণা। কারণ উইকডেতে হলে ঈদের দিন কাজে যেতে হবে। বাচ্চাদের যেতে হবে স্কুলে। দেশে যখন সবাই ঈদ উৎসবে মেতে থাকবে তখন প্রবাসে আমা’দের থাকতে হয় কর্মস্থলে। কখন ঈদের দিনটা চলে যায় টেরও পাওয়া যায় না।

বাসে-সাবওয়েতে বসে বা গাড়ির ড্রাইভিং সীটে হাত রেখে আর চোখের জলে বাবা-মা, ভাই-বোনদের কথা মনে পড়ে যায়। যারা বাবা-মাকে হারিয়েছেন বা হারিয়েছেন কোন আপনজনকে তাদের কথা বেশি বেশি মনে পড়ে এই দিনে। প্রবাসে অনেক সন্তান হারা মা লুকিয়ে কাঁদেন। তার যাদুসোনা আর ফিরবে না এই আনন্দের দিনে। যে যুবকটি তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে দেশে রেখে এসেছে, তার কি খুব কষ্ট হবে না! যাদের বৃ’'দ্ধ মা-বাবা, ভাই-বোন রয়েছে দেশে,

কোনো এক নির্জন মুহূর্তে সে-কি চোখের পানি ফেলবে না! বিশেষ করে প্রবাসী মেয়েরা ভীষণভাবে মিস করবে তার আ’ত্মীয়- পরিজনকে। কেউ কেউ ঈদের দিন কাজের মধ্যেই আনমনা হয়ে পড়বে। বাসে, সাবওয়েতে চলার সময় খুব গোপনে একটু কেঁদে নেবে। অনেকেই ঈদের দিন আপনজনদের ফোন করবে। সার্কিটগু'’লো ব্যস্ত হয়ে পড়বে। যে মায়ের একমাত্র মেয়ে বা একমাত্র ছেলে বিদেশ থেকে ফোন করবে সেই মা’র কণ্ঠ জড়িয়ে আসবে আবেগরু’'দ্ধ কান্নায়।

যে ব্যক্তি অনেকদিন তার স্ত্রী-সস্তানকে রেখে এসেছেন তার বুকটা কি ভেঙে যাব'’ে না! আনন্দ-বেদনার ঈদের নাম হচ্ছে প্রবাসের ঈদ। অনেক সীমাব’'দ্ধতার মধ্যেও নিজের মতো করে আনন্দ খুঁজে নেয় প্রবাসীরা। তারাও ঈদের নামাজ পড়ে, কোলাকুলি করে, বেড়াতে যায় বন্ধুর বাড়িতে। কিন্তু তারা প্রিয়জন থেকে অনেক অনেক দূরে।

তাদের শূন্যতা কিছু দিয়ে পূরণ হবার নয়। এই করোনার কারণে সৃষ্ট অভাব আমা’দের আবার স্মর'’ণ করিয়ে দিল ‘সাধ্যের বাইরে যে সাধ তা কোন কালে পূরণ হবার নয়, সাধ্যের মধ্যেই আছে সকল সত্য।’ আসুন সবাইকে স”''ঙ্গে নিয়ে বাঁচি। আর সেটাই হবে এই করোনা আ’ক্রা'’ন্ত পৃথিবীতে ভার্চুয়াল ঈদের আনন্দ।

Check Also

বাংলাদেশ সরকার তাদের কর্মীদের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন: মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী

বিদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মালয়েশিয়ার। দেশটিতে অসাধু নিয়োগকর্তাদের অত্যাচার থেকে অ'ভিবাসীদের রক্ষা করতে …