এইমাত্র শক্তিশালী ভূ’মিকম্পে কেঁ’পে উঠলো রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ ।

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে ভারতের মণিপুর রাজ্যে একটি মাঝারি পাল্লার ভূ’মিকম্প আ’ঘা'ত হে'নেছে। এতে কেঁ’পে উঠেছে ঢাকাও। আজ সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪২ মিনিটে এটি অ’নুভূ'ত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২।বাংলাদেশের ‘ভূ’মিক’ম্প বলতে আসলে বাংলাদেশ ও তৎসংল'গ্ন এলাকার ভূ’মিক’ম্পকে বোঝায়।

বাংলাদেশে গত প্রায় নব্বই বছরে বড় মাপের কোন ভূ’মিক’ম্প হয়নি। তবে ১৮৬৯ থেকে ১৯১৮ এই ঊনপঞ্চাশ বছরে (বর্তমান বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সীমন্তের খুব কাছাকাছি) বড় বড় চারটি ভূ’মিকম্প হয়েছিল। এখানে গত দেরশো বছরে বাংলাদেশ এবং এর আশেপাশে ৭ মাত্রার উপরে যেসব ভূ’মিক’ম্প হয়েছিল সেগু'লোর বর্ণনা দেয়া হচ্ছে:

তারিখ————-ভূমিকম্প উৎপত্তি স্থল——-মেগনিচুড(রিখটার স্কেল)

১০ জানুয়ারী ১৮৬৯—–শিলচড়—————৭.৫

১৪ জুলাই ১৮৮৫——–মানিকগন্জ———–৭.০

১২ জুন ১৮৯৭———-শিলং, মেঘালয়——–৮.৭

৮ জুলাই ১৯১৮———শ্রীম''ঙ্গল—————-৭.৩

২ জুলাই ১৯৩০———ধুবরী, আসাম———-৭.১

১৫ জানুয়ারী ১৯৩৪—–বিহার—————– ৮.৩

৩ জুলাই ১৯৩৪———ধুবরী, আসাম———-৭.১

১৫ আগস্ট ১৯৫০——-উত্তর আসাম———–৮.৫

তৎকালীন বৃটিশ শাসিত ভারতে জিওলজিক্যাল সারভে অভ ইন্ডিয়ার মহাপরিচালক থমাস ওল্ডহ্যাম (১৮১৬-১৮৭৮) প্রথমবারের মতো ভারতে ঘটিত ভূ’মিক’ম্প সমূহের ক্যাট্যালগ তৈরী করেন। তার ক্যাট্যালগে ৮৯৩ থেকে ১৮৬৯ সাল পর্যন্ত ভারতে ঘটিত ভূ’মিকম্প সমূহের উল্লেখ ছিল। পরবর্তীকালে তার পুত্র রিচার্ড ওল্ডহ্যাম (১৮৫৮-১৯৩৬) ক্যাটালগটি আরো সমৃ''দ্ধ করেন।

সেই ক্যাটালগে ১৮৬৯ সালের এবং ১৮৯৭ সালের ভূ’মিকম্প দুইটির বর্ণনা ছিল। শিলচড়, কাচার ১০ জানুয়ারী ১৮৬৯: এটি Cachar Earthquake নামে পরিচিত। ভূ’মিকম্পের উৎপত্তি স্থল শিলচড়, জৈন্তা পাহাড়ের উত্তর অংশে। জায়গাটি সিলেটের খুব কাছে। থমাস ওল্ডহ্যাম অঞ্চলটি সিলেটের অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।

ভূ’মিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৫। ভূ’মিকম্পটি ৬,৬৫,৬০০ ব:কি: এলাকা জুড়ে অনুভূ'ত হয়েছিল। সিলেটের পূর্বাঞ্চল, শিলচড়, নওগাং, ইম্পাল এলাকার অনেক কংক্রীটের কাঠামো সম্পূ’র্ণ ধ’ব্বংস হয়েছিল। প্রা’ণহানীর পরিমাণ ছিল অল্প, সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। মানিকগন্জ ১৪ জুলাই ১৮৮৫: এটি Bengal Earthquake নামে পরিচিত।

রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.০। ভূ’মিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মানিকগন্জ। অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষ’য়ক্ষ’তি হয়েছিল। প্রা’ণহানীর সংখ্যা জানা যায়নি। যমুনা নদীর উপর এই ভূ’মিকম্প ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। শিলং ১২ জুন ১৮৯৭: এটি Great Indian Earthquake নামে পরিচত। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৮.৭।

ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভূ’মিকম্প। ভূ’মিকম্পের উৎপত্তিস্থল শিলং, মেঘালয়। সরকারী হিসাবমতে এই ভূ’মিকম্পে প্র’ণহানীর সংখ্যা ১৫৪৩। এর মধ্যে সিলেটে ৫৪৫ জন, রাজশাহীতে ১৫ জন। এই ভূ’মিক’ম্পের উৎপত্তিস্থলের ৩০,০০০ বর্গ মাইলের মধ্যে অবস্থিত সমস্ত পাথরের এবং কংক্রী’টের দালান ধ’ব্বংস হয়েছিল।

এই ভূ’মিকম্পে সিলেটের দুই-তৃতীয়াংশ ঘর-বাড়ি বিধ্ব’স্ত হয়। ময়মনসিং এবং উত্তরাঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষ’য়ক্ষ'তি হয়। ঢাকা সহ পুরো বাংলাদেশে এই ভূ’মিকম্পের ফলে অ’বকাঠামোগত ক্ষ’তি হয়েছিল। অসংখ্য যায়গায় ফাটল সৃষ্টি হয়েছিল। সুরমা এবং ব্রক্ষ্মপুত্রের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল।

শ্রীম''ঙ্গল ৮ জুলাই ১৯১৮: এটি Srimongal Earthquake নামে পরিচিত। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.৬। ভূ’মিকম্পের উৎপত্তিস্থল শ্রীম''ঙ্গলের বালিছেড়া। এই ভূ’মিকম্পে শ্রীম''ঙ্গল এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ব্যাপক ক্ষ’য়ক্ষ'তি হয়েছিল। প্রা’ণহানীর খবর জানা যায়নি।

-আমা'দের প্রযুক্তি ডট কম