বিয়ের দাবিতে এবার প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিকের অবস্থান ।

এক যুগ ধরে প্রেমের সম্পর্ক, এরপরেও প্রেমিককে বিয়ে করতে রাজি নন এক তরুণী। এর প্রতিবাদে প্রেমিকার বাড়ির সামনেই অবস্থান নিয়েছেন তরুণ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় এ ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানায়, নরেন্দ্রপুরের গড়িয়া নবগ্রামের বাসিন্দা বাবু মণ্ডল। প্রায় ১২ বছর ধরে একই এলাকার তরুণী দেবযানীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার।

কিন্তু তাদের এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি দেবযানীর পরিবার। এরপরেও সম্পর্ক স্বাভাবিকই ছিল ওই যুগলের মধ্যে। হঠাৎ করে শেষ কিছুদিন ধরে ওই যুবককে এড়িয়ে চলতে শুরু করে দেবযানী। একাধিকবার এই বিষয়ে প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলেন বাবু। কিন্তু কোনো কিছুতেই পুরোনো সম্পর্ক জোড়া লাগাতে রাজি হননি ওই তরুণী। দেবযানী জানিয়ে দেন, তার পক্ষে বাবুকে বিয়ে করা সম্ভব নয়। এমনকি পরিবারের পছন্দে বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দেবযানী।

এদিকে প্রেমিকাকে ফিরে পেতে বুধবার দেবযানীর বাড়ির সামনে অবস্থান নেন বাবু। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবককে সরিয়ে দেয়। সেই সময় বাধ্য হয়ে ফিরে যান বাবু। পরে বৃহস্পতিবার সকালে ফের প্রেমিকার বাড়ির সামনে অবস্থান নেন ওই যুবক। এবারও পুলিশ তাকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু প্রেমিকাকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেই জানিয়েছেন বাবু। তবে এ বিষয়ে এখনো দেবযানী ও তার পরিবারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন… দেড় বছর আগে প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসেছিলেন মার্কিন নারী শ্যারন (৪১)। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ফরিদপুরের যুবক আশরাফ উদ্দিস সিংকুকে (২৭)। বিয়ের পর কয়েক দিন শ্যারন ফিরে যান নিজের দেশে। দীর্ঘ দিন পর সম্প্রতি আবার তিনি বাংলাদেশে এসেছেন।এবার এই দম্পত্তির বিয়ে উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বৌভাতের।

বুধবার জেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বৌভাতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় দুই শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, দুই বছর আগে ফেসবুকে সিংকুর সঙ্গে নিউইয়র্কের বাসিন্দা ব্যাংকার শ্যারনের (৪১) পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

সেই প্রেমের টানে ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন শ্যারন। এরপর ২০ এপ্রিল ঝাউখোলা গ্রামের আলাউদ্দিন মাতুব্বরের ছেলে সিংকুকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের কয়েকদিন পর শ্যারন আমেরিকায় ফিরে যান এবং সিংকু ও তার পরিবারকে কথা দিয়ে যান তিনি আবার বাংলাদেশে আসবেন।তবে বৌভাত অনুষ্ঠানে শ্যারনের কোনো আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন না।

বরের বাবা আলাউদ্দিন বলেন, বৌমা বাংলা কিছুটা বুঝতে শিখেছে। তার আচরণে মনেই হয় না সে ভিনদেশি কোনো নারী। পুত্রবধূকে ভালোবেসেই গ্রহণ করেছি। সিংকু বলেন, আমি শ্যারনকে খুব ভালোবাসি। ও আমাকে অনেক ভালোবাসে। বৌভাত হয়ে গেছে। ৮ অক্টোবর সে আমেরিকায় চলে যাবে। এরপর আমার কাগজপত্র ঠিক হলে আমিও চলে যাব আমেরিকায়। মার্কিন কনে শ্যারন বলেন, আমি বাংলাদেশকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি। আর ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবেই এই বিয়ে। সিংকুর হাত ধরে আমি সারাজীবন কাটাতে চাই।