রফতানি বন্ধ খবর পেয়ে পেয়াজের দাম বেড়ে কেজি ৯০ টাকা ।

পেঁয়াজের উৎপাদন সংকট দেখিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। আর এতে ভারতের অভ্যন্তরে পাইপলাইনে থাকা পেঁয়াজ বন্দরে প্রবেশ না করলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা বন্দরের আমদানিকারকদের। অন্যদিকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় প্রভাব পড়েছে পাইকারী ও খোলা বাজারে । কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কেজি প্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, আর এতে বিপাকে পড়েছেন বন্দরের পাইকাররা।

পেঁয়াজের উৎপাদন সংকট দেখিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধি করে দেয় ভারত সরকার। আর এরপর থেকেই বেশি মূল্যে পেঁয়াজ আমদানি করে আসছে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। এদিকে দুর্গাপূজা বন্ধের আগেই বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে ভারতে পর্যাপ্ত এলসি দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। তবে হঠাৎ করে ভারত সরকার আজ রোববার দুপুর থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতের অভ্যন্তরে পাইপলাইনে থাকা পেঁয়াজ গুলো দেশে প্রবেশ না করলে কয়েক কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে আমদানিকারকদের।

ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের কয়েক ঘণ্টার পরেই বন্দর এলাকায় বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। প্রকারভেদে কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। আর নতুন করে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন পাইকাররা ও সাধারণ ক্রেতারা।

পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা পর থেকেই পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ রয়েছে বন্দরের পেঁয়াজের আড়ৎ গুলোতে । রপ্তানিকারকদের অযুহাত দেখিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে আমদানিকারকরা। সূত্রঃ সময় টিভি।

আরো পড়ুন… শারদীয় দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা হিসেবে ভারতের উদ্দেশ্যে পাঠানো ৫০০ টন ইলিশের প্রথম চালান বেনাপোলে আটকা পড়েছে। রোববার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাওয়ার কথা ছিলো ইলিশের প্রথম চালান। তবে কাগজপত্র ঠিক না থাকায় বেনাপোল স্থলবন্দরেই আটকা পড়ে ২৪ মেট্রিক টন ইলিশ।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতে ইলিশের প্রথম চালান দুপুরে যাওয়ার কথা থাকলে মাছ রফতানির জন্য কেউ কোনো কাগজপত্র দপ্তরে জমা দেয়নি। তবে সোমবার সকালে কাস্টমস হাউজে কাগজপত্র দাখিল করা হবে বলে জানা গেছে।

ইলিশ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এমি এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মহিদুল হক বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১০ অক্টোবরের মধ্যে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, রোববার বিকেলে ছয় ট্রাক মাছের মধ্যে মাত্র এক ট্রাক মাছ আমরা হাতে পেয়েছি। আজ রাতের মধ্যে আরও পাঁচ ট্রাক মাছ আসার কথা আছে। সোমবার সকালে মাছ রফতানির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমরা কাস্টমসে দাখিল করব। তারপর মাছ রফতানি হবে। প্রতি কেজি ইলিশ ছয় ডলার মূল্যে রফতানি করা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশি টাকা প্রতি কেজির দাম পড়বে ৫০০ টাকা। ভারত ও বাংলাদেশ দু’দেশের কাস্টমস থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলিশের এ চালান ছাড় করা হবে।

ইলিশ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার গাজীপুরের একুয়াটিক রিসোর্ট লিমিটেড। আমদানিকারক ভারতের কলকাতার নাজ ইমপেক্স প্রাইভেট লিমিটেড। বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো সুপার নাসিদুল হক বলেন, রোববার ইলিশ রফতানির কথা ছিল। কিন্তুু ইলিশ রফতানির কোনো কাগজপত্র সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কেউ আমাদের কাছে জমা দেয়নি। মাছের ট্রাকও আমাদের কাগজপত্র দেয়নি। তবে সোমবার সকালে এসব কাগজপত্র দাখিলের কথা রয়েছে। কাগজপত্র দাখিল করলে ইলিশের চালানটি ছাড়া হবে।

প্রসঙ্গত, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ টন ইলিশ মাছ রফতানির সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। যদিও ২০১২ সালের আগ পর্যন্ত ভারতে ইলিশ রফতানি করা হতো। তবে দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০১২ সালের পর ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধ করে দেয় সরকার। সাত বছর পর পূজা উপলক্ষে ফের ইলিশ রফতানি শুরু হবে।