পাবনায় প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী ।

পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে চারদিন ধরে নি’খোঁজ প্রবাসীর স্ত্রী। অনামিকা (২০) নামে ওই গৃহবধু পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের দ্বীপচর বিশ্বাস পাড়ার প্রবাসী ইয়াসিন হোসেন বাবুর স্ত্রী ও একই গ্রামের আনসার আলী বিশ্বাসের মেয়ে। ওই গৃহবধুর ৩ বছরের ১টি ছেলে সন্তান রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ ঘটনায় অনামিকার বাবা ও শ্বশুর পক্ষের লোকজন একে অপরকে দায়ি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে ঘটনাটি পরকীয়াজনিত বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছেন। নি’খোঁজের মামা জাহিদুল ইসলাম পল্লব জানান, ৫ বছর আগে অনামিকার সাথে তাদের গ্রামেরই নজরুল ইসলাম আঙ্গুর’র ছেলে ইয়াসিন হোসেন বাবুর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরই ইয়াসিন কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে চলে যায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনামিকা শ্বশুর বাড়ি থেকে নি’খোঁজ হন।

এরপর অনামিকার বাবা ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় অনামিকার মামা ওই দিন রাতেই বাদি হয়ে মেয়ের শশুর বাড়ির লোকজনকে দায়ি করে অভিযোগ দায়ের করেন। আর গৃহবধূর শ্বাশুরি হসিনা খাতুন ঘটনার পরদিন থানায় সাধারন ডায়েরি করেন।এ ব্যাপারে পাবনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত গৃহবধূকে উদ্ধার করা যায়নি। তবে পুলিশ সতর্কতার সাথে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

আরো পড়ুন… তিন সন্তানের জননীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাসেল মিয়া। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। বিবাহিত হওয়ার পরও প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করে এখন উভয় সংকটে পুলিশ কর্মকর্তা রাসেল। এ ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রবাসী মো. কবির হোসেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে সদর উপজেলার ক্ষুদ্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্রামে বিয়ে করেন কবির হোসেন। তাদের ঘরে রয়েছে তিন শিশুসন্তান। ২০১৭ সালের ২ আগস্ট সৌদি আরবে পাড়ি জমান কবির। ২০১৮ সালে কবিরের শ্যালক সাব্বিরের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আনতে গিয়ে সদর মডেল থানা পুলিশের এএসআই রাসেল মিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় কবিরের স্ত্রীর। পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অ’বৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন রাসেল।

কবিরের অভিযোগ, আমার স্ত্রীকে বিয়ে করে পুলিশ কর্মকর্তা রাসেল শহরের কলেজপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। প্রবাসে থাকাকালে স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১১ লাখ ১৩ হাজার টাকা পাঠাই। সেই টাকা নিয়ে রাসেলের সঙ্গে চলে গেছেন স্ত্রী।জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ে করেন দুই সন্তানের জনক রাসেল। প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর দ্রুত নোয়াখালী জেলায় বদলি হন রাসেল। তবে ঘটনার খবর পেয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে ছুটে আসেন প্রবাসী কবির। এরপর সংসার ভাঙার বিচার নিয়ে হাজির হন জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে।

কবির বলেন, বিয়ের পর থেকে পর্দানশীল ছিল আমার স্ত্রী। কিন্তু প্রবাসে থাকার সময় সেই স্ত্রীর বেসামাল ছবি দেখতে পাই। স্ত্রী সি’গারেট টানছেন, ম’দের বোতল বিছানায় ছড়ানো। এমন ছবি আমার কাছে পাঠানো হয়। বিদেশে যাওয়ার সময় শ্বশুরবাড়ি কান্দিপাড়া এলাকায় স্ত্রী-সন্তানকে রেখে যাই। কিন্তু রাসেলের সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার পর কান্দিপাড়া ছেড়ে কলেজপাড়ায় বাসা ভাড়া নেয় স্ত্রী।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রবাসে থাকাকালে গত ৫ মে কবিরকে তালাক দেন স্ত্রী। তালাকের নোটিশ আগস্ট মাসে সৌদি আরবে কবিরের হাতে পৌঁছে। এরই মধ্যে রাসেলকে বিয়ে করেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রবাসীর স্ত্রী বলেন, আগের স্বামীর সঙ্গে গত দুই বছর ধরে বনিবনা ছিল না। আমি যদি কবিরের সংসার না করি তাহলে আরেকজনকে বিয়ে করার অধিকার আমার আছে। রাসেল পারিবারিকভাবে আমার পরিচিত। তার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মানুষ নানা কথা বলছে। সে কারণে রাসেলকে বিয়ে করেছি।তিনি আরও বলেন, সংসার করা এই বিয়ের উদ্দেশ্যে নয়। যদি সংসার করার ইচ্ছা থাকতো তাহলে তার সঙ্গে নোয়াখালী চলে যেতাম। আমি জানি তার বউ-বাচ্চা আছে। এরপরও তাকে বিয়ে করেছি।

তবে নিজেকে পরিস্থিতির শিকার দাবি করে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাসেল মিয়া বলেন, বিয়ে না করলে ঝামেলা হবে বলেই বিয়ে করতে হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।