নি”র্মাণের ৪০০ বছর পরও সৌ’ন্দর্যের আ’লো ছ’ড়াচ্ছে তুর’স্কের নীল ম’সজিদ ।

তু’রস্ক এবং ব্লু মসজিদ এক ও অ’ভিন্ন। ব্লু বা নীল মসজিদের নাম উচ্চারণের সাথে সাথেই আসে তুরস্ক আর তার ঐ’তিহাসিক ইস্তাম্বুুল শহরের কথা। ব্লু মসজিদ যেন ইস্তা’ম্বুল তথা গোটা তু’রস্কেরই প্রতীক।

এর নাম আসলে সুলতান আহমেদ মসজিদ। মসজিদের ভেতরে হাতে আঁকা টাইলসের মোহনীয় নীল কারুকাজের জন্য ব্লু মসজিদ বা নীল মসজিদ নামে পরিচিত। এ ছাড়া দিনের বেলায় শত শত রঙিন কাচের জানালা আর রাতে মসজিদের প্রধান পাঁচটি গম্বুজসহ মোট ১৩টি গম্বুজ ও ছয়টি মিনার থেকে নীল আলোর বিচ্ছুরণে তৈরি হয় মোহময় পরিবেশ।

মসজিদটির নির্মাণ কাল ১৬০৯ থেকে ১৬১৬ সালের মধ্যে প্রথম আহমেদের শা’সনাম’লে। এর পাশেই অবস্থিত তুরস্কের আরেক জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হাজিয়া সোফিয়া জাদুঘর যা প্রথমে গির্জা, পরে মসজিদ ছিল। ৪০০ বছর পরও তুরস্কের ব্লু মসজিদ আজো পৃথিবীর সুন্দর মসজিদের স্থা’নে গৌরবের সাথে তা’লিকাভু’ক্ত হয় নানা কা’রণে।

এর ঐহিহাসিক গুরুত্ব, ধাপে ধাপে (কাসকেডিং) সাজানো গম্বুজ, ছয়টি মিনার, বিশাল সাহান, উচ্চ মূল্যবান সিলিং, অনেক দূর থেকেও দৃশ্যমান হওয়া, গাছাগাছালি ঘেরা এর চারপাশের বিশাল খোলামেলা পরিবেশ, পার্র্ক সাজানো রাস্তা, বাড়িঘর, নীল জলাধাররের ফোয়ারা, মসজিদের অভ্যন্তরীণ হাতের কাজ সব মিলিয়ে ইংরেজিতে প্লেস অব ম্যাজিক অ্যান্ড ওয়ান্ডার হিসেবে পরিচিত এ মসজিদ।

বাইজানটাইন শাসকদের প্রাসাদের পাশে হাজিয়া সোফিয়া মসজিদের সামনে অবস্থিত ব্লু মসজিদ। এ মসজিদের আশপাশে রয়েছে আরো অনেক ঐতিহাসিক স্থা’পনা। এক সময় এলাকাটি বাইজানটাইন শা’সকদের রা’জপ্রা’সাদ ছিল এবং এর বি’শাল খোলা পরিবেশ দী’র্ঘকাল পরও বজায় রাখতে স’ক্ষম হয়েছে তুু’রস্ক ক’র্তৃপক্ষ।

দেয়াল, গম্বুজ, সিলিং, খুঁটির বাহারি কারুকাজ, মোহনীয় রঙের ব্যবহার, মসজিদের বিশালত্ব, পুরনো দিনের বিশালকায় দেয়াল, সাহানের মাঝে ঝর্ণা, রঙিন কাচের ২০০ জানালা, মসজিদের উপরিভাগে হাতে করা কারুকাজের ২০ হাজার সিরামিক টাইলস, কুরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফি, স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য, প্রভৃতি যেমন এ মসজিদের সৌন্দর্যের উৎস তেমনি একে বি’শেষত্ব দা’ন করেছে এর বাইরের পরিবেশ। মারমারা সাগরের নীল জলরাশির পাশে এর অ’বস্থানও মসজিদটির ব্লু বা নীল নামের সা’র্থকতা ব’হন করছে।

এটিকে শুধু মসজিদ বললে ভু’ল হবে। দী’র্ঘকাল ধরে তুরস্কের অন্যতম প’র্যটন কে’ন্দ্রে প’রিণত হয়েছে এ মসজিদ। মুসলমান ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের হাজার হাজার লোকজন প্রতিদিন এ মসজিদ দেখতে আসেন। মসজিদের ভেতরে ঘুরে দেখার ব্য’বস্থা রয়েছে প’র্যটক’দের জন্য। তু”রস্কে সফরে গিয়ে এ মসজিদ না দেখে ফিরেছেন এমন লোক স’ম্ভবত খুব কম। মসজিদের মু’সল্লি ধা’রণ ক্ষ’মতা ১০ হাজার। দৈর্ঘ ২৪০ ফুট, প্রস্থ ২১৩ ফুট, প্রধান গম্বুজের উচ্চতা ১৪১ ফুট। মিনারের উচ্চত ২১০ ফুট।