যে কারণে বাংলাদেশের পাওনা টাকা দিচ্ছে না কিম জং উনের উত্তর কোরিয়া- ফাঁস হয়ে গেলো গোপন খবর, বিপাকে…

প্রায় ২৬ বছর আগের ঋণ এখনো শোধ করেনি উত্তর কোরিয়া। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের কাছ থেকে কেনা বিভিন্ন সামগ্রীর মূল্য ১১ দশমিক ৬২ মিলিয়ন মা'র্কিন ডলার এখনও পরিশোধ করেনি উত্তর কোরিয়া। গত শনিবার (২৭ জুন) সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডসের এক প্রতিবেদনে জানায়, ২৬ বছর আগে সোনালী ব্যাংকের স''ঙ্গে বার্টার চুক্তির আওতায় পণ্য আম'দানি করে উত্তর কোরিয়া।

ওই পাওনা টাকার জন্য চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বাংলাদেশি দূতাবাস উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের স''ঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করেছে। তবে এখনো উত্তর কোরিয়া এই বি'ষয়ে কিছুই জানায়নি। উত্তর কোরিয়া বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য আম'দানি করেছিল সেগু'লো হলো- চাল, সিমেন্ট, চা, পাট ও পাটজাত পণ্য, ইউরিয়া সার, পশুর চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, সাবান, ডিটারজেন্ট, টয়লেট্রিজ এবং গ্লিসারিন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিলটি সুরক্ষিত করার জন্য সরকারি মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন ডিভিশনের (এফআইডি) হস্ত'ক্ষেপ কামনা করেছে। ১৯৭৭ সালের ১২ আগস্ট বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম বার্টার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির আওতায় সোনালী ব্যাংককে বাংলাদেশের পক্ষে এবং বিদেশি বাণিজ্য ব্যাংককে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, বার্টার ৫ চুক্তির আওতায় উত্তর কোরিয়া বাংলাদেশ থেকে ৬.১৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনেছিল। কিন্তু ওই পণ্য কেনার সময় কোনো মূল্য পরিশোধ করেনি দেশটি। বার্টার ৫ এর পুরো বকেয়াগু'লি বার্টার ৬ এ স্থানান্তরিত হয়েছিল, যা ১৯৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর স্ট্যান্ডিং ৬.২৬ মিলিয়ন ডলারে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ১৯৯৫ সালের ৩১ মা'র্চ কোনো লেনদেন ছাড়াই বার্টার ৬ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

এরপর থেকে বেইজিংয়ে বাংলাদেশি দূতাবাস চীনের উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসের কাছে বাকি বকেয়া পরিশোধের জন্য কয়েকবার যোগাযোগ করে। তবে ২০২০ সাল পর্যন্ত কোনো উত্তর দেয়নি কিম জং উনের দেশ। ১৯৯৪ সালে বার্টার ৬ চুক্তির স্বাক্ষরের পরে দুই ব্যাংকই স্ব স্ব দেশগু'লির পক্ষে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এই আন্তঃব্যাংক চুক্তিতে তিন মাসের ডলার এলআইবিওর হারে সুদ আ'দায়ের বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০১৪ সালের মধ্যে দেনার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৬২ মিলিয়ন মা'র্কিন ডলার। সে বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোনালী ব্যাংক যাতে তার পাওনা পেতে পারে সেজন্য যথাযথ উদ্যোগ নিতে চীনের বাংলাদেশি দূতাবাসের বাণিজ্যিক পরামর'্শদাতাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। এরপর, বাংলাদেশ দূতাবাস চীনে উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসকে চিঠি দিয়ে বিলটি পরিশোধের জন্য অনুরোধ করেছে। তবে কোনো লাভ হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো জবাব দেয়নি উত্তর কোরিয়া। তবে করো'নার সময়ে এই ঋণ শোধের বি'ষয় আরও বিলম্ব হলেও 'হতে পারে।সূত্রঃ প্রবাস কথা