কাজ করতে প্রবাসেঃ মারা গেলে ৩ লাখ টাকা অনুদান ।

ভাগ্য বদলের আশায় বিভিন্ন দেশে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় কর্মস্থলেই প্রাণ হারান প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এরপর তাদের মরদেহ দেশে আনা নিয়ে শুরু হয় পরিবারের উৎকণ্ঠা। তবে সরকারিভাবেই এসব মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা রাখা আছে। মরদেহ পরিবহন ও দাফনের জন্য দেয়া হয় ৩৫ হাজার টাকা। এছাড়া এসব মারা যাওয়া কর্মীর পরিবারকে ৩ লাখ টাকা অনুদান দেয় সরকার।জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের ১৬০টি দেশে এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত আছেন।

দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন এসব প্রবাসীরা। তবে বিভিন্ন কারণে অনেক সময় প্রবাসেই মৃত্যু হয় তাদের। মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশি কর্মীর মরদেহ তার পরিবারের মতামত সাপেক্ষে দেশে আনার উদ্যোগ নেয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মোট ৩ হাজার ৭৯৩ জন বাংলাদেশি কর্মীর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। এরমধ্যে বৈধ কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬৭৬ জন।

আর অবৈধভাবে কর্মরত কর্মীর সংখ্যা ১১৭ জন।এর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে আসে ৩ হাজার ৩৫৩ জনের মরদেহ। এছাড়া চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে ৩৭৪ ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে আসে ৬৬ জনের মরদেহ।এছাড়া ২০১৭ সালে ৩ হাজার ৩৮৭জন, ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৪৮১ এবং ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮৩১ জনের মরদেশ দেশে আনা হয়।এসব কর্মীর বেশিরভাগেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। অধিকাংশ মরদেহ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মরদেহ এসেছে সৌদি আরব থেকে। এ তালিকায় সৌদি আরবের পরই রয়েছে মালয়েশিয়া।

জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় কেউ মারা গেলে মরদেহ দাফনের ব্যাপারে পরিবারের মতামত নেয়া হয়। পরিবার যদি সংশ্লিষ্ট দেশে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তাহলে সেদেশেই তাকে দাফনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আর যদি পরিবার মরদেহ দেশে দাফনের জন্য মতামত দেয় সেক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে থাকেন।যদি কারো মরদেহ দেশে পাঠাতে নিয়োগকর্তা খরচ বহনে অপারগতা প্রকাশ করে বা মৃতের পরিবার দেশে আনার খরচ বহনে অক্ষম হয় তাহলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিলের অর্থায়নে মরদেহ দেশে আনা হয়। এছাড়া অবৈধ হয়ে যাওয়া কর্মীদের মরদেহও দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে আনার ব্যবস্থা করে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।

জানা যায়, বিমানবন্দরে আসার পর পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহ পরিবহন ও দাফনের খরচ বহনের জন্য ৩৫ হাজার টাকার চেক দেয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।মরদেহ হস্তান্তরের পরই ৩ লাখ টাকা অনুদান দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। যারা ছুটিতে এসে দেশে মৃত্যুবরণ করেন তাদের পরিবারকেও এ অনুদান দেয়া হয়। তবে যারা অবৈধভাবে বিদেশে যান বা বিদেশে গিয়ে অবৈধ হয়ে যান তাদের পরিবারকে এ অনুদান দেয়া হয় না।এ বিষয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, যারা বিদেশে মারা যায় তাদের পরিবারকে বিমানবন্দরে ৩৫ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়। এ টাকা বৈধ এবং অবৈধ সব কর্মীর পরিবারকেই দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, এরপর বিমানবন্দরে মরদেহ হস্তান্তরের পরই ৩ লাখ টাকা অনুদান দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে বৈধভাবে যারা বিদেশে গেছেন বা ছিলেন তাদের পরিবারকে ব্যাংকের মাধ্যমে এ অর্থ প্রদান করা হয়। মরদেহ আনার বিষয়ে তিনি বলেন, যে কোম্পানিতে চাকরি করেন সে কোম্পানিই তার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে থাকে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, ওই প্রবাসী কোম্পানি ছেড়ে অন্য কোম্পানিতে গিয়ে অবৈধ হয়ে যায়। তখনতো তার দায়িত্ব কোম্পানি নেয় না। এমন কর্মী মারা গেলে তার মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা আমরাই করি। অনেক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে আনা হয়। এসব ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে থাকি।