ফেঁসে যাচ্ছেন মডেল-নায়িকারাঃ ৫০ জনের তালিকা দিলো জি কে শামীম ।

ক্যা সিনো সাম্রাজ্যে গ্রেফতার হওয়া জি কে শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। টেন্ডার বাগাতে ভিআইপিদের মডেল ও নায়িকা সরবরাহ করতেন তিনি।তাকে জিজ্ঞাসাবাদে অন্তত ৫০ জন মডেল ও নায়িকার একটি তালিকা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে।

খবরে বলা হয়েছে, বড় বড় টেন্ডার বাগিয়ে আনতে নানা কৌশল ব্যবহার করেছেন শামীম। বস্তাভর্তি টাকায় কাজ না হলে সুন্দরীদের ফাঁদ পাততেন। এ কারণে তার দরবারে সারাক্ষণ সুন্দরী তরুণীদের আনাগোনা দেখা যেত।

খবরে বলা হয়েছে, নাটক, সিনেমার পরিচিত মুখ, নায়িকা ও মডেলকে মনোরঞ্জন থেকে শুরু করে টেন্ডার বাগিয়ে নিতে ব্যবহার করতেন শামীম। উচ্চপদস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তার নিয়মিত আবদার ছিল, শুধু টাকা দিলেই হবে না, চাই উঠতি বয়সের নায়িকার সঙ্গ। কর্মকর্তাদের কাছে দীর্ঘ তালিকা পাঠাতেন শামীম।

ছবিসহ সেই তালিকা দেখেই বাছাই করে নিতেন মডেল, নায়িকাদের। একইভাবে প্রভাবশালী নেতাদের খুশি করতেও মডেল, নায়িকাদের পাঠানো হতো ফ্ল্যাটে-তারকা হোটেলে। দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়া হতো তাদের।রি;মান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশের কাছে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে জি কে শামীম ও যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। শামীমের সঙ্গে সখ্য অর্ধশতাধিক সুন্দরী তরুণীর। এর মধ্যে এক ডজনেরও বেশি পরিচিত নায়িকা ও মডেল।

অ বৈধভাবে গড়ে ওঠা ক্যাসিনোতে পুলিশের সাঁ ড়াশি অ’ভিযানে ধরা পড়েছেন ক্যাসিনো মালিকরা। তবে সে অ’ভিযানের ধাক্কা এসে লেগেছে সিনেমা পাড়াতেও। উচ্চারিত হচ্ছে চলচ্চিত্র জগতের অভিনেত্রীদের নাম। জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল সারাবাংলা ডটনেটের প্রতিবেদক রেজওয়ান সিদ্দিকী–এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

পুলিশের হাতে আ টক ক্যা’সিনো মালিক ও টে’ন্ডারবাজ জি কে শামীম গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, টে’ন্ডার পেতে চলচ্চিত্রের নায়িকাদের ব্যবহার করতেন তিনি! এতেই নড়েচড়ে বসেছে চলচ্চিত্র অঙ্গন।যদিও গণমাধ্যমে কোনও নায়িকার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে আকার ইঙ্গিতে কিছু নাম উঠে আসছে। বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী রত্না, এ প্রজন্মের নায়িকা মিষ্টি জান্নাত, রাহা তানহা খান ও শিরিন শীলার নাম এখন ঘুরে ঘুরে উচ্চারিত হচ্ছে অনেকের মুখে।

তবে তাদের মধ্যে রত্না, মিষ্টি জান্নাত ও রাহা তানহা খান কথা বলেছেন। আ ত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, তারা কেউ জি কে শামীম নামে কাউকে চেনেন না। রত্না বলেন, ‘প্রতিবেদনে আমার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে যেসব বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা কিছুটা আমার সঙ্গে মিলে যায়। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমি সিনেমায় এসেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি—এরকম বেশ কিছু তথ্য মিলে যাচ্ছে। তাই অনেকে মনে করছেন আমি সেই। আমি জি কে শামীম নামে কাউকে চিনি না।

তিনি আরও বলেন, আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, আমি কোনো রকম অ’বৈধ কাজে কখনো জড়িত ছিলাম না। কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারেন তাহলে যে শা’স্তি দেওয়া হবে আমি মাথা পেতে নেবো। আমি আমার জায়গা থেকে সৎ। সততার সঙ্গে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছি।রত্না জানান, প্রকাশিত প্রতিবেদনে যাদের নাম ই ঙ্গিত করা হয়েছে তাদেরও উচিত এটা নিয়ে স্টেটমেন্ট দেওয়া, যদি তারা সৎ থাকেন। তাতে করে তদন্তে সত্যটা বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে মিষ্টি জান্নাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভি;যোগকারিদের ওপর ক্ষো’ভ প্রকাশ করেন। তিনি ভিডিও প্রমাণ চেয়েছেন। মিষ্টি কিছুটা তেতো ভাষায় বলেন, ‘আমি মিষ্টি কখনো এসব কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। যারা এসব রটিয়ে রেড়াচ্ছে তারা খুব খারাপ মানুষ। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করছে। আমি অভিযোগকারিদের বলব, আপনারা যদি ভালো মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে দয়া করে ভিডিওসহ প্রমাণ দিন। আর যদি না দিতে পারেন তাহলে আমি তখন অ্যাকশন নেবো।’

মডেল ও অভিনেত্রী রাহা তানহা খানের মতে, নিজেদের দো ষ ঢাকার জন্য অনেকেই নায়িকাদের নাম ব্যবহার করেন। তার ভাষ্য, কেউ কোথাও ধ রা পড়লে সেখানে নায়িকার নাম জুড়িয়ে দেন। এটা এর আগেও হয়েছে। এটা একদম ঠিক না। ধরুন আমি একজনকে চিনি, পরে যদি সে অপ রাধ করে পুলিশের হাতে ধরা পরে এবং আমার নাম বলে তাহলে আমি কি অপরা ধী হয়ে গেলাম? নায়িকা হওয়ায় অনেক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে পারে। সেলফি তুলতে পারি। তাই বলে সেই লোকের অপ’রাধের দায় আমার না।

এসময় তিনি জি কে শামীমকে চেনেন না বলে জানান। রাহা বলেন, জি কে শামীম নামে আমি কখনো কাউকে চিনতাম না। নামই শুনিনি কোনোদিন। যদি চিনতাম তাহলে বলতে পারতাম। এখন যদি কেউ আমার নাম জড়িয়ে দেয় তাহলে আমার কিইবা করার থাকে! তিনি আরও বলেন, আমাদের পেছনে অনেক কোটিপতি ব্যক্তিরা ঘোরে। ঘুরতেই পারে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য জি কে শামীমের মতো দালালের প্রয়োজন হয় না। গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে সেটা ভিত্তিহীন। আমি কখনো কারও অ’বৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। অন্যদিকে এ বিষয়ে শিরীন শিলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সূত্র : সারাবাংলা ডটনেট।