নেপালিদের পালাতে সহায়তাকারীর পরিচয় মিলেছে ।

রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলার সময় সেগুনবাগিচার একটি ভবন থেকে ১৫ নেপালিকে পুলিশ পরিচয়ে পালাতে সহায়তাকারী তিনজনের একজনকে ‘শনাক্ত’ করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি রমনা থানার কনস্টেবল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

নেপালিদের পালাতে সহায়তা করার বিষয়টি পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত করছে বলে জানিয়ে রমনা অঞ্চলের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি তাদের একজন রমনা থানার কনস্টেবল দিপঙ্কর চাকমা। তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং ছুটির পর তিনি থানায় যোগ দেননি। এ কারণে তাকে সাসপেন্ড করে কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যদিও অনেকেই বলেছে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া ব্যক্তি দিপঙ্কর, তবে তিনি অফিসে না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে এটা বলা যাবে না।

প্রসঙ্গত, ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ফকিরাপুলের ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র এবং বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওইদিনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১০টা ৩৯ মিনিটে সেগুনবাগিচার সামিট হাসান লজ ভবনে পুলিশ পরিচয়ে প্রবেশ করেন তিন ব্যক্তি। তাদের পরনে পুলিশের পোশাক না থাকলেও, কাছে ওয়াকিটকি ছিল।

ভবন ত্যাগের আগে তারা সেখানে ৫০ মিনিট মতো অবস্থান করেন। যাওয়ার সময় তাদের একজনের হাতে একটি ব্যাগ ছিল বলে দেখা যায় সিসিটিভি ফুটেজে। এর কিছুক্ষণ পরেই ওই ভবনে থাকা ১৫ নেপালিকে ভবন থেকে বের হতে দেখা যায়।

একাধিক রাজনৈতিক নেতাকে প্রতি মাসে ২৫ কোটি টাকা দিতেন গ্রে’ফতার হওয়া যুবলীগ নেতা ও প্রভাবশালী ঠিকাদার জি কে শামীম। যাদের পকেটে এই টাকা যেত, তারা তাকে কাজ পাইয়ে দিতে সহায়তা করতেন।তবে লাভ-ক্ষতি যাই হোক প্রতি মাসে ওই অঙ্কের টাকা দেওয়াটা ছিল বাধ্যতামূলক।

জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এমন তথ্যই জানিয়েছেন শামীম।তিনি বলেছেন, নেপথ্যে থেকে কিছু রাজনৈতিক নেতা নিয়মিত তাঁর টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির টাকার ভাগ পেতেন। কার কাছে কীভাবে ওই টাকা পৌঁছে দিতেন তা বিস্তারিত তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে ধরেন।

এই তালিকায় মন্ত্রী-এমপিসহ অনেকের নাম রয়েছে। শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদে ও তাঁর ফোনের কললিস্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সদস্যরা।শামীম আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলীকে ১২শ’ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। টাকা না দিলে ওই প্রধান প্রকৌশলী বিল আটকে দিতেন।

এত টাকা দিয়ে লাভ করবো কীভাবে।এ জন্য অনিয়মের আশ্রয় নেন। আলোচিত জি কে বিল্ডার্স কোম্পানির বালিশকান্ড ঘটানোর পেছনেও এটি অন্যতম কারণ বলে শামীম জানিয়েছেন।তিনি নিজেই কমিশনের অর্থবণ্টন করতেন। অধিকাংশ সময় নগদ টাকা দিতেন। মাঝেমধ্যে শামীমের দু’জন বিশ্বস্ত সহযোগীর মাধ্যমেও কমিশনের টাকা পৌঁছে দেওয়া হতো।

জিজ্ঞাসাবাদে শামীম স্বীকার করেন, ঢাকার বাসাবো ও নিকেতনে তাঁর অন্তত পাঁচটি বাড়ি রয়েছে। রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট আছে। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় তার বাড়ি রয়েছে। শামীম দাবি করেছেন, ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অনেক শত্রু হয়েছে তাঁর। তাই সব সময় একাধিক অ’স্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়ে চলতেন।কেবল পেশিশক্তি আর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে নয় জি কে শামীম শোবিজের তারকাদেরও ব্যবহার করতেন ব্যবসায়িক হাতিয়ার হিসেবে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে জি কে শামীম স্বীকার করেছেন যে, শোবিজের জনপ্রিয়, পরিচিত ৭ তারকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। তাঁদেরকে তিনি ব্যবহার করতেন। বিভিন্ন কাজের জন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে এইসমস্ত মডেলদেরকে তিনি পাঠাতেন। মা’দক এবং অ’স্ত্র মামলায় আটক জি কে শামীমকে এখন রি’মান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন।

তাঁর যে টেন্ডার সাম্রাজ্য তাঁর উত্থানের আদ্যোপান্ত বর্ণনা দিচ্ছেন। একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রি’মান্ডে জি কে শামীম বলেছেন যে কেবল পেশিশক্তি, অ’স্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রভাব নয়, ঘুষ এবং নারীদেরকেও ব্যবহার করতেন তাঁর কাজ পাওয়ার জন্য।একসময় যুবদল করা মির্জা আব্বাসের ক্যা’ডার ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে যুবলীগের সদস্যপদ গ্রহণ করেন। সমাজসেবা সম্পাদক পদও পান।যদিও যুবলীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, জি কে শামীম যুবলীগের নেতা নন। কিন্তু তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুবলীগের নেতা হোন না হোন যুবলীগের পরিচয় যে তিনি ব্যবহার করতেন তা নিয়ে সন্দেহ নেই গোয়েন্দাদের।

তাঁর কাছে যুবলীগের পরিচয় ব্যবহার করা কার্ডও পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম বলেছেন, সিনেমা জগতের জনপ্রিয় তিন নায়িকা, নাটক এবং মডেলিং জগতে জনপ্রিয় চারজন অভিনেত্রীর জি কে শামীমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।তবে এই সমস্ত মডেল এবং তারকাদের জি কে শামীম ব্যবহার করতেন কাজ পাওয়ার জন্য তাঁর অফিসে বা পাঁচ তারকা হোটেলে তিনি তাঁদেরকে নিয়ে যেতেন, সেখানে সরকারী কর্মকর্তা বা প্রভাবশালীদের সঙ্গে তাদের সখ্যতা তৈরি হত।প্রভাবশালীরা ওইসমস্ত মডেল এবং তারকাদের নিয়ে সময় কাটাতেন।

এরফলে তাঁর টেন্ডার পাওয়া বা প্রভাব বিস্তার করা অনেক সহজ হতো। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে যে, এইসমস্ত শোবিজের তারকা এবং মডেলদের নাম ঠিকানা সবকিছু তাদের হস্তগত হয়েছে।তবে তদন্ত স্বার্থে তারা কারা কারা এই সমস্ত মডেল এবং তারকা ছিল তাদের নাম প্রকাশ করছে না। তবে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র বলছে যে, জি কে শামীমের সব বক্তব্যই যে সত্য এমনটি নয়। তারা পরত্যেকটি বক্তব্য পুনঃতদন্ত করবে এবং যাচাই বাছাইয়ের পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।সুত্রঃ কুমিল্লার বার্তা