এই সেই আ’বাবিল পা’খি, যার কথা প’বিত্র কো’রআনে ব’লা হ’য়েছে ।

মক্কা নগরীতে অবস্থিত কাবা শরীফের ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্য ও পবিত্রতায় মুগ্ধ হয়ে মানুষ যখন দলে দলে কাবা ঘরের দিকে আসতে থাকে তখন ইয়েমেনের রাজা আব্রাহা ঈর্ষাণিত হয়ে কাবা ঘর ধ্বংস (নাউজুবিল্লাহ) করার পরিকল্পনা করেন। আব্রাহা এই উদ্দেশ্যে ৬০ হাজার সৈন্য ও কয়েক হাজার হাতি নিয়ে মক্কার দিকে রওয়ানা হন।

যখন তারা মসজিদুল হারাম শরীফের কাছাকাছি পৌছান তখন আল্লাহ হাজার হাজার আবাবিল পাখি প্রেরণ করেন। পাখিগুলো আল্লাহর নির্দেশে পায়ের তালুতে ২ টি ও মুখের মধ্যে ১ টি করে পাথর নিয়ে আব্রাহার হাতি বাহিনীর উপর নিক্ষেপ করতে থাকে এবং তাদের পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।

এই ঘটনার কথা আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সূরা আল ফীলে বর্ণনা করেছেন। পবিত্র কা’বা শরীফে এখনও এই আবাবিল পাখি দেখা যায়। রাত গভীর হলে যখন চারদিকে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে তখন এই আবাবিল পাখির ডাক শুনা যায়। মসজিদের ভিতর ছাঁদে হেরেমের ভিতর এদের সুন্দর বাসা সবার নজরে আসে।

আরো পড়ুন… সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র কুরআন হাতে লেখার খবর পাওয়া যায়। এবার বাংলাদেশের এক প্রতিভাবান তরুণ হুমায়ুন কবির সুমন হাতে লিখেছেন পুরো পবিত্র কুরআন। মাদ্রাসায় না পড়েও প্রবল ইচ্ছা শক্তির জোরেই বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বারড়িয়া গ্রামের হুমায়ুন কবির সুমন আরবি শিখে ৩ বছরে পুরো কুরআন হাতে লিখেছেন।

১৯৯৯ সালে এসএসসি পাস করার পর হুমায়ুন কুরআনুল কারিম লেখার উদ্দেশ্যে আরবি লেখা শেখেন। অতঃপর ২০০৭ সালে পবিত্র কুরআন হাতে লেখা শুরু করেন। ৩ বছরের ব্যবধানে ২০১০ সালে পুরো কুরআন লেখা সম্পন্ন করেন হুমায়ুন।

সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় আরবি লেখা শিখে কুরআন লেখা এবং পৃষ্ঠা বিন্যাস ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ক্যালিওগ্রাফিও ব্যবহার করেছেন তিনি। বরিশালের তরুণ প্রতিভা হুমায়ুন বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতে লেখা কুরআনে পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে চান তিনি।

হুমায়ুন কবির সুমন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বারড়িয়া গ্রামের মো. রজব আলী শিকদারের ছেলে। তিনি বর্তমানে ঢাকার গাউছিয়া মার্কেটের একটি শোরুমের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যদি মনের জোর থাকে ইস্পাতের মতো দৃঢ়, তাহলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। বয়োবৃদ্ধ এক নারী দৈনিক ৭ ঘণ্টা ব্যয় করে নিজ হাতে সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ লিখে অনন্য কীর্তি স্থাপন করেছেন ৭৫ বছর বয়সী সাইয়েদা সাদ আবদুল কাদের।

মিশরীয় এ নারীর ইচ্ছে ছিল কোরআন হেফজ করবেন। কিন্তু বয়সের আধিক্য ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ায় তার পক্ষে পূর্ণাঙ্গ কোরআন মুখস্ত করা সম্ভব নয়। কিন্তু কি করা যায় এ ভেবে তিনি তার নাতির সঙ্গে পরামর্শ করলেন। নাতি পরামর্শ দিলেন কোরআন লিখতে। এরপর প্রবল আগ্রহ ও উৎসাহবোধে কাজ করলেন টানা ৪ বছর। আর শেষ পর্যন্ত তিনি তার উদ্দেশ্যে সফল হলেন। সৃষ্টি করলেন কোরআন লেখার অনন্য নজির।

এদিকে জানা যায়, সাইয়েদা সাদ ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর তার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর নিজেদের মানুফা প্রদেশ থেকে আলেকজান্দ্রিয়ায় চলে যেতে হয়। পারিবারিক ও সাংসারিক বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে তিনি কোরআন মুখস্ত করতে পারেননি। কিন্তু প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহবোধ কাজ করতো প্রতিনিয়ত।

এ ব্যাপারে তিনি জানান, তার আগ্রহের কারণে কোরআন মুখস্ত করতে না পারলেও আল্লাহ তাকে এমন মহৎ কাজ করার তাওফিক দান করেছেন। এদিকে কোরআনের পাণ্ডুলিপিটি তৈরিতে তিনি ৪০টি কলম ব্যবহার করেন। শব্দগুলোতে হরকত দিয়েছেন কালো রং দিয়ে। আর আল্লাহ শব্দ ও আয়াতের সংখ্যা লেখায় লাল রং এবং অন্যান্য শব্দ আঁকায় নীল রংয়ের কালি ব্যবহার করেন। তিনি আশা করছেন, তার সন্তানরা পাণ্ডুলিপিটি শিগগির প্রিন্ট আকারে প্রকাশ করবে।