এইমাত্র পাওয়া তাজা ব্রেকিংঃ আ’সছে প্র’বল ঘূ’র্ণিঝড় হি’ক্কা ।

ভারতের দিকে ধেয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিক্কা। এর ফলে ঝড়ের পাশাপাশি ভারী থেকে অ’তিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, তেলেঙ্গানার বিভিন্ন এলাকায়। ভারতের আহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আরব সাগরে ধেয়ে আসতে চলেছে ঘূর্ণিঝড় হিক্কা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুরু হতে পারে ঝড়বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হিক্কার প্রভাব থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় হিক্কার প্রভাবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ধেয়ে আসতে চলেছে গুজরাটের উপকূলবর্তী অঞ্চলে। গুজরাটের ভেরাভাল, পাকিস্তানের করাচির ৪৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ওমানের মাসিরাহের ৭৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব সীমান্তে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী থেকে অ’তিভারী বৃষ্টিপাত হবে।

আগামী বুধবার ওমানে হিক্কার প্রভাবে বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতির আশ’ঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের দাবি, ওমানে ঘণ্টায় ১৭ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। ২৫ সেপ্টেম্বর সকালের দিকেই ওমানের উপকূলবর্তী অঞ্চলে আছড়ে পড়তে পারে হিক্কা।

ইতোমধ্যেই মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদেরও অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন… চলতি মাসের শুরুতে ভয়াবহ হারিকেন ডোরিয়ানের আঘাতে বাহামায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। নিখোঁজ রয়েছেন ১৩শ’র বেশি মানুষ। উদ্ধার কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই শক্তিশালী হারিকেন ডোরিয়ানের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র বাহামা। এখনও চলছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, বাড়ি ফিরতে পারেননি ক্ষতিগ্রস্তরা। এর মধ্যেই সেখানে আরও একটি ঝড় আঘাত হানার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খবর বিবিসি ও সিএনএন’র।

জানা গেছে, আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপের (টিডি৯) কারণে ইতোমধ্যে দ্বীপটিতে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে ও ঝড়ো হাওয়া বইছে। আগামী দু’দিনের মধ্যে সেটি সাইক্লোনে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় বিদ্যমান বলেও আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হলেও ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে এতথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টিপাত কমতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গা, ঢাকা, ময়মনসিংহ সিলেট বিভাগের অনেক জায়গা এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু জায়গায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়ার সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বধিতাংশ রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

সোমবার সকাল ৯ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরণের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশের দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

অপরদিকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।রবিবার আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।

এতে বলা হয়, উত্তর উড়িষ্যা- গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ উপকুল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়,মৌসুমী অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল অতিক্রম করে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের কেন্দ্রস্থল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী থেকে শক্তিশালী অবস্থায় বিরাজমান।

আবহাওয়া অফিস জানায়, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চল সমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বুধবার আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ জন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ঢাকাসহ ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য এ সব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে হবে।