শামী’মের ফো’নে উ’ঠতি নায়ি’কাদের কথো’পকথন ।

‘টেন্ডার কিং’ হিসেবে পরিচিত জি কে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তার সম্পর্কে বের হয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর এসব তথ্যে মধ্যে রয়েছে বড় বড় টেন্ডার বাগিয়ে আনতে তিনি নানা অপকৌশলের ব্যবহার।

জানা গেছে, জিয়া নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের একাধিক ভয়েস রেকর্ড রয়েছে তার মোবাইল ফোনে। এসব কথোপকথনের বেশির ভাগই চিত্রজগতের নায়িকা, উঠতি মডেল ও শোবিজ জগতের তারকাদের ঘিরে। টেন্ডার সংক্রান্ত কাজে তিনি অনেক সময় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করতে এসব মডেল ও উঠতি নায়িকাদের ব্যবহার করতেন। আবার অনেকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, মেসেঞ্জার ও ইমো ব্যবহার করে কথাবার্তা বললেও অন্য আরেকটি ফোনে তা রেকর্ড করে রাখেন। এ কারণে শামীমের মোবাইল ফোনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের ভয়েস চিহ্নিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের নিকেতনের কার্যালয় থেকে ৭ দেহরক্ষীসহ গ্রেফতারের পর শামীমকে র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন শামীম।

আরো জানুন… রাজধানীর মাফিয়া ঠিকাদার জি কে শামীমের কললিস্টে ছয় মন্ত্রীর নাম পাওয়া গেছে। জি কে শামীমকে যখন শুক্রবার সকালে গোয়েন্দা পুলিশ তার কার্যালয় থেকে আটক করে তখন তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন। প্রথমে একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী শামীমের ফোন ধরলেও তার বাসায় র‍্যাব এসেছে শুনে তিনি ফোন কেটে দেন।

এরপর শামীম তাকে আরও কয়েকবার ফোন করলেও ওই মন্ত্রী আর ফোন ধরেননি। এরপর একে একে আরও কয়েকজনকে প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ফোন করেন শামীম। তবে এদের সবাই তাকে এড়িয়ে যান। প্রভাবশালী ছয় মন্ত্রীর সঙ্গে শামীমের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। বিভিন্ন টেন্ডারে কাজ পেতে এই মন্ত্রীরা তাকে সহায়তা করতেন।

রিমান্ডে থাকা জি কে শামীম বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর দু’একজন ছাড়া শীর্ষমহলের সবার সঙ্গেই তার যোগাযোগ ছিল। সবাইকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে সহায়তা করেছেন। জি কে শামীম আরও দাবি করেছেন যে, বিপুল পরিমান টাকা তিনি টেন্ডারে কাজ পাওয়ার জন্য শীর্ষমহলকে ঘুষ দিয়েছেন।

টাকা ছাড়া কেউ তাকে কাজ দেয়নি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে যে, জি কে শামীম যে তথ্যগুলো দিয়েছেন সেগুলো সত্য কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে। কারণ একজন ব্যক্তি গ্রেপ্তার হলে বাঁচার জন্য যে অনেককিছুর আশ্রয়ই গ্রহণ করে। তবে একটি বিষয় গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যেই প্রমাণ পেয়েছে যে যুবলীগ বা আওয়ামী লীগের নেতা হলেও জি কে শামীম নিয়মিত বিএনপিকে টাকা দিতেন। এই টাকার হিসাব লেখা একটা খাতারও সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দারা। সুত্রঃ বাংলা ইনসাইডার।

আরো খবর… যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটক করেছে র‌্যাব। শুক্রবার রাজধানীর নিকেতনের অফিস থেকে তার ৬ দেহরক্ষীসহ আটক করা হয়।দেহরক্ষীদের মধ্যে প্রধান দেহরক্ষী শহীদুল মুরাদ কামাল ও জাহিদের পরিচয় পাওয়া গেছে।

নিকেতন ৪ নম্বর রোডের ১১৪ নম্বর ভবনে জিকেবি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড শামীমের বাণিজ্যিক কার্যালয়।জিকে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। একই সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে শামীম ছিলেন ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ সম্পাদক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক গণপূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ। এখনও তার অফিস ভবনে তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।