ভাসানচর খুলে দিয়েছে সরকার, সুবিধা নিতে পারবে দরিদ্ররা

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য আবাসন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে এক লক্ষ মানুষের পর্যাপ্ত আবাসন ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমান সময়ে করোনভাইরাসের কারণে কোন দরিদ্র মানুষ ভাসানচরে গিয়ে আবাসন ও জীবিকা নির্বাহের এই সুবিধা নিতে চায় তারা সেখানে যেতে পারবে। এমনটাই জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

আজ বিকেলে এক বিফ্রিংয়ে তিনি বলেন, এসময়ে কোন দরিদ্র পরিবার নিজেদেরকে ভাসনচরে নিয়ে গিয়ে সরকার প্রদত্ত এই আবাসন ব্যবস্থা ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ নিতে চায়। এজন্য এটি ওপেন করে দেয়া হচ্ছে। এব্যাপারে জেলাপ্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে সরকার করোনভাইরাসের কারণে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

তাই এ সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষ জীবন যাপনে অক্ষম হলে সরকার তাদের জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। কভিড-১৯ করোনাভাইরাস চিকিৎসা মোকাবেলায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক গ্লোরোকুইন এবং অ্যাজিত্রোমাইসিন গ্রুপের ওষুধ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। কভিড-১৯ করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে এমন ব্যক্তিদের শরীরে এ ওষুধ প্রয়োগ করে ভালো ফল পাওয়া আছে। আমেরিকার সরকারি রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের গবেষণার তথ্য দিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেছেন,

দেশে এখন এ গ্রুপের ওষুধ মজুদ আছে। যেগুলো করোনার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য অধিদফতর ও সিএমএইচে দেয়া হবে। তবে কেউ এটি বাজারজাত করতে পারবে না। হাইড্রোক্সিক গ্লোরোকুইন যে কেউ যত্রতত্র ব্যবহারের দরকার নেই। করোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, দেশে ২০ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার মতো ওষুধ তাদের কাছে মজুদ আছে। এবার নারায়ণগঞ্জে একজন করোনা ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদ। এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ জানান, জেলায় করোনাভাইরাসে একজন আ’.ক্রান্ত হয়েছেন বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

নতুন করে ৩৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১৬২ জন। এর মধ্যে তিনজন প্রবাসী রয়েছেন। তিনি আরো জানান, আপাতত জনসমাগম ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলতে জেলাবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের না হতেও বলা হয়েছে। করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ সংক্রণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।