করোনা প্রতিরোধে ৫০০ চিকিৎসকের তালিকা করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত চিকিৎসা প্রদানে ও এর নিয়ন্ত্রণে ৫০০ জন ডাক্তারের একটি তালিকা তৈরির জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনকে (বিএমএ) নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২৩ মার্চ) সচিবালয়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ও মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ক আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণাসহ প্রধানমন্ত্রীর ১০টি সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ৫০০ ডাক্তারের তালিকা করা জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসেসিয়েশনকে (বিএমএ) নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তারা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করতে পারে।’

ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং ধর্মীয় নেতাদের অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলার বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে সচিব বলেন, ‘সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। অসুস্থ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মসজিদে না যেতে বারংবার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। তা ভঙ্গ করে মিরপুরে এক ব্যক্তি মসজিদে যাওয়ায় অন্য ব্যক্তিও আক্রান্ত হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এতে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন লক্ষাধিক আক্রান্ত ব্যক্তি। বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে।

এখন পর্যন্ত ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন তিনজন। সেলফ ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন প্রায় ১৮ হাজার মানুষ। তাদের অধিকাংশই বিদেশফেরত। করোনার বিস্তাররোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সব বিপণিবিতান। এছাড়া মুলতবি করা হয়েছে জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারিক কাজ। এছাড়া মাদারীপুরের শিবচর এবং গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।