ফুরিয়ে আসছে চিকিৎসা সামগ্রী, মারাত্মক পরিস্থিতির আশঙ্কা

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে করোনাভাইরাস। দিনদিন এই ভাইরাসে মৃ’তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে মৃ’ত্যু হয়েছে ৮ হাজার মানুষের। এরইমধ্যে আ’ক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬৩ হাজার ৬৮৮ জন। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে বাংলাদেশে একজনের মৃ’ত্যু হয়েছে। আ’ক্রান্ত হয়েছে ৩২ জন।

এদিকে, যু’ক্তরাষ্ট্রে এখনও পযন্ত ৩১ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন চারশো জনের মতো।এমতাবস্তায়, চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে যু’ক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে করোনাভাইরাস মহামারি আরো খারাপ রূপ নেবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন ওই শহরের মেয়র। বিল ডে ব্ল্যাসিও বলেছেন, “আগামী ১০ দিনের মধ্যেই এসবের মা’রাত্মক ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আমরা যদি আরো ভেন্টিলেটর না পাই, লোকজন মরতে শুরু করবে।”

যু’ক্তরাষ্ট্রের এই অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যে করোনাভাইরাস প্রকোপের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সারা দেশে যতো মানুষ আ’ক্রান্ত হয়েছে তার প্রায় অর্ধেকই এই রাজ্যের। কভিড-১৯ করোনাভাইরাস চিকিৎসা মোকাবেলায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক গ্লোরোকুইন এবং অ্যাজিত্রোমাইসিন গ্রুপের ওষুধ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।

কভিড-১৯ করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে এমন ব্যক্তিদের শরীরে এ ওষুধ প্রয়োগ করে ভালো ফল পাওয়া আছে। আমেরিকার সরকারি রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের গবেষণার তথ্য দিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেছেন, দেশে এখন এ গ্রুপের ওষুধ মজুদ আছে। যেগুলো করোনার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য অধিদফতর ও সিএমএইচে দেয়া হবে। তবে কেউ এটি বাজারজাত করতে পারবে না। হাইড্রোক্সিক গ্লোরোকুইন যে কেউ যত্রতত্র ব্যবহারের দরকার নেই। করোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, দেশে ২০ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার মতো ওষুধ তাদের কাছে মজুদ আছে। এবার নারায়ণগঞ্জে একজন করোনা ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদ। এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ জানান, জেলায় করোনাভাইরাসে একজন আ’.ক্রান্ত হয়েছেন বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

নতুন করে ৩৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১৬২ জন। এর মধ্যে তিনজন প্রবাসী রয়েছেন। তিনি আরো জানান, আপাতত জনসমাগম ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলতে জেলাবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের না হতেও বলা হয়েছে। করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ সংক্রণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।