চীনে আরেক দফা মহামা’রির শ’ঙ্কা, নতুন করে ছড়াচ্ছে করোনা

উহানে উৎপত্তির পর টানা তিনমাসের প্রাণপণ ল’ড়াইয়ে করোনা ভাইরাস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এনেছে চীন। গত কয়েকদিন দেশটিতে নতুন করে কেউ আ’ক্রান্ত হননি। তারপরও বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। কারণ, বিদেশ ফেরত নাগরিকদের শরীরে ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে প্রাণঘা’তী এই ভাইরাস। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে খুব শিগগিরই চীন আরেক দফা মহামা’রির মুখোমুখি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

নভেল করোনা ভাইরাসের উৎস উহানে মহামা’রি নিয়ন্ত্রণে যে মেডিকেল টিম কাজ করছে, এর নেতৃত্ব রয়েছেন প্রফেসর লি লানজুয়ান। বলাবাহুল্য, এই কাজে দারুণ সফল দলটি। তারপরও দুশ্চিন্তা দূর হয়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় চীনে নতুন করে ৩৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের সবাই বিদেশফেরত। প্রফেসর লি বলেন, ‘বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংঝু, শেনঝেন ও হাংঝৌর মতো শহরগুলো অনবরত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রয়েছে।

আমি খুব উদ্বিগ্ন যে, বিদেশ ফেরত ঘটনাগুলো আমাদের দেশে আরও বড় মহামা’রির সূত্রপাত করতে পারে।’ চায়না নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিদেশ ফেরত সংক্রমণ মহামা’রি নিয়ন্ত্রণে তাদের কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে। ৭৩ বছর বয়সী এ চিকিৎসক বলেন, করোনা মহামা’রি অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আমাদের আরও কঠিন প্রচেষ্টা ও নিরলস কাজ করা অব্যাহত রাখা দরকার।

প্রফেসর লির ধারণা যে অমূলক নয় ইতোমধ্যেই তার নমুনা দেখা দিয়েছে চীনে। সম্প্রতি দেশটিতে বিদেশফেরত এক রোগীর সংস্পর্শে গিয়ে করোনা আ’ক্রান্ত হয়েছেন গুয়াংঝুর এক চিকিৎসক। জানা যায়, ওই রোগী কিছুদিন আগে তুরস্ক থেকে ফিরেছেন। তাকে পরীক্ষা করাতে গিয়ে ভাইরাস আ’ক্রান্ত হন ওই চিকিৎসক। গুয়াংঝুর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এটাই বিদেশফেরত রোগীর সংস্পর্শে এ অঞ্চলে প্রথমবার কেউ করোনায় আ’ক্রান্ত হওয়ার ঘটনা।

এ ধরনের সংক্রমণ আরও বাড়তে থাকলে অচিরেই চীনজুড়ে আবারও ভ’য়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ৩১ ডিসেম্বর উহানে প্রথমবারের মতো ধরা পড়ে নভেল করোনাভাইরাস। এরপর দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা চীনজুড়ে, এরপর বাকি বিশ্বে। এ পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ১৯২টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার বিস্তার ঘটেছে। এতে আ’ক্রান্ত হয়েছেন অন্তত সাড়ে ৩ লাখ মানুষ, মারা গেছেন ১৫ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে শুধু চীনের মূল ভূখণ্ডেই আ’ক্রান্ত ৮১ হাজার মানুষ, মৃ’ত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৭০ জনের।