করোনায় দেশে কতজন মারা গেছেন?

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হয়ে বিশ্বে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪ হাজার ৬১৬ জন। ভাইরাসটি প্রাদুর্ভাবের মাত্র ৩ মাসের মাথায় মৃতের সংখ্যা এটি। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড় তিন লাখ। বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশে করোনা ছড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি দেশ লকডাউন করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যায় শীর্ষে ইতালি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে করোনার উৎপত্তি স্থল চীন। তবে ফ্রান্স, স্পেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইরানসহ বেশ কয়েকটি দেশে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

এদিকে বাংলাদেশে সরকারি তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ২। গত ১৮ মার্চ (বুধবার) প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর দেয় জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিভাগ (আইইডিসিআর)। দেশের মাটিতে এটিই করোনায় প্রথম মৃত্যু। এরপর গত শনিবার (২১ মার্চ) মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আরেকজনের মৃত্যুর খবর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তবে আরও কয়েকজনের মৃত্যুকে করোনা সংক্রমণজনিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছেন রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগের এক বাসিন্দা। ৭৬ বছর বয়সী বৃদ্ধ রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে মারা যান। ঢাকাঃ টোলারবাগের করোনাভাইরাসে যে ব্যক্তি শনিবার রাতে মারা গেছেন, তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল এই বৃদ্ধের। তিনি থাকতেন তাদের পাশের ভবনে। স্থানীয় একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

টোলারবাগ এলাকার ভবন মালিক সমিতির সভাপতি শুভাশিষ বিশ্বাস গণমাধ্যমকে জানান, ওই ব্যক্তি উত্তর টোলারবাগের বাসিন্দা এবং সেখানকার দারুল ইহসান জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি বলেন, আগের দিন মিরপুরের ডেল্টা হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে মৃত ব্যক্তির প্রতিবেশী ছিলেন ওই বৃদ্ধ। তারা দুজনই একই মসজিদে নামাজ পড়তেন। দুজন খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

এদিকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনা ভাইরাস ‘সন্দেহে’ যুক্তরাজ্যফেরত এক নারী (৬১) মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে আইসোলেশনে থাকা ওই নারী মৃত্যুবরণ করেন। সিলেট: সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল গণমাধ্যমকে জানান, রোববার ঢাকা থেকে আইইডিসিআরের লোক সিলেটে এসে তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করার কথা ছিল। তবে এর আগেই যুক্তরাজ্যফেরত ওই নারী মারা যান।

শামসুদ্দিন হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স আবদুল খালেক জানান, নগরীর শামীমাবাদ এলাকার ওই নারী গত ৪ মার্চ লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন। ১০ দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। গত ২০ মার্চ শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হন ওই নারী। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে আইসোলেশনে রেখেছিলেন চিকিৎসকরা। খুলনাঃঅন্যদিকে খুলনায় গত বৃহস্পতিবার দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

তাদের মধ্যে একজন সম্প্রতি ভারত থেকে দেশে ফিরেছিলেন। এক রোগীর স্বজনেরা বলছেন, জ্বর, গলাব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট শুনেই চিকিৎসকেরা ভয় পেয়ে রোগীর কাছে আসেননি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটির পরিচালক এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ গণমাধ্যমকে বলেন, মৃত ওই দুজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ ছিল। তাদের মধ্যে একজন ভারত থেকে এসেছেন।

কিন্তু করোনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাদের করোনা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ঢাকার বাইরে কোথাও করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। এ কারণে চিকিৎসকেরাও আতঙ্কে। কিশোরগঞ্জ: এদিকে গতকাল রোববার (২২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ইতালি ফেরত এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়। আজ সোমবার সকালে এ খবর জানান উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব বুলবুল আহমেদ।

আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী ওই যুবক করোনায় আক্রান্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করেছে আইইডিসিআর।
করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। জনসমাগম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জরুরি পণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব দোকান বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিক সমিতি।