করোনাভাইরাসঃ বাংলাদেশে আরও বাড়ল করোনায় আ’ক্রান্তের সংখ্যা

হঠাৎ পৃথিবীতে যেন নেমে এসেছে কালো অন্ধকার। যে অন্ধকারে ঢাকা পড়েছে পুরো বিশ্ব জনতা। দিনের পর দিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে শত শত মানুষ। কোনোভাবেই যেন থামানো যাচ্ছে না প্রাণঘাতী এই করোনাভাইরাসকে। পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৪ জন এবং এই ভাইরাসে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা ছিল ২।

আজ রবিবার (২২ মার্চ) দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৭ জনে। আজ দেশের কোথাও কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৩ জন। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজ যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ। এর মধ্যে পাঁচজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এখন ২০ জনের চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআরের পরিচালক।

এদিকে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং আজ রবিবার হবে না জানানো হলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। ব্রিফিং বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) মিলনায়তনে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল পর্যন্ত বিশ্বে একদিনে ১৩৩৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে মোট মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ৩৮৫ জনে পৌঁছেছে। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯১ হাজার ৫৩৩ জন। চীনের পর সবচেয়ে বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে একদিনেই ৬২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩২ জনে। করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ জন।

এ তথ্য জানিয়েছেন আইডিসিআর পরিচালক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা। রোববার (২২ মার্চ) বিকেল ৩টায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। আগে আক্রান্তদের মধ্যে থেকে ২ জন এবং নতুন আক্রান্তদের মধ্যে থেকে আরো ৩ জনসহ এই ৫ জন সুস্থ হয়েছেন বলে জানান তিনি। এদিকে, রোববার (২২ মার্চ) বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ আট হাজার ৫৯২ জনে।

মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৬৯ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৯৫ হাজার ৮২৯ জনের। সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছেন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯৪ জন, যাদের মধ্যে ৫ শতাংশ ৯ হাজার ৯৪৩ জন গুরুতর অবস্থায় এবং মৃদু সংক্রমিত অবস্থায় আছেন ৯৫ শতাংশ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫১ জন। করোনাভাইরাস: যে বাড়িওয়ালারা একমাসের বাড়িভাড়া মওকুফ করলেন…>>>

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের ১৮০টি দেশে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ও মৃত মানুষের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।এদিকে এই ভাইরাসের কারণে সম্প্রতি নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার সুবিধার্তে বাড়ির মালিকদের তিন মাসের ভাড়া না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উগন্ডার সরকার। তবে বাংলাদেশে এমন কোনো ঘোষণা না এলেও ব্যক্তি উদ্যোগে সামান্য কিছু মানুষ ঠিকই এগিয়ে এসেছেন।

তাদের মধ্যে একজন শেখ শিউলী হাবিব। ঢাকা শহরে তার একটা বাড়িতে বসবাসরত ভাড়াটিয়াদের মার্চ মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন তিনি! একটা ট্রাভেল এজেন্সির মালিক শিউলী হাবিব বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে সারা পৃথিবী এখন থমকে গেছে। এইটা থামাতে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে যতটা সম্ভব কিছু করা উচিত। আমার ভাড়াটিয়ারা অনেকটা দিনমজুর। তারা দিন আনে দিন খায়।

করোনার কারণে মানুষ সব ঘরবন্দি হয়ে যাচ্ছে, তাদের কাজও কমে গেছে। এখন তারা নিজেরা খাবে নাকি আমাকে বাসার ভাড়া দিবে? এসব ভেবেই আমি তাদের জন্য মার্চ মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমার বাবা শেখ মোবারক হোসেন একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার কাছ থেকেই মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ শিখেছি। গত কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম, আমি আমার অবস্থান থেকে কী করতে পারি?

আমি নিজেও মধ্যবিত্ত মানুষ। উচ্চবিত্তদের প্রচুর টাকা আছে, তাদের অভাব হবে না। কিন্তু মধ্যবিত্তের সংকট বেশি। তারপরও আমি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।’ রাজধানীর জুরাইনের দারোগাবাড়ি ১ নম্বর সড়কের বাড়ির ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ নিয়ে শিউলী হাবিবের ফেসবুক পোস্টটি ভাইরাল হয়েছে। ফেসবুকে পোস্ট করা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে চাইনি নিজের একটা সামান্য কাজ প্রচার করতে।

তবে আমার স্বামীর পীড়াপীড়িতে এটা নিয়ে ফেসবুকে লিখেছি। আমার স্বামীর যুক্তি ছিল, এটা দেখে দেশের আরো অনেক বাড়ির মালিক উদ্বু্গ্ধ হবে। তারাও এগিয়ে আসবে ভাড়াটিয়াদের পাশে।’