করোনাভাইরাস: যে বাড়িওয়ালারা একমাসের বাড়িভাড়া মওকুফ করলেন…

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের ১৮০টি দেশে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ও মৃত মানুষের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।এদিকে এই ভাইরাসের কারণে সম্প্রতি নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার সুবিধার্তে বাড়ির মালিকদের তিন মাসের ভাড়া না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উগন্ডার সরকার। তবে বাংলাদেশে এমন কোনো ঘোষণা না এলেও ব্যক্তি উদ্যোগে সামান্য কিছু মানুষ ঠিকই এগিয়ে এসেছেন।

তাদের মধ্যে একজন শেখ শিউলী হাবিব। ঢাকা শহরে তার একটা বাড়িতে বসবাসরত ভাড়াটিয়াদের মার্চ মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন তিনি! একটা ট্রাভেল এজেন্সির মালিক শিউলী হাবিব বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে সারা পৃথিবী এখন থমকে গেছে। এইটা থামাতে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে যতটা সম্ভব কিছু করা উচিত। আমার ভাড়াটিয়ারা অনেকটা দিনমজুর। তারা দিন আনে দিন খায়।

করোনার কারণে মানুষ সব ঘরবন্দি হয়ে যাচ্ছে, তাদের কাজও কমে গেছে। এখন তারা নিজেরা খাবে নাকি আমাকে বাসার ভাড়া দিবে? এসব ভেবেই আমি তাদের জন্য মার্চ মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমার বাবা শেখ মোবারক হোসেন একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার কাছ থেকেই মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ শিখেছি। গত কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম, আমি আমার অবস্থান থেকে কী করতে পারি?

আমি নিজেও মধ্যবিত্ত মানুষ। উচ্চবিত্তদের প্রচুর টাকা আছে, তাদের অভাব হবে না। কিন্তু মধ্যবিত্তের সংকট বেশি। তারপরও আমি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।’ রাজধানীর জুরাইনের দারোগাবাড়ি ১ নম্বর সড়কের বাড়ির ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ নিয়ে শিউলী হাবিবের ফেসবুক পোস্টটি ভাইরাল হয়েছে। ফেসবুকে পোস্ট করা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে চাইনি নিজের একটা সামান্য কাজ প্রচার করতে।

তবে আমার স্বামীর পীড়াপীড়িতে এটা নিয়ে ফেসবুকে লিখেছি। আমার স্বামীর যুক্তি ছিল, এটা দেখে দেশের আরো অনেক বাড়ির মালিক উদ্বু্গ্ধ হবে। তারাও এগিয়ে আসবে ভাড়াটিয়াদের পাশে।’ প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছে ক্লাস>>> বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে করোনাভাইরাস। দিনদিন এই ভাইরাসে মৃ’তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে মৃ’ত্যু হয়েছে ৮ হাজার মানুষের। এরইমধ্যে আ’ক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬৩ হাজার ৬৮৮ জন। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে বাংলাদেশে একজনের মৃ’ত্যু হয়েছে। আ’ক্রান্ত হয়েছে ২৪ জন।

এদিকে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে সব ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সে নির্দেশ উপেক্ষা করে লক্ষ্মীপুরে এখনও চলছে কোচিং সেন্টার। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খ্যাতনামা স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা চালিয়ে যাচ্ছেন বাণিজ্যিক এই কার্যক্রম। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজ, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ও হাউজিং রোড এলাকা সহ জেলার কয়েকটি স্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,

শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে কোচিং করতে যাচ্ছেন। ছোট্ট একটি কক্ষে গাদা-গাদি করে অনেকেই বসে রয়েছেন। আবার কেউ কোচিং শেষে বাসায় ফিরছেন। বিপ্লব কোচিং সেন্টারের মালিক ও লক্ষ্মীপুর কমার্স কলেজের শিক্ষক পরিচয়দানকারী মো. বিপ্লব বলেন, সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পরই সেন্টারটি বন্ধ করে দিয়েছি। আজ ভুলে শিক্ষার্থীরা চলে আসায় বাড়ির কাজ দেখিয়ে দিচ্ছেন, কোচিং করাচ্ছেন না।

এই বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের শিক্ষা কার্যক্রম ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সে আদেশ কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। মসজিদে ঢুকে মুসল্লীকে জুতা দিয়ে পেটালেন যুবলীগ নেত্রী>>>

নুরুচ্ছাবাহ্ পূর্নিমা নামে এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মসজিদে প্রবেশ করে মুসল্লীকে জুতা দিয়ে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ৫ নং ওচমানপুর ইউনিয়নের বাঁশখালী এলাকার মাজহার উল্লাহ মুহুরী বাড়ি জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকা প্রবাসী নুরুচ্ছাবাহ্ পূর্নিমা যুব মহিলা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদেকর দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগী মুসল্লী এস এম শহীদ জানান, ‘শনিবার জোহরের নামাজের জন্য আমি মসজিদে প্রবেশ করার পথে পূর্ণিমা নামের এই মহিলা দাঁড়িয়ে থাকে। আমি তাকে নামাজের জামাত শুরু হচ্ছে বলে সরে দাঁড়াতে বলে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করার সময় সে মসজিদের সামনে থাকা জুতা নিয়ে আমাকে মারলে জুতা মসজিদের ভেতরে ঢুকে যায়। এরপর সে ভেতরে ঢুকে জুতা দিয়ে আমাকে মারধর করেন।

তখন সকল মুসল্লী এগিয়ে তাকে নিভৃত করেন। কি কারণে আমাকে জুতা দিয়ে মারলো? আমার অপরাধ কি? আমি তার বিচার চাই।’ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও নিয়মিত মুসল্লী মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমার জীবনে দেখিনি। মহিলা মসজিদে ঢুকে শহীদ নামে এক মুসল্লীকে জুতা দিয়ে মারধর করে। এরপর আমরা এসে তাকে নিভৃত করি। মহিলা হওয়ার কারণে সকল মুসল্লীকে সংঘযত থাকতে হয়েছে। ওই মহিলার উপযুক্ত বিচার হওয়া প্রয়োজন।’

এই বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যা ৭ টা ৫৪ মিনিটে মোবাইলফোনে নুরুচ্ছাবাহ্ পূর্নিমা বলেন, ‘আমি মসজিদে প্রবেশ করে জুতা দিয়ে কাউকে মারধর করিনি। বরং শহীদ নামে ওই ছেলেটি আমাকে ধাক্কা দেয়। মুসল্লীরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। তারা সবাই দলবল নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে আমার বাবার বাড়ি দখল করে রাখছে।’ পরে কথা বলবে বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘শনিবার সকালে পূর্নিমা নামে এক মহিলা তার বাবার বাড়িতে বহিরাগত কিছু লোক জড়ো হয়েছে বলে আমাকে ফোন দেয়। আমি পুলিশের একটি টিম ওই বাড়িতে পাঠাই। পরে উভয় পক্ষের লোকজনকে থানায় ডেকে পাঠাই এবং বিরোধপূর্ণ জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বলে জানতে পারি। তাই উভয় পক্ষকে কোন ঝামেলায় না জড়াতে পরামর্শ দিয়েছি। কোন মুসল্লীকে জুতা দিয়ে পেটানোর বিষয়টি আমার জানা নেই।’