মালয়েশিয়ায় ১০০০ ছাড়ালো করোনা আক্রান্ত রোগী, জানুন প্রবাসে থাকা বাংলাদেশীদের কথা ।

মালয়েশিয়ায় করোনা ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১৩০ জন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১ হাজার ৩০ জন। সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৮৭ জন। নতুন করে কারো মৃত্যু হয়নি তবে এখনও আইসিউতে রয়েছেন বেশ কয়েকজন। হতাহতের মধ্যে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি নেই। এদিকে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের নেয়া মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (এমসিও) মেনে চলতে জনগণকে প্রতিনিয়ত নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

দু’সপ্তাহের এ প্রক্রিয়াকে শতভাগ কার্যকর করতে পুরো মালয়েশিয়া জুড়ে লক্ষ্য করা গেছে পুলিশি তৎপরতা। এর সঙ্গে রোববার থেকে যুক্ত হচ্ছে সেনাবাহিনী। সরকারি তরফ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশকে সহযোগিতা করতেই সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হ্চ্ছে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় এর আগে মসজিদ বন্ধ ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এর ফলে আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজও আদায় হয়নি মসজিদে।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু অফিস ছাড়া সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে গেলে সর্বোচ্চ ১ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ও সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডেরও বিধান রাখা হয়েছে। এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সম্ভাবনা থেকে স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিনে গেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডক্টর তুন মাহাথির মোহাম্মদ।

স্বাস্থ্যয় মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে, নাগরিকদের কোন কিছু গোপন না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যে দুর্যোগ দেখা দিয়েছে, তা মোকাবেলায় সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত কোনো শ্রমিক চিহ্নিত হলে তাকে সবেতন চিকিৎসা প্রদান ও বিশ্রামে পাঠানো জরুরি উল্লেখ করে জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হক আমিন বলেছেন,

‘ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনে কারখানা বন্ধ রাখতে হলে শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে।’শুক্রবার এক বিবৃতিতে তারা এই দাবি জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকির বাইরে নয় শ্রমিকরা। কিন্তু জনগণের জীবনের প্রয়োজনে শ্রমিকরা খাদ্য, ওষুধ, পরিষেবা, পরিবহন যোগাযোগ, তৈরি পোশাকসহ সব প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনে যুক্ত, এ জন্য তাদের অভিনন্দন জানাই।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য রক্ষায় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের রয়েছে ব্যাপক শ্রমঘন শিল্প। তা করোনামুক্ত রাখতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশিত জীবানু ও ভাইরাসমুক্ত রাখার সকল সরঞ্জাম শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্য সরবরাহ করা এবং শ্রমিকদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।’ ‘শ্রমিকদের কাজ ও মজুরির অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষার তাৎক্ষণিক উদ্যোগ গ্রহণেরও দাবি জানাচ্ছি। আক্রান্ত বিশেষ অঞ্চল বা এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষায় তাদের যাতে হাট-বাজারে যেতে না হয় তার জন্য বিনামূল্যে একমাসের চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও জীবানু নাশকারীসামগ্রী সররাহের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’