হাসপাতাল চিকিৎসা দেয়নি, সড়কে সন্তান জন্ম দিলেন মা

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করার আধা ঘণ্টার মাথায় সড়’কে স’ন্তান প্র’সব করেন রাজিয়া খাতুন (২২) নামে এক মা।বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা বাসস্ট্যান্ডের ফুটওভার ব্রিজের নিচে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সামাদ ভালুকা শেফার্ড মিলে ফল্ডিং পদে চাকরি করেন। তিনি পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের ওয়াবদা এলাকার মঞ্জিলা খাতুনের বাসায় সপরিবারে ভাড়া থাকেন।হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবদুস সামাদের স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের প্রসবব্যথা উঠলে তাকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।

রাজিয়াকে দেখে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অমিত কুমার রায় রোগীকে আলট্রাসনোগ্রাম করার জন্য খোদেজা হালিম হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান।এ সময় কর্তব্যরত নার্স শামীমা খাতুন ওই ক্লিনিকে ফোন করে বলেন, আলট্রাসনোগ্রামের জন্য রোগী পাঠাচ্ছি।ওই নার্স রাজিয়ার সঙ্গে এক নারীকেও পাঠিয়ে দেন।ক্লিনিক থেকে আলট্রাসনোগ্রাম করে রাজিয়াকে নিয়ে পুনরায় হাসপাতালে গেলে নার্স শামীমা আলট্রাসনোগ্রাম দেখে রোগীর স্বামীকে বলেন,

তাকে ময়মনসিংহ নিয়ে যাওয়ার জন্য। আবদুস সামাদ কোনো উপায় না দেখে রিকশায় রাজিয়াকে নিয়ে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে তার স্ত্রী ও শাশুড়ি মোমেনা আক্তারকে দাঁড় করিয়ে গাড়ির জন্য যান। এ সময় রাজিয়ার প্রচণ্ড প্রসবব্যথা ওঠে। এ সময় ক্রাউন ওয়্যারস প্রা. লিমিটেডের নারী শ্রমিকরা এগিয়ে আসেন।এ অবস্থা দেখে ১০-১২ শ্রমিক চারপাশ থেকে প্রসূতিকে ঘিরে ফেলেন। এ সময় শ্রমিক সুমার সহযোগিতায় রাজিয়া দ্বিতীয়বারের মতো ছেলেসন্তান প্রসব করেন।

রাজিয়ার রক্তক্ষণ শুরু হলে তাকে উদ্ধার করে আবারও ভালুকা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে নেয়ার পর প্রসূতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে মা ও ছেলে ভালোই আছেন এবং শঙ্কামুক্ত।রাস্তায় সন্তান প্রসব হওয়ার খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ও ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান।খোদেজা হালিম হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আলট্রাসনোগ্রামের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে রাজিয়ার বর্তমানে ৩৪ সপ্তাহ ৫ দিন চলছে।

বাচ্চা হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ দিয়েছে ২৪.০৪.২০২০ইং এর এক সপ্তাহে আগে অথবা পরে। আলট্রাসনোগ্রাম করেন ডা. মো. এম রহমান।আবদুস সামাদ বলেন, আমার স্ত্রীর প্রসবব্যথা ওঠার পর হাসপাতালে নিয়ে এলে খোদেজা হালিম হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে আলট্রাসনোগ্রাম করিয়ে আবার হাসপাতালে যাই। এ সময় রিপোর্ট দেখে আমার স্ত্রীকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

বাসস্ট্যান্ডের ফুটওভার ব্রিজের নিচে আমার স্ত্রী ও শাশুড়িকে দাঁড় করিয়ে গাড়ি খুঁজতে গেলে রাস্তার মাঝেই ছেলেসন্তান প্রসব হয়।নার্স শামীমা আক্তার জানান, আমি আলট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট দেখে রোগীকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছি। এটি আমার ভুল হয়েছে।জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অমিত কুমার রায় জানান, আমি রোগীকে ময়মনসিংহ স্থানান্তর করিনি।

প্রশ্ন করা হয় তা হলে রোগীর স্বামী কী অঙ্গীকার নামা দিয়ে এ হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছেন? উত্তরে তিনি জানান, সেটি আমি জানি না।উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. সোহেলী শারমিন বলেন, আমি খবর নিয়ে দেখলাম, হ্যাঁ হাসপাতালের বাইরে একটি বাচ্চা হয়েছে। এখন মা ও নবজাতক ভালোই আছেন। বৃহস্পতিবার অফিসে গেলে বাকি তথ্য জেনে বলতে পারব।

ধ’র্ষণে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাদ্রাসার ছাত্রী, অবস্থা আ’শংকাজনক>>> নেত্রকোনার মদনে ধ’র্ষণে ৮ মাসের অ’ন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে কিশোরী (১৪)। গভীর রাতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে তার অবস্থা আশং’কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে বলে জানা যায়। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দেওসহিলা (দক্ষিণকান্দা) গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ওই রাতেই হাসপাতালের ওয়ার্ডে গেলে কিশোরীকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাওয়া যায়।

জানতে চাইলে ভু’ক্তভো’গী জানায়, আমি তখন মাদ্রাসায় ৫ম শ্রেনিতে পড়ি। গত বছরের আষাঢ় মাসের ২৫ তারিখ একই বাড়ির আবু বক্কর বাড়িতে না থাকায় তার স্ত্রী নাসিমার অনুরোধে ওদের ঘরে রাতে ঘুমাতে যাই। ওই বাড়ির সেলিমের ছেলে জুয়েল হঠাৎ ঘরে প্রবেশ করে আমাকে উ’ক্ত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি রাগন্বিত হয়ে উঠলে নাসিমা আমার মুখে ওড়না দিয়ে চেপে ধরে। এ সময় জুয়েল আমাকে জোরপূর্বক ধ’র্ষণ করে।

ধ’র্ষণের ঘটনাটি প্রকাশ করলে আমার পিতা-মাতাসহ পরিবারের সবাইকে মে’রে ফেলবে বলে হু’মকি দেয়। এভাবে আরও একাধিকবার ভ’য় দেখিয়ে আমাকে ধ’র্ষণ করে। আমি ভয়ে বিষয়টি চেপে রাখলেও আমার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে থাকলে মা-বাবাকে এ ঘটনা জানাই। তারা বিভিন্নস্থানে ঘুরে বি’চার না পাওয়ায় ১০ মার্চ ২০২০ইং তারিখে বাবা হানিফ মিয়া বাদী হয়ে ছয়জনকে আ’সামি করে নেত্রকোনার মদন কোর্টে নারী ও শিশু নি’র্যাত’ন দ’মন আইনে একটি মা’মলা দায়ের করেন।

ভু’ক্তভো’গী আরও জানায়, আমার শারী’রিক অবস্থা খারাপ থাকায় মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। আর যেন কোনো কিশোরীর অবস্থা আমার মতো না হয় সে জন্য ধ’র্ষকের দৃ’ষ্টান্তমূ’লক শা’স্তির দাবি করছি।মদন হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার মোঃ সাইফুল্লাহ সজিব জানান, ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক কিশোরী মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে এলে তার অবস্থা আ’শং’কাজনক থাকায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভু’ক্তভো’গীর বাবা জানান, আমার মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়েকে ভ’য়ভী’তি প্রর্দশন করে একই গ্রামের সেলিমের ছেলে জুয়েল জোরপূ’র্বক ধ’র্ষণ করে। মেযেটি অন্তঃস’ত্ত্বা হয়ে গেলে ঘটনাটি আমাদের কাছে প্রকাশ করে। আমি বিভিন্নস্থানে ঘুরে ন্যায়বি’চার না পাওয়ায় নেত্রকোনার মদন কো’র্টে মা’মলা করেছি। আমি এর ন্যায়বি’চার চাই।অভিযু’ক্ত জুয়েলের পিতা সেলিম মিয়া বলেন, এলাকার মাতাব্বরগণ বি’চারে যে রায় দিবে আমি তা মেনে নেব। তবে এ বিষয়ে ওসি মোঃ রমিজুল হক জানান, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। কো’র্ট থেকে আদেশ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।