সি’নেমার মা’ফিয়াদের মতো জী’বনযাপন করতেন শামীম ।

প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে ঢাকাসহ পুরো দেশে চলছে শুদ্ধি অভিযান। ছাত্রলীগের পর এখন চলছে যুবলীগের শুদ্ধিকরণ। তারই ধারাবাহিকতায় যুবলীগ নেতা এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীম এখন পুলিশের হাতে আটক। কিন্তু তার দৈনন্দিন জীবনযাপন সম্পর্কে শুনলে যে কারোরই চোখ আকাশে উঠার কথা।

কমান্ডো স্টাইলে গাড়িবহর নিয়ে সাইরেন বাজিয়ে চলাফেরা করতেন শামীম। শুধু তাই নয়, অন্তত ২০ জন গানম্যান নিয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীতে থাকতেন তিনি। তা ছাড়া শটগানসহ সাতজন বিশালদেহী বডিগার্ড সার্বক্ষণিক সঙ্গে থাকত তার। রাস্তায় বের হলে শামীমের গাড়িবহরের আগে-পিছে ২০-২৫টি মোটরসাইকেল থাকত।

অস্ত্রসজ্জিত দেহরক্ষী নিয়ে এভাবে চলাচলের কারণে স্থানীয়রা অনেকেরই তাকে রাষ্ট্রীয় কোনো বড়মাপের ভিভিআইপি ভাবত। প্রায় প্রতিদিন পূর্ত অধিদফতরে এভাবে রাজসিক কায়দায় যেতেন শামীম। তার এমন গাড়িবহর আর অস্ত্রধারী গানম্যান দেখে পূর্ত অধিদফতরের অনেকেই শামীমকে ভয় করে চলতেন।
ছবি: সংগৃহীত

বনানীর ডিওএইচএসে বিলাসবহুল বাড়িতে থাকেন শামীম। সেখান থেকে নিকেতনের অফিসে কখনও সকালে, কখনও দুপুরে এমনকি গভীর রাতেও আসতেন তিনি। আর তিনি আসলেই সাড়া পড়ে যেত পুরো গুলশান এলাকায়।

স্থানীয়রা জানান, শামীমের গাড়ির সামনে থাকত তিনটি মোটরসাইকেলে ছয় দেহরক্ষী। সামনে-পিছে আরও দুটি কালো রঙের জিপ গাড়ি। এসব গাড়িতে বাজতো সাইরেন। মোটরসাইকেল থেকে রাস্তার অন্যসব গাড়ি ও পথচারীদের সরিয়ে সরিয়ে শামীমের গাড়িকে এগিয়ে নিয়ে যেত। তারা জানান, শামীমের গাড়ি নিকেতনের অফিসে না পৌঁছানো পর্যন্ত রাস্তায় অন্য কোনো গাড়ি নামার ক্ষমতা ছিল না। তার ভয়ে আতঙ্কিত থাকত নিকেতনবাসী।

এ বিষয়ে জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড নামের ভবনটির পাশের ভবনের কেয়ারটেকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ষোলোআনা রাজকীয় স্টাইলে চলতেন জিকে শামীম। তিনি যখন এখানে আসতেন, সবাই টের পেয়ে যেত। অন্য সবার চলাচল বন্ধ হয়ে যেত। শামীম সাহেবের গাড়ি যখন এখানে আসতেন, কেউ রাস্তায় বের হতে পারত না। অফিসের সামনে গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রসহ দেহরক্ষীরা তার চারদিকে ঘিরে রাখত। প্রতিদিনই সিনেমাকে বাস্তবে দেখতাম আমরা।’


তিনি যোগ করেন, ‘একবার শামীমের গাড়ি আসার সময় আমাদের এক স্যারের গাড়ি গ্যারেজ থেকে বের হয়ে অর্ধেক রাস্তায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু শামীমের দেহরক্ষীরা আমাদের সেই গাড়িকে জোরপূর্বক আবার গ্যারেজে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করে। শামীম চলে যাওয়ার পর আমাদের গাড়ি বের হয়।’

ইসমাইল নামে অন্য একটি বাড়ির কেয়ারটেকার জানান, গত ১০ বছর ধরে এখানে চাকরি করছি। জিকে শামীম যে বাড়িটি নিজের অফিস বানিয়েছেন, তা আগে খান সাহেব নামে একজনের ছিল। গত বছর খান সাহেব থেকে বাড়িটি শামীম কিনে নেন। এর পরই এ এলাকা জমজমাট হয়ে ওঠে। দিনদুপুরে এমনকি গভীর রাত ২টার দিকেও সাইরেনে ঘুম নষ্ট হতো এলাকাবাসীর। সাইরেন বাজলে আমরা বুঝতাম জিকে শামীম আসছেন।

তবে গত ২-৩ দিন ধরে আর সাইরেন শোনেননি ইসমাইল। তিনি বলেন, ‘গত ২-৩ দিন ধরে চুপচাপ অফিসে আসতেন শামীম। সাইরেন বাজাতেন না। এ বিষয়ে শুনেছি ফকিরাপুলের ক্যাসিনোতে র্যা বের অভিযানের পর নীরবে চলাফেরা করছেন শামীম সাহেব।’

প্রসঙ্গত, র্যা বের অভিযানে শামীমের কার্যালয় থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকাসহ ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) উদ্ধার হয়। এ ছাড়া মার্কিন ডলার, সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়াও যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীম। রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগের এ নেতা। নারায়ণগঞ্জ শাখা আওয়ামী লীগের সহসভাপতিও তিনি। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর যুবদলের সহসম্পাদক ছিলেন। যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে জিকে শামীম পরিচয় দিলেও শুক্রবার উভয় সংগঠন থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে।