করোনায় জনগনের উদ্দেশে দেওয়া ট্রুডোর হৃদয়বিদারক ভাষন

সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি নাগরিকের বাসায় এক মাসের যাবতীয় সব ধরনের খাবার, পানি, মেডিসিন মাস্ক আমরা পৌঁছে দিচ্ছি…, পুরো ভাষণটি…… বিশ্বজুড়ে এখন এক আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। সারাবিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে এই ভাইরাস। এখন পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪শ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৭ হাজার ৯৮২ জন। অপরদিকে, হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮২ হাজার ৭৬৩ জন।

বিভিন্ন দেশের মতো কানাডাতেও করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর স্ত্রী সোফি গ্রিগোইরি ট্রুডো করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ কারণে জাস্টিন ট্রুডো নিজেও ১৪ দিনের জন্য আইসোলেশনে আছেন। কানাডায় নতুন করে আরও ১৫৭ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯৮। নতুন করে মারা গেছে ৪ জন অর্থাৎ এখন পর্যন্ত মোট মৃ;;ত্যুর সংখ্যা ৮।

অপরদিকে ১২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এমন পরিস্থিতিতে জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। এক হৃদয়বিদারক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রিয় কানাডাবাসী, আমি জানি আজ সবাই কঠিন সময় পার করছেন। আশা করি এই বিপদ আমরা কাটিয়ে উঠব। তবে সেজন্য আমার আপনাদের সাহায্য দরকার। আপনাদের জন্য আমি আজ প্রধানমন্ত্রী,

জনগনের সেবা ও নিরাপত্তা দেয়া আমার প্রধান কাজ, আমি চাইলে নিজে ঘরে বন্দি থাকতে পারতাম, তবুও ঝুঁকি নিয়ে আপনাদের খোজ খবর নিচ্ছি, বের হচ্ছি। কারন আপনারাই আমার অক্সিজেন। আপনারা সুস্থ থাকলেই আমি সুস্থ। আপনাদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে কিছুই নেই। আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা এক মাস নিজ বাসায় অবস্থান করুন। শুধু মাত্র ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় খাবার,

পানীয়র দোকানগুলো খোলা রাখবেন। তবুও সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি নাগরিকের বাসায় এক মাসের যাবতীয় সব ধরনের খাবার, পানি, মেডিসিন মাস্ক আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। তাছাড়া আপনাদের যখন যা লাগে সহযোগিতার জন্য দেয়া নাম্বারে যোগাযোগ করবেন। আপনাদের বাসায় সবকিছু পৌঁছে দেয়া হবে। তবুও বের হবেন না। ভয় নেই কাউকে অনাহারে মরতে হবে না। আপনারা নিজ বাসায় অবস্থান করুন,

সচেতন থাকুন। আপাতত আমাদের দেশ অবরুদ্ধ (লক ডাউন) হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি ঠিক হলে আবার সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। আমার উপর আপনারা আস্থা রাখুন। আপনারা যারা অফিস আদালত কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োজিত ছিলেন আপনাদের কারো কাজে যেতে হবে না। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস, কারখানা বন্ধ ঘোষণা করলাম। ভয় নেই, আপনাদের সবার একাউন্টে আপনাদের মাসিক বেতনের টাকা পৌঁছে যাবে।

শুধু তাই নয় আপনারা যারা ভাড়া বাসায় থাকেন সেই ভাড়াও সরকার বহন করবে। এসব নিয়ে একটুও চিন্তিত হবার কারন নেই। আপনাদের ভালো রাখাই আমার কাজ। যারা সরকারের নিয়ম মানবে তাদের এক কালীন অতিরিক্ত অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে। করোনা আজ পুরা দুনিয়ার এক আতঙ্কের নাম। আপনাদের সবার সহযোগিতা দরকার। আপনারা কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। বাসায় থাকুন এবং সচেতনার সঙ্গে থাকুন।

আশাকরি শিগগিরই আমরা এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠব। এজন্য দয়া করে আপনারা আমাকে সহযোগিতা করুন। এভাবে সবার উদ্দেশে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন ট্রুডো। একই সঙ্গে এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে তার সরকার যে জনগণের পাশে আছে বার বার তিনি সেটা মনে করিয়ে দিয়েছেন এবং সবাইকে চিন্তিত না হওয়ার অনুরোধ করেছেন। কোচিং সেন্টার চালু রাখায় একজন কা’রাগারে>>>

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কোচিং সেন্টার চালু রাখায় বরিশালে একজনকে পাঁচদিনের কারাদ;ণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন রায় নগরীরর ‘রাইট একাডেমি’ কোচিং সেন্টারের ব্যবস্থাপক। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান বলেন,

আ’ইন লঙ্ঘন করায় তাকে এই শাস্তি দেয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি কোচিং সেন্টারকে সতর্ক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান চলবে। করোনা প্রতিরোধে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশের স্কুল-কলেজ, মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়। একই সঙ্গে দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় বরিশালের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান এ অভিযান চালান।

১০ টাকার থানকুনি পাতা এক লাফে ২০০ টাকা>>> থানকুনি পাতা খেলে কারোনাভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে— এমন গুঞ্জনে এক লাফে ১০ টাকার থানকুনি পাতার দাম ২০০ টাকায় উঠেছে। বুধবার সকালে হঠাৎ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, থানকুনি পাতা খেলে কারোনাভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। মুহূর্তেই এটি গ্রাম থেকে শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, রাজধানীর বাজারগুলোতে থানকুনি পাতা কেনার হিড়িক পড়ে যায়।

হু-হু করে দাম বাড়তে থাকে এটির। গতকাল (মঙ্গলবার) যে থানকুনি পাতার আঁটি ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল তা বুধবার সকালেই ২০০ টাকায় উঠে যায়। এরপরও অনেক বাজারে গিয়ে থানকুনি পাতার দেখা মেলেনি। রামপুরা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী জামাল বলেন, সকাল থেকেই গুঞ্জন শুনছি, থানকুনি পাতা খেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এরপর থেকে এটি কেনার হিড়িক পড়ে যায়।

গতকাল যে আঁটি ১০ টাকায় বিক্রি করেছি আজ তা ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তারপরও অনেক এসে নিতে পারেননি। তিনি বলেন, বাঙালি হুজুগে মাতাল। কখন কী রটে, কেউ জানে না। এছাড়া করোনাভাইরাস নিয়ে এখন সবাই আ’তঙ্কে। এ কারণে ১০ টাকার পাতা ২০০ টাকা হওয়ার পরও দেখতে দেখতে বিক্রি হয়ে গেছে। মালিবাগের ব্যবসায়ী হোছেন বলেন, গতকালও এক আঁটি থানকুনি পাতা ১০ টাকায় বিক্রি করেছি।

আজ আড়তে গিয়ে দেখি দাম বেড়ে গেছে। পরে শুনি করোনাভাইরাসের কারণে সবাই থানকুনি পাতা খাচ্ছেন। প্রায় ২০০ আঁটি থানকুনি পাতা এনেছিলাম। ২০০ টাকা আঁটি হওয়ার পরও সকালের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়। হাজিপাড়া বৌ-বাজার থেকে থানকুনি পাতা কেনা জুয়েল বলেন, গ্রামের বাড়ি থেকে মা ফোন করে থানকুনি পাতা চিবিয়ে খেতে বলেছেন। এতে নাকি করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

মায়ের কথা শুনে বাজারে এসে দেখি থানকুনি পাতার ব্যাপক দাম। এরপরও কিনলাম। উপকারে আসলে ভালো, না আসলে তো ক্ষতি নেই। কত টাকাই তো কতদিকে খরচ হয়! প্রা’ণঘাতি করোনাভাইরাসের ছোবল এখন বাংলাদেশেও। ইতোমধ্যে একজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ভাইরাসটি। আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১৪ জন। সারাবিশ্বে মৃ;;তের সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত দুই লাখের অধিক মানুষ।