১০ টাকার থানকুনি পাতা এক লাফে ২০০ টাকা!

থানকুনি পাতা খেলে কারোনাভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে— এমন গুঞ্জনে এক লাফে ১০ টাকার থানকুনি পাতার দাম ২০০ টাকায় উঠেছে। বুধবার সকালে হঠাৎ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, থানকুনি পাতা খেলে কারোনাভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। মুহূর্তেই এটি গ্রাম থেকে শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, রাজধানীর বাজারগুলোতে থানকুনি পাতা কেনার হিড়িক পড়ে যায়।

হু-হু করে দাম বাড়তে থাকে এটির। গতকাল (মঙ্গলবার) যে থানকুনি পাতার আঁটি ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল তা বুধবার সকালেই ২০০ টাকায় উঠে যায়। এরপরও অনেক বাজারে গিয়ে থানকুনি পাতার দেখা মেলেনি। রামপুরা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী জামাল বলেন, সকাল থেকেই গুঞ্জন শুনছি, থানকুনি পাতা খেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এরপর থেকে এটি কেনার হিড়িক পড়ে যায়।

গতকাল যে আঁটি ১০ টাকায় বিক্রি করেছি আজ তা ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তারপরও অনেক এসে নিতে পারেননি। তিনি বলেন, বাঙালি হুজুগে মাতাল। কখন কী রটে, কেউ জানে না। এছাড়া করোনাভাইরাস নিয়ে এখন সবাই আ’তঙ্কে। এ কারণে ১০ টাকার পাতা ২০০ টাকা হওয়ার পরও দেখতে দেখতে বিক্রি হয়ে গেছে। মালিবাগের ব্যবসায়ী হোছেন বলেন, গতকালও এক আঁটি থানকুনি পাতা ১০ টাকায় বিক্রি করেছি।

আজ আড়তে গিয়ে দেখি দাম বেড়ে গেছে। পরে শুনি করোনাভাইরাসের কারণে সবাই থানকুনি পাতা খাচ্ছেন। প্রায় ২০০ আঁটি থানকুনি পাতা এনেছিলাম। ২০০ টাকা আঁটি হওয়ার পরও সকালের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়। হাজিপাড়া বৌ-বাজার থেকে থানকুনি পাতা কেনা জুয়েল বলেন, গ্রামের বাড়ি থেকে মা ফোন করে থানকুনি পাতা চিবিয়ে খেতে বলেছেন। এতে নাকি করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

মায়ের কথা শুনে বাজারে এসে দেখি থানকুনি পাতার ব্যাপক দাম। এরপরও কিনলাম। উপকারে আসলে ভালো, না আসলে তো ক্ষতি নেই। কত টাকাই তো কতদিকে খরচ হয়! প্রা’ণঘাতি করোনাভাইরাসের ছোবল এখন বাংলাদেশেও। ইতোমধ্যে একজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ভাইরাসটি। আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১৪ জন। সারাবিশ্বে মৃ;;তের সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত দুই লাখের অধিক মানুষ।

স্বাভাবিকভাবে মানুষের মধ্যে এ ভাইরাস নিয়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা লোকসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম এক ব্যক্তি মা’রা গেছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এছাড়া নতুন আরও চার জন করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এনিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাড়ালো ১৪জনে।

করোনায় মৃ’ত ব্যক্তি সম্পর্কে তিনি আরও জানান, ওই ব্যক্তি কিডনি, হার্টসহ বিভিন্ন রোগেও ভুগছিলেন। গতকাল তার সম্পর্কেই বলা হয়েছিল যে, একজনের অবস্থা আ’শঙ্কাজনক।মা’রা যাওয়া ওই ব্যক্তি বিদেশফেরত আ’ক্রান্ত একজনের সংস্পর্শে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও জানান মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। মা’রা যাওয়া ওই ব্যক্তির লা’শ এখন কী করা হবে এমন এক প্রশ্নের জবাবে আইইডিসিআর পরিচালক জানান, তাকে কবরস্থ করা হবে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়ে প্রথম এক ব্যক্তির মৃ’ত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিভাগ।সত্তরোর্ধ এই ব্যক্তি বিদেশফেরত নন। অন্য একজন আ’ক্রান্তের সংস্পর্শে আসার কারণে তিনি সং’ক্রমিত হয়েছিলেন। তিনি নানা শারিরীক জটিলতায় ভুগছিলেন।তার কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ফুসফুসে সমস্যা এবং হা’র্টের অসুখ ছিল। হার্ট সমস্যার কারণে সম্প্রতি তার স্টেনটিং বা রিং পরানো হয়।তিনি গত কয়েকদিন হাসপাতালের আইসিইউতে ছিলেন।

এছাড়া নতুন চার জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।তাদের করোনাভাইরাসের উ’পসর্গ মৃদু হলেও অন্যান্য শা’রিরীক সমস্যা রয়েছে। একজন এর আগে স্ট্রোকও করেন। ৮ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। সেসময় তিনজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানায় আইইডিসিআর।এরপর ১৪ই মার্চ শনিবার রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরো দু’জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানান।

পরবর্তীতে সোমবার তিনজন এবং মঙ্গলবার আরো দু’জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়। আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয় আক্রান্তদের সবাই বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছিলেন।আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন করোনাভাইরাস আক্রান্ত কোনো দেশ থেকে বাংলাদেশে ফিরে এলে ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টিন করতেই হবে। সেই নির্দেশনা না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। বিস্তারিত আসছে:

দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা আরও দুইজন বেড়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মহাখালীতে করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে সোমবার পর্যন্ত আট জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ফ্লোরা।

বিশ্বব্যাপী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ হাজার ৮৮১ জন সুস্থ হয়েছেন। ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৪৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৯৫ হাজার ৫০২ জন। চিকিৎসাধীন ৮৯ হাজার ৩৩৯ জনের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন ৬ হাজার ১৬৩ জন।